গুচ্ছকবিতায় উজ্জ্বল কুমার মল্লিক

হে জগন্নাথ!

এত ঐশ্বর্য, এত বৈভব
তোমার, হে জগতের-পতি!
শবর-সন্তান আজি দুঃস্থ
দুঃখী, লুটে-পুটে খায় দেখি
সেবাইত, যত ভেক-ধারী।
শবরের পুজ্য দেব তুমি,
ব্রাহ্মণ-ছলে করিল ভুল
শবরা-পতি, দেখায় পথ
তোমার গূঢ় জ্যোতির স্থিতি;
অনবদ্য, জ্যোতিঃপুঞ্জ রাশি।
হায়! নিঃশেষে তুমি আসিলে
ছাড়ি, তোমার নিজ সন্তানে
না করি ক্ষ মা, ক্ষত্রী-ব্রাহ্মণ
করে দখল পুজোর- স্বত্ব,
শবরেরে স্তোভ- বাক্য দানি।
আর-বার, এসো চক্রধারী,
সমূলে বিনাশী সব দর্পী;
আচার-বিহীন, সবাকার,
উচ্চ-নীচ ,নাহি ভেদ মানি,
হোক্ প্রতিষ্ঠা নাম তোমার:
বজ্র-গম্ভীর রবে রনিত
নীলাচলে, প্রভু জগন্নাথ।

সাদ্দামের আত্মা

সাদ্দামের প্রতিবাদ কান পেতে শোন
আকাশে-বাতাসে,আত্মার-ক্রন্দনধ্বনি
ভাসে, মার্জিত ইরাক মানব-সভ্যতা
বিধ্বংসী কোন অস্ত্র গড়েনি কখনও:
মিথ্যার আশ্রয়ে, চক্রান্তে করেছো হত্যা
সাদ্দামে; প্রকৃতি-হাতে বিচার এখন,
হও মৃত্যুর মুখোমুখি, হাজারে, লাখে:
সাদ্দাম- আত্মার মুক্তি, আল্লার বিচারে।
তোমরা সভ্যতা -বিনাশী থাকো মুখোশে
সদা, আত্মকেন্দ্রিক, জিঘাংসু মনোবৃত্তে,
লোলুপ দৃষ্টি হানো সর্বদা, অপরের
সম্পদ পানে;ছলে, বলে নানা কৌশলে
কর হত্যা দুর্বলে;আগ্রাসী মনোভাবে
লহ কাড়ি, কলঙ্ক প্রলেপী প্রতিপক্ষে।
Spread the love

You may also like...

error: Content is protected !!