নব্বই দশকের কবি , প্রাবন্ধিক । মহাসচিব- অনুপ্রাস জাতীয় কবি সংগঠন। বিভাগীয় সম্পাদক: অনুপ্রাস সাহিত্য পাতা -দৈনিক নব অভিযান, দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রা ও সাপ্তাহিক কালধারা। বার্তা সম্পাদক -দৈনিক হাতিয়া কণ্ঠ। বিশেষ প্রতিনিধি: শিরদাঁড়া। বাংলাদেশ প্রতিনিধি: মননস্রোত (ত্রিপুরা, ভারত)।
সভাপতি- বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান কবিতা পরিষদ।
সাবেক সভাপতি, বদরুন্নেসা কলেজ ও সাবেক সহ-সভাপতি, ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) ছাত্রলীগ।
সদস্য, হাসুমনির পাঠশালা।
বাবা -মো: আবদুল করিম। মাতা- আনোয়ারা বেগম। পড়াশুনা- এম.এ। জন্ম -২১ আগস্ট, ১৯৭৩, জেলা- লক্ষ্মীপুর, বাংলাদেশ।
বাংলা কবিতায় বিজ্ঞান যুগের সূচনা
পর্ব- ৩
বিজ্ঞানের মিশেলে লেখা কবিতার বই : কবি খোশনূরের ইচ্ছের ভাস্কর্য -২০১৬। কবি সামসুন্নাহার ফারুকের মনিটরে প্রিয়মুখ-২০১৪, আরক্তিম আবেগে বাসন্তী- ২০১৫, শ্যামসুন্দর সিকদার এর ‘মেঘে মেঘে বিজুলির চমক’, আতাউর রহমান কানন কাব্যগ্রন্থ -কবিতার ধ্রুবতারা (২০১৬), সানাউল্লাহ সাগরের গ্রন্থ সাইরেন-২০১৫, শিলা চৌধুরীর অদূরে বিপ্লব- (২০১৫), বাচিক শিল্পী নিপু শাহাদাত -এর হ্যালো এসএমএস ফ্রেন্ড-২০১৫ (অনুপ্রম প্রকাশনী)। কবি সাবিরা সুলতানার রোদের দিকে-২০১১, এছাড়া বইয়ের নামকরণ বিজ্ঞান এমন বই হচ্ছে- কবি সৈয়দুর রহমান লিটনের কাব্যগ্রন্থ নিউক্লিয়াস কবিতা-২০১৬, আসিফ মেহদী-এর ন্যানো প্রহর-২০১৬ ইত্যাদি।
প্রবন্ধ গ্রন্থ :- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর : বিশ্বপরিচয়, প্রকাশ- প্রথম প্রকাশ- কলকাতা-১৩৪৪ বঙ্গাব্দ। জগদীশ চন্দ্র বসুর : অব্যক্ত- প্রকাশ – আশ্বিন, ১৩২৮ বঙ্গাব্দ। বুদ্ধদেব ভট্টচার্য : বঙ্গসাহিত্যে বিজ্ঞান, প্রকাশ- কলকাতা ১৯৮০। আরজ আলী মাতুব্বর এর সরল ক্ষেত্রফল, সত্যের সন্ধান। অরূপরতন ভট্টাচার্য : বাঙালির বিজ্ঞান ভাবনা ও সাধনা, প্রকাশ- কলকাতা-২০০৬,। রামেন্দ্র সুন্দর ত্রিবেদী’র জিজ্ঞাসা, প্রকাশ -১৩১০ বঙ্গাব্দ, বিনয় ভূষণ রায় : উনিশ শতকের বাংলায় বিজ্ঞান সাধনা-কলকাতা-১৯৮৭। মজনু বৃদ্ধি বিশদ এর লেখা কবিতায় বিজ্ঞান ও সাহিত্য দর্শন এবং কবিতা। হাসনাইন সাজ্জাদীর বিজ্ঞান কবিতার রূপরেখা ও ‘জাপানে বঙ্গবিদ্যা ও বাংলাদেশের বিজ্ঞান কবিতা-২০১৬ । রীনা তালুকদার এর বিজ্ঞান কবিতার ভাবনা-২০১৪ ইত্যাদি।
