সাপ্তাহিক ধারাবাহিক উপন্যাসে উজ্জ্বল কুমার মল্লিক (পর্ব – ২৪)

শহিদ ভগৎ সিং চরিত
সপ্তম অধ্যায় || প্রথম পর্ব
কাহিনীকার শুরু করেছে তার
শহিদ চরিতকথা; ছেলেরা তন্ময় হয়ে দেশের শহিদদের আত্মত্যাগের ছবি মনে এঁকে চলেছে। কাহিনীকার বলে চলেছে, “দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল, কংগ্রেসকে নিয়ন্ত্রন করছেন গান্ধীজি। কীভাবে, তিনি এই ক্ষমতার অধিকারী হলেন, কেই বা তাঁকে, দঃআফ্রিকা থেকে এদেশে এসে আন্দোলনের পুরোধা করলেন, তা নিয়ে যথাযত চর্চা হয়নি। তিনি তো দঃআফ্রিকা থাকা কালে, সত্যাগ্রহ করার সাথে, বুয়ার্স যুদ্ধ কালে, ইংরেজদের সহায়তা করার জন্য প্রশংসিত হন। ইংরেজদের সাহায্য করায়, তারা গান্ধীজিকে ‘Kaiser-E-Hind’ উপাধিতে ভূষিত করে।”
“19শে জুন 1915 সাল, তিনি, পাকাপোক্ত ভাবে এদেশে এলেন। তারপর—-। চৌরিচোরা ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি অসহযোগ আন্দোলন প্রত্যাহার করলেন। 1922 সালে, গান্ধীজির আহ্বানে সাড়া দিয়ে বেনারসের অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দিয়ে
‘গান্ধীজি কী জয়’ বলায়, চন্দ্র- শেখর আজাদ, পুলিশের লাঠির কী মারটাই না খেয়েছেন!, তারপর, মাঝপথে গান্ধীজির আন্দোলন প্রত্যাহারকে, দেশের যুব- সম্প্রদায় মোটেই ভালো চোখে দেখেনি; এটাকে দেশের প্রতি বিশ্বাস ঘাতকতাই বোধ করেছে। গান্ধীজি তো কখনও লাঠির বারি পরখ করেননি; মার খেয়েছে আম- জনতা; আর তিনি, জেলে গিয়েও
ছাগলের দুধ খেয়েছেন, বহাল তবিয়তে সমস্ত রকম সুযোগ উপভোগ করেছেন বললেও অত্যুক্তি হবে না। তবে কি ইংরেজদের সঙ্গে, তাঁর কোন গোপন বোঝাপড়া/ সমঝোতা?
বারডৌলিতে কৃষকেরা, প্রাকৃতিক দুর্যোগের পরিপ্রেক্ষিতে খাজনার
অস্বাভাবিক বৃদ্ধি প্রত্যাহারের জন্য সত্যাগ্রহ শুরু করতে চলেছে; গান্ধীজি, সরকারের কাছে খাজনা কমাবার জন্য আকুতি- ভরা আবেদন করলেন, কিন্তু, হায়! এ সরকার ওসব বোঝে না; আবেদনের কোন প্রভাব লক্ষিত হ’ল না। এর আগেও কৃষকেরা সত্যাগ্রহ করেছে 1917-18 সালে; গান্ধীজির আলাপ- আলোচনা উপেক্ষা করে, কেবলমাত্র নিজেদের সংঘবদ্ধতা ও দৃঢ়তায়
তারা সরকার বাধ্য করেছে মাথা নত করতে; গান্ধীজির কথা অমান্য করেই কৃষকেরা আন্দোলন চালিয়েছেন। অবশ্যই গান্ধীজির অবদান আছে, তিনি সাধারণ মধ্যবিত্তদের মধ্যে, যে এ আন্দোলন ছড়িয়ে দিয়েছেন, তা বলার অপেক্ষা রাখে না, এটুকু কৃতিত্ব তিনি পেতেই পারেন। “
“1923-24 সালে, গান্ধীজি রয়েছেন জেলে; গ্রামের চাষীরা, খাজনা বৃদ্ধির প্রতিবাদে আন্দোলন করে, ইংরেজ সরকারকে মাথা নত করতে বাধ্য করেছে, এতে, গান্ধীজির অবদান কোথায়! শ্রমিক- কৃষকের আন্দোলনে, গান্ধীজির ছিল প্রবল অনীহা। 19290 সালে, আমেদাবাদের কটন- শিল্পে, শ্রমিক- আন্দোলনে যে শিক্ষা তিনি পেয়েছিলেন, তারপর তিনি নিজেই বলেন, “We must not tamper with the labourers. It
is dangerous to make political use of the factory proletariat (The Hindu, May 1921) । বারডৌলির
(কংগ্রেস অধিবেশন, 1922) রেজোলিউশনেতে, কৃষক- সমাজের জাগরণে, কংগ্রেস- নেতাদের ভীত সন্ত্রস্ত ভাবটাই ফুটে উঠেছে। কৃষকেরা যে কেবলমাত্র বৃটিশ সরকারের বিরুদ্ধাচরণ করবে তাই নয়, দেশীয় জোতদার দেরও(land- Lord) কব্জায় থাকবে না। সুতরাং, শ্রমিক- কৃষক, ঘুমিয়েই থাক; ঐ সিংহদের জাগিয়ে তোলা উচিত নয়, অর্থাৎ কায়েমি- স্বার্থান্বেষীরা, নিজেদের স্বার্থে, গান্ধী- কংগ্রেসের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন; তারাও
বুঝতে পারছেন, ইংরেজ- সরকারের হাত গান্ধীজির মাথায় রয়েছে। “
চলবে