শরীরের মানচিত্রে লেপ্টে আছে ব্যাকুলতা মাখানো আর্তস্বর
ঘৃণার ছায়াপথ জুড়ে হেঁটে চলেছে কেঁদে ওঠা জীবনের সারমর্ম
অগোছালো পৃষ্ঠায় ফণা তুলছে ঔদ্ধত্যের সাপ
যন্ত্রণায় কুঁকড়ে যাচ্ছে বিবেক
প্রতিদিন অভিশাপ নেমে আসে ঘৃণা সংকুল বারান্দায়
তবু ও পরাক্রমী যোদ্ধা সেজে সংসার সাজায় উপহাস জর্জরিত আহ্লাদে
শকুনেরা গাইছে সম্প্রতির গান
কঠিন সময় উঁকি মারে সভ্যতার মাঠে
ক্ষয়ের সমুদ্রে খেলা করে মৎসকন্যা
দেওয়ালে দেওয়ালে মানব ধ্বংসের বিজ্ঞাপন
চৈতন্যের দরজায় লকডাউনের হুঁশিয়ারি
সময়ের কোলাহলে মাতে যুদ্ধের অস্ত্র
যন্ত্রণারা বাজায় বাজনা
ইতিহাস লিখে রাখে অন্ধকারের সাম্রাজ্যকথা
গুলি বিনিময় হয় নির্বোধ রাস্তায়
রক্তাক্ত হয় অন্ধকারের লাশ
অসহ্য সময়
বিশ্বাসের শিকড় উপড়ে গেছে সহানুভূতির মাঠে
ভ্রান্ত পথিক
চেনা মানুষেরা খুঁজে অচেনা মুখ
শকুনেরা গায় সম্প্রতির গান
শিকড়
আত্মার গভীরে নেমে যেতে চাই শিকড়
আত্মিক প্রেমে মগ্ন উৎসবের বিষাদ কলশ
হয়তো বা গোড়া কেটে ডগায় জল ঢালার ব্যর্থ আয়োজন
নিয়ত পরাভুক্ আলোকলতা ঝিলিক মারে
সামন্ত শাসন জাঁকিয়ে বসেছে স্বপ্নের দুয়ারে
খাক্ হয়ে যায় অন্তর
বিভেদকামী সূর্য ঢলে পড়ে পশ্চিমে পরজীবী আহ্লাদে ভেসে চলেছে সর্বনাশ
ঈশ্বর নিয়ে সন্দেহ দানা বাঁধে
হয়তো বা ঈশ্বর মরে গেছে
না হয় হয়েছে চলৎশক্তিহীন
আলগা হয়েছে নিয়ন্ত্রণ
ইতিহাসের পাতা এমনি করেই ভরাট হয়
পৃথিবী পৃষ্ঠায় লেগে থাকে জন্মদাগ
প্রজন্মের পর প্রজন্ম দেখুক নিত্যনতুন গবেষণা,দড়ি টানাটানির আদিম কথা
শতাব্দীর ফসিলের লেগে আছে ঈশ্বরের ঘ্রাণ
সন্দেহের বশে সৃষ্টি কর্তার অমূলক মুন্ডুচ্ছেদ করি
অভিশপ্ত আত্মা সম্পর্কহীন পথে মুখ ঘষা খায়
অতৃপ্ত আবেদন হাহাকারে মগ্ন
আত্মা কেনাবেচা হয় মিথ্যে যাপনের হাটে
মূলত্রাণ মুচড়ে যায়
শিকড়ের বিষন্নতা অতৃপ্তির ঠোঁটে বন্দী
ভাঙা সিঁড়ির শরীর বেয়ে নেমে আসে অস্তিত্বের ফোঁটা ফোঁটা দীর্ঘশ্বাস