প্রবন্ধ লিখেছেন- কবি ও বৈজ্ঞানিক’ গণিতজ্ঞ ও সাহিত্যিক কাজী মোতাহার হোসেন, ড. কুদরত-এ-খুদা, ড. আবদুল্লাহ আল মুতী , ড. আলী আসগর, বিনয় মজুমদারও লিখেছেন প্রবন্ধ। কবি আমিনুল ইসলাম চর্যাপদ পত্রিকার হেমন্ত-১৪২২ সংখ্যায় কবিদের বিজ্ঞান চেতনা প্রবন্ধ ইত্যাদি।
উপন্যাস : সেজান মাহমুদ এর ফেসবুকের বন্ধু- ২০১০, তুষার মানব- ১৯৯৪, দ্বীপ পাহাড়ে আতঙ্ক- ১৯৯২। কলকাতার অপূর্ব চৌধুরীর অণুকথা প্রথম ও দ্বিতীয় খন্ড-২০১৬, সুস্মিতা বেদনাথ -এর উপন্যাস- তবুও নেহা @y.com ইত্যাদি।
কথা সাহিত্য : ইমরান খান- এর ‘ধাতব সময়’। বাংলা সাহিত্যে প্রচুর কথা সাহিত্য রয়েছে বিজ্ঞান সমন্বয় করে লেখা। বিশ্বসাহিত্যের জগত বিখ্যাত বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং -এর মেয়ে ব্রিটিশ সাংবাদিক ও কথা সাহিত্যিক লুসি হকিং বিজ্ঞানকে জনপ্রিয় করতে সাহিত্য সৃষ্টি করেছেন। তিনি ২০০৭ সালে সিক্রেট কী টু দি ইউনিভার্স, ২০০৯ সালে প্রকাশ করেন-জর্জস কসমিক ট্রেজার হান্ট, ২০১১ সালে জর্জ অ্যান্ড দি বিগ ব্যাং, ২০১৪ সালে জর্জ এ্যান্ড দি আনব্রেকেবল কোর্ড প্রকাশ করেছেন।
বাংলা সায়েন্স ফিকশন : মুহম্মদ জাফর ইকবাল ঃ সায়েন্স ফিকশন সমগ্র, সেজান মাহমুদ : মানুষের মধ্যে মানুষ- ২০১৪, কসমিক সংগীত- ২০১৪, লীথী- ২০১২, আয়ুস্কাল ও ত্রিমিলার প্রেম- ২০১০ ইত্যাদি।
ছড়া গ্রন্থ : জগলুল হায়দারের আন্তনেটের ডটকম-২০০৫, সেজান মাহমুদ ঃ ছড়ায় ছড়ায় সায়েন্স ফিকশন-২০১০, ছড়া গ্রন্থ চেতনার ঢেউ-২০১১ ইত্যাদি।শিশুতোষ গ্রন্থ ঃ আখতারুল ইসলাম এর নীল গ্রহ লাল আকাশ- পঙ্খিরাজ প্রকাশিত -২০১৫ ইত্যাদি।
ম্যাগাজিন ও পত্র-পত্রিকার নামকরণে : বিকিরণ (সম্পাদক মোঃ হাবীবুর রহমান-চট্টগ্রাম), বিচ্ছুরণ (হাসনাইন সাজ্জাদী), কবিতার ছোট কাগজ- নিউক্লিয়াস, রকেট, কম্পিউটার জগত ইত্যাদি।
অলংকারিক বিন্যাসকে সমৃদ্ধ রেখে বিজ্ঞানকে সঠিক সমন্বয় করতে পারলে বিজ্ঞান কবিতার মধ্য দিয়ে মানুষের কাছে বিজ্ঞান আরো সহজ হয়ে ধরা দিবে। ইতোমধ্যে বিজ্ঞান কবিতা মানুষের আয়ত্বে এসে প্রিয় হয়ে ওঠার অপেক্ষায়। সেখানেই বিজ্ঞান কবিতার সার্থকতা নিহিত। কেননা বিহারী লাল চক্রবর্তী তথা ত্রিশের দশক থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বাংলা কবিতা একই বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে। এ কারণে এটি অবশ্যই বাংলা তথা বিশ্ব সাহিত্যে এক নতুন সংযোজন নিঃসন্দেহে। সব কাজের শুরুতেই বাধা আসে। তাই নান্দনিকতা ও বিজ্ঞানকে দু’ভাগ করে যে বিতর্ক জমে ওঠেছে। তার মুখোমুখি হতে বিজ্ঞানকে নান্দনিকতার প্রলেপ দিয়ে ভালোবাসার আচ্ছাদনে বিজ্ঞান কবিতার এখন সফলতায় সুখের দিন।
