।। ত্রিতাপহারিণী ২০২০।। T3 শারদ সংখ্যায় সুপ্তশ্রী সোম

আত্ম পরিচয়

নীল সন্ধ্যাবেলায় আমার ভিতর থেকে আমি বেরিয়ে আসি
নির্জন দ্বীপের  অন্ধকার  ঢেউ হয়ে ঘিরে ধরে
যেন অচেনা যাত্রী পড়ে আছে বালির উপর , সংজ্ঞাহীন
চরাচর উদাসীন শুধু কৌতুহলী হাওয়া বয়ে যায় এপার ওপার
আকাশে মেঘের জাল তারারাও শান্ত নির্বিকার
ওরা বুঝি এরকম দ্যাখে রোজ।
বহুরূপী যাপনের পাপড়ি ঝরে পড়া
ত্বকের উপর চেপেবসা ,মুখোশের পর মুখোশ,  উজ্জ্বল আর ফিকে
উড়ে যায় শুকনো পাতার মতো এক এক করে
হালকা অন্ধকারে টবের গাছেরা  আমার পাতা ঝরা দ্যাখে অপলকে
অভিমুখ খুলে যাওয়া নদীর মতোই আমি নিজেকে ভাসিয়ে দিতে চেয়ে আকাশের মুখোমুখি হই
দুহাতে ছড়ানো ডানা ভর করে  উড়ে যেতে চাই আকাশের শেষে
কি এক আশ্চর্য্য মায়া আকাশ পাঠায় তখন বিন্দু বিন্দু করে
কপালের ভার ঝরে যায় শিশিরের মত টুপটাপ
মুখোশ হীন আমিকে চিনি দেখি নাড়ি চাড়ি
অন্ধ করোটির ভিতর বসে যাওয়া দাগে,
আমি কে এই প্রশ্ন ছুঁড়ে মারে তীব্র পাথর
যে বেরিয়ে আসে সে অচেনা আমার
আমি আমার কাছে  অনচ্ছ পর্দা হয়ে বাঁচি।

নাগরিক সন্ধ্যা

সূর্য্য অস্তগেলে সন্ধ্যের আকাশ থেকে নীল অন্ধকারের তাঁবু নামে
ঢেকে দেয় সহাস্য বিকেল
গোধূলির রঙিন আশ্বাস মুছে যায় রাতের গভীরে
শহরের চৌহদ্দি তখন নিয়ন আলোতে বিবসনা
সমস্ত আকাশ জুড়ে বোবা আশ্বাস তবু ভাসমান অটুট বুনোটে
তারাদের আলো আলোকবর্ষের হিসাবে ছুঁয়ে দেয় সন্ধ্যের আঙ্গুল
ঘুম থেকে জেগে উঠে অচিন দুঃখেরা সব সন্ধ্যার রাগে গান গায়
ঘরে ফেরবার কথা ভুলে গিয়ে ঝরে পড়া মায়া তুলে দিই পাখিদের ঠোঁটে
জ্যোৎস্নার হিমেল স্পর্শ হাত ধরে বন্ধুর মতোই।
শরীর জুড়ে এখন সে আলোর ই বসত জোনাকির ছিন্ন উড়ানে।
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।