আল্লাদিয়া খানের পরেই জয়পুর আত্রাউলি ঘরানার প্রথম দুই নামকরা শিল্পি ছিলেন আল্লাদিয়া খানের দুই পুত্র ও ছাত্র মঞ্জি খান ও ভুর্জি খান। মঞ্জি ছিলেন তার মেজো ছেলে, তাই নাম মঞ্জি। অন্য দুই ভাই অসুস্থ হওয়ায় আল্লাদিয়া খান মঞ্জিকেই বেছে নিয়েছিলেন ঘরানাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য। মঞ্জি খানকে ঘরানার গায়কিতে পুরোপুরি শিক্ষা দিলেও মঞ্জি খান গোয়ালিয়র ঘরানার উস্তাদ রহিমত খানের গান শুনে মুগ্ধ হন এবং সেই স্টাইল অনুসরণ করতে থাকেন। আল্লাদিয়া খানের সঙ্গে এই নিয়ে প্রবল বিরোধের পর কিছুদিন মঞ্জি খান গান গাওয়া বন্ধ করে দেন। কিন্তু তার অনন্য স্টাইলের জন্য তিনি ততদিনে বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেন। সুতরাং আল্লাদিয়া খান মঞ্জি খানকে গান গাওয়ার অনুমতি দিতে বাধ্য হন। কিন্তু অল্পদিন পর অকালে মঞ্জি খানের মৃত্যু হয়।
বাধ্য হয়ে তখন আল্লাদিয়া খান তার তৃতীয় সন্তান অসুস্থ ভুর্জি খানকে গানের দীক্ষা দেন। অচিরেই তিনি আল্লাদিয়া ঘরানার স্টাইল অপূর্ব ভাবে কন্ঠে নিয়ে আসেন । আল্লাদিয়া খান বলতে বাধ্য হন যে তার পুত্র ও শিষ্যদের মধ্যে তিনিই শ্রেষ্ঠ! কিন্তু শিশু বয়সে মস্তিষ্কে আঘাতের ফলে, ভুর্জি খান কিছু মনে রাখতে পারতেন না। বন্দিশ গাইতে বসে ভুলে যেতেন প্রায়ই। একদিন রেগে গিয়ে আল্লাদিয়া খান তার হাত থেকে তানপুরা নিয়ে নেন ও তাঁকে শেখানো বন্ধ করেন! সেই অবস্থায়, কাকা হায়দর খান হতাশ না হয়ে তাঁকে শেখাতে থাকেন ও কিছুদিন পর তিনি কিছুটা সুস্থ হন। আল্লাদিয়া খানও আবার অনুতপ্ত হয়ে ভুর্জি খানের হাতে তানপুরা তুলে দেন। ভুর্জি খানের বিখ্যাততম শিষ্যদের মধ্যে আছেন মল্লিকার্জুন মনসুর। তিনি প্রথমে মঞ্জি খানের কাছে শিখলেও, তার মৃত্যুর পর ভুর্জি খানের কাছে শিক্ষা শুরু করেন। এ ছাড়াও এই ঘরানার অনেক বিখ্যাত শিল্পিই আল্লাদিয়া ঘরানার শিক্ষা পান ভুর্জি খানের কাছে। ১৯৫০ সালে দীর্ঘ রোগ ভোগের পর ভুর্জি খানের মৃত্যু হয়।
আল্লাদিয়া খান ও তার পুত্রগণ ছাড়া, জয়পুর আত্রাউলি ঘরানায় প্রথমেই যার নাম করতে হয়, তিনি হলেন কেসরবাঈ কেরকর। ১৮৯৫ সালে গোয়ার কাছে কেরি গ্রামে কেসরবাঈয়ের জন্ম হয়। আট বছর বয়সে তিনি কোলহাপুরে চলে আসেন এবং সেখানে উস্তাদ আবদুল করিম খানের সাথে তার দেখা হয়। দুজনে একসঙ্গে প্রায় আট মাস সঙ্গীত শিক্ষা করেন। এরপর তিনি গোয়া ফিরে আসেন ও বিভিন্ন গুরুর কাছে শিক্ষাগ্রহণ করতে থাকেন। সেই সময় দেশীয় রাজারা ক্রমে ব্রিটিশ শক্তির সামনে পরাভূত হচ্ছেন। তাঁদের তখন আর সঙ্গীতজ্ঞদের সভায় স্থান দেওয়ার ক্ষমতা নেই। মুম্বই অর্থাৎ বম্বে শহর বিখ্যাত বানিজ্যকেন্দ্র হিসাবে গড়ে উঠছে তখন। সঙ্গীতশিল্পিরা এই সময় বম্বেতে চলে যেতে শুরু করেন। মাত্র বারো বছর বয়সে কেসরবাঈ তার বোন ও মায়ের সঙ্গে বম্বে যান। সেখানে এক ধনী ব্যাবসায়ী, বিঠলদাস দ্বারকাদাস তাঁকে আশ্রয় দেন এবং সঙ্গীতশিক্ষা করার সুযোগ দেন। বিভিন্ন গুরু ঘুরে শেষ পর্যন্ত তিনি আল্লাদিয়া খানের কাছে পৌঁছন। তিনি তখন বম্বেতে। এরপর দীর্ঘ এগারো বছর কেসরবাঈ আল্লাদিয়া খানের কাছে জয়পুর ঘরানায় সঙ্গীতশিক্ষা করেন। কিছুদিনের মধ্যেই তার নাম ছড়িয়ে পড়ে এবং তিনি সেই সময়ের মহিলা খেয়াল শিল্পিদের মধ্যে অন্যতম প্রধান হিসাবে বড় বড় সমারোহে যেখানে বিশিষ্ট মানুষজন আসতেন, সেখানে গাইবার সুযোগ পেতেন। সেই অর্থে মেহফিলে বা বাঈজীর আসরে তিনি কখনো গান করেননি।
তিনি শুদ্ধ শাস্ত্রীয় সঙ্গীত গায়নে বিশ্বাস করতেন। অন্যান্য মহিলা শিল্পিদের মতো লঘু শাস্ত্রীয় সঙ্গীত তিনি একেবারেই করতে পছন্দ করতেন না। তিনি তার গানের বিশুদ্ধতা সম্পর্কে অত্যন্ত সচেতন ছিলেন। তাই একমাত্র এইচ এম ভি থেকে তার কয়েকটি ৭৮ আর পি এম রেকর্ড পাওয়া যায়, আর কিছুই নয়। ১৯৫৩ সালে তিনি সঙ্গীত নাটক আকাডেমী পুরস্কার পান, যেটি সঙ্গীতে উচ্চতম সম্মানগুলির মধ্যে প্রধান। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কেসরবাঈয়ের গান খুব পছন্দ করতেন। তিনি তাঁকে সুরশ্রী উপাধিতে ভূষিত করেন। তার সঙ্গে মঘুবাঈ কুর্দিকর, হীরাবাঈ বরোদেকর এবং গাঙ্গুবাঈ হাঙ্গল মহিলা শাস্ত্রীয়সঙ্গীত শিল্পি হিসাবে অত্যন্ত বিখ্যাত হন। ১৯৬৯ সালে কেসরবাঈ পদ্মভূষণ সম্মান পান। বর্তমানে তার স্মরণে গোয়াতে কেসরবাঈ সঙ্গীত সমারোহের আয়োজন করা হয় এবং মুম্বই ইউনিভার্সিটি প্রতি বছর তার সম্মানে কেসরবাঈ সঙ্গীত সম্মান বলে একটি স্কলারশিপ প্রদান করেন।
এবার বলি মল্লিকার্জুন মনসুরের কথা। মনে পড়ে মল্লিকার্জুন মনসুরের গান আমি প্রথম শুনি ডোভার লেন সঙ্গীত সম্মেলনে সম্ভবতঃ ১৯৯২ সালে। তাঁর তখন বিরানব্বই বছর বয়স। পৃথিবীজোড়া নাম শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের জগতে। কিন্তু আমরা সবাই ভাবছি এই বয়সে কি আর গাইতে পারবেন? হয়তো এসে বসে নানা কথাবার্তা বলে একটু আধটু সুর লাগিয়ে চলে যাবেন অথবা প্রচুর ছাত্রছাত্রীকে স্টেজে তুলে তাঁদের দিয়ে মূলত গাওয়াবেন। অনেকেই দেখলাম মধ্যরাত্রে হিমেল ঠান্ডা হাওয়ায় চা কফি খেতে বেরিয়ে গেলেন। কিছুক্ষণের মধ্যে মলিইকার্জুন মনসুরের নাম ঘোষিত হল, তাঁর গুরুদের নাম এবং কীর্তি ঘোষিত হল। এরপর ছোটখাট চেহারার এক বৃদ্ধ টানটান শিরদাঁড়া, ঘিয়ে রঙের পাঞ্জাবী ও ধুতি পরে স্টেজে এসে বসলেন। তাঁর মুখ লোলচর্ম, চোখে হাই পাওয়ারের চশমা। আমরা সবাই উসখুশ করছি, তানপুরা বাঁধা চলছে। এর মধ্যে তিনি ষড়জে সুর ধরলেন। সবাই চমকে উঠলেন! কী শক্তিশালী আওয়াজ, এই বয়সেও! তারপর ধরলেন তাঁর গলায় বিখ্যাত বন্দিশ শুদ্ধ নট রাগে “ঝনঝন ঝনঝন পায়েল বাজে” প্রায় পয়তাল্লিশ মিনিট টানা গাইলেন! রাগটি অত্যন্ত বিস্তৃতভাবে দেখালেন, নানা রাস্তা, নানা কাজ, ভাব, তারপর তাঁর বিখ্যাত বোলতান! ততক্ষণে হল মোহাবিষ্ট! যারা বাইরে চলে গেছিলেন, ফিরে এসেছেন ঐ আওয়াজের জাদুতে! তিনি এক অন্য যুগের গাইয়ে ছিলেন! সঙ্গীতের জন্য সেই সাধনা, সেই আত্মত্যাগ, সেই গুরুগৃহে পড়ে থাকা আজ কোথায়? ১৯১০ সালে কর্ণাটকের ধারওয়ারের কাছে মনসুর গ্রামে তাঁর জন্ম হয়। তাঁর গলায় অপূর্ব সুর শুনে তাঁর বাবা খুব ছোট বয়সে ঘুরে ঘুরে গান গেয়ে নাটক করতো যে কানাড়া নাটকের দল, যাকে যক্ষগান বলে, তাতে ছেলেকে ভর্তি করে দেন। সেখানে তাঁর গান শুনে মুগ্ধ হয়ে নাটকের পদকর্তা নানা ধরণের গান তাঁকে দিয়ে গাওয়াতেন। তেমনি এক সভায় তাঁর গান শুনে বিশিষ্ট কর্ণাটকী সঙ্গীতগুরু আপ্পায়াস্বামী তাঁকে দল থেকে তুলে নিয়ে যান এবং তাঁর কাছে মল্লিকার্জুনের সঙ্গীত শিক্ষা শুরু হয়। তিনিই আবার তাঁকে পরে মুম্বইতে আল্লাদিয়া খানের কাছে নিয়ে যান। এরপর এক দীর্ঘদিন মল্লিকার্জুন উস্তাদের ছেলে মঞ্জি ও ভুর্জি খানের কাছে জয়পুর আত্রাউলি ঘরানায় সঙ্গীতশিক্ষা করেন। তাঁর গানে এই ঘরানার প্রভাবই সবচেয়ে বেশী। নানা ধরণের অপ্রচলিত রাগ গাওয়ার জন্য তিনি বিখ্যাত ছিলেন। রাগের চলনে তিনি নানা ধরণের বৈচিত্র নিয়ে আসতেন, কিন্তু তাতে রাগরূপ কিছুমাত্র ক্ষুন্ন হতো না। তিনি এইচ এম ভির মিউসিক ডিরেকটর ছিলেন দীর্ঘদিন। তিনি পদ্মশ্রী, পদ্মভূষণ ও পদ্মবিভূষণ সম্মান লাভ করেন এবং সঙ্গীত নাটক আকাদেমীর ফেলো হন। সঙ্গীত নাটক আকাডেমী পুরস্কারও পান। তাঁর স্মৃতিতে তাঁর বাড়িটি আজ এক মিউসিয়ামে পরিণত। সেখানে তাঁর অসংখ্য অনুষ্ঠানের ছবি, গানের রেকর্ড, সিডি ইত্যাদি, পুরস্কারগুলি, তাঁর লেখা আত্মজীবনী ইত্যাদি সংগৃহীত আছে।