বিজ্ঞান কালক্রমে ২০০’র অধিক শাখা বিষয়ভিত্তিক ভাগ থেকে আরো ভিন্নরকম শাখায় বিভক্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে ও পড়ছে। অতি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশ নিয়ে বিজ্ঞান এখন বিভক্ত। মানুষের দৈনন্দিন চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে বিজ্ঞানও চলছে মানুষকে আরো উন্নতর সেবা প্রদান করার দিকে। ইউরোপীয় আদি কবি হোমার। গ্রীক পুরাণে ইলিয়ার্ড ও অডিসি হোমারের দেবত্ব কাহিনী। খ্রিষ্টীয় অষ্টম শতকের কবি হেসিওড এর ওয়ার্ক এন্ড ডে কাব্যগ্রন্থ প্রথম মানুষের চরিত্রকে উপজীব্য করে কাব্য রচনা করেন। ওয়ার্ডসওয়ার্থ ও কোলরিজ কবি ইমরুল কায়েসের কবিতাকে ইউরোপে রোমান্টিক কবিতা হিসাবে প্রচার করেন। টিএস ইলিয়ট কবিতা থেকে অলংকার মুক্ত করেন। ফরাসী কবি শার্ল বোদলেয়ার পরাবাস্তবতার কবিতাকে আধুনিক কবিতা হিসাবে জন্ম দেন। বাংলা চর্যাপদ, মঙ্গলকাব্য ও বৈষ্ণব সাহিত্য ধর্মমত। নাথ ও বৌদ্ধ সহজিয়া ধর্মগ্রন্থ অপভ্রংশ। আর রামায়ন, মহাভারত, বেদ ও পুরাণ ধর্মগ্রন্থ। রবীন্দ্রনাথ লালনের আধুনিক রূপ। বাংলায় পাঁচতারকা রবীন্দ্রনাথকে মুখোমুখি রেখে কবি টিএস ইলিয়ট আর কবি শার্ল বোদলেয়ার চর্চা করেন। কবি নজরুল ও সুকান্ত বিষয়ভিত্তিক ভাবে গণচেতনা নিয়ে কিছুটা অগ্রসর হয়েছেন। তারপর শুধু একই লেবু চিবিয়ে তিতা করে চিনি, গুড়, ক্রিম মেখে স্বাদ পরিবর্তনের চেষ্টাই চলছিল। অর্থাৎ একই খাবারে জাবর কাটা। কেউ কেউ মনে করেন কবিতা হচ্ছে জলরং বা তেল রং, গদ কবিতা হচ্ছে ফটোগ্রাফি, ছড়া হচ্ছে কার্টুন ছবি। কবি তার কবিতায় বিজ্ঞানের এসব অতি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র শাখাকে বিশ্লেষণ করে কবিতায় উপমা, রূপক, অনুপ্রাসসহ অলংকারের অপরাপর অনুষঙ্গ হিসাবে ব্যবহার করতে পারে। কালের ধারা বিবর্তনে সময়ের প্রয়োজনে বিদেশী ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় বিভিন্ন শব্দ সংযোজিত হয়েছে। আবার বিদেশী সাহিত্য থেকে বাংলা সাহিত্যের ছড়া ও কবিতা শাখায় নানা ধারার ছন্দ স্থান পেয়েছে। কবিতায় বিজ্ঞান বিষয়টা এখনো অনেকের কাছে স্পষ্ট নয়। বুঝেও না বুঝার ভান করেন কেউ কেউ, অনেকেই গোষ্ঠী বা ভাবনা কেন্দ্রিক ধারণায় অবজ্ঞার চোখে দেখেন। অনেকেই প্রশ্ন করেন বিজ্ঞান কবিতা কী ভাবে লিখবো ? অথবা কি কি উপকরণ থাকলে কবিতা বিজ্ঞান কবিতা বলে চিহ্নিত করা যাবে। অনেকেই ভ্রু কুঁচকে বলেন কবিতা আবার বিজ্ঞান হবে কিভাবে ? কবিতাতো নান্দনিক বিষয়। হ্যাঁ কবিতা নান্দনিকতো বটেই। মানুষ দেখতে যেমন সুন্দর তেমনি মানুষের অনুষঙ্গ হিসাবে অনেক যান্ত্রিক জিনিসের প্রয়োজন হয়। একথা অস্বাীকার করার কোনো যুক্তি নেই। পৃথিবীতে যত বেশী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়ন সাধিত হচ্ছে ততোই মানুষ যান্ত্রিক ব্যবস্থাপনার উপর নির্ভর করছে। সেজন্য মানুষের ব্যক্তি জীবন যাপনসহ যাবতীয় বিষয় এখন বিজ্ঞানভিত্তিক। কবিতা একটি বর্ণ নয়। বরং বর্ণ মিলে শব্দ এবং শব্দ মিলে বাক্যের সুশৃঙ্খল বিন্যাসিত রূপ। একা বর্ণ ও শব্দই কবিতা নয়। এর অনেক উপকরণ ও অনুষঙ্গ প্রয়োজন হয়। অনেক উপকরণের সমন্বয়েই একটা কবিতা ‘কবিতা’ হয়ে ওঠে। তারপর আবার গুণগত ভাল মন্দের প্রশ্নতো আছেই।
প্রসঙ্গত: আন্তর্জাতিক প্রেক্ষিতে বাংলা কবিতা বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-প্রকৃতি, ঋতুবৈচিত্রের রূপ, বাংলা ভাষায় বিভিন্ন অঞ্চলভিত্তিক আঞ্চলিক ভাষার বহুল ব্যবহার, ভাষা ও আঞ্চলিক সংস্কৃতি, লোক ঐতিহ্য, জলবায়ু, অষ্টিক জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন রকম শরীর ও মুখের রং বা চেহারার আকৃতি, আচরণগত পার্থক্য সেই সাথে বাংলা ভাষার শব্দের আবেদন চতুরমুখী হওয়ায় কবিতায় আবেদন ও মোহমায়া বা আবেগ বেশী। পাঠককে আচ্ছন্ন করতে সক্ষম। বর্হিবিশ্বের ভূ-প্রকৃতি, জীবনযাপন, আচরণ, ভাষা ও সংস্কৃতি দেশভিত্তিক। অনেক দেশের সংস্কৃতি ঐতিহ্য প্রায় মিল থাকায় এবং সমুদ্র, বরফ, আগ্নেয়গিরি, মরু অঞ্চল, ফুল-পাখির পাথর্ক্য আর আকাশ, নদী, বৃষ্টি-বাতাস, পাহাড়, বনভূমি, চাঁদ-তারা সারা বিশ্বেই এক রূপ। এসব তুলনা করলে বাংলা কবিতা বিশ্বে যে কোনো সাহিত্যের কাতারে দাঁড়াবার যথেষ্টই যোগ্য। বাংলা শব্দের অন্তর্মুখী-বর্হিমুখী ও চতুর্মুখী প্রকাশভঙ্গির কারণে বিজ্ঞান সমন্বয় খুব সহজ বলা যায় না। তারপরও এর সাফল্য হিসাবে অনেক কাব্যগ্রন্থ ও প্রবন্ধের বই প্রকাশিত হয়েছে এবং চলমান রয়েছে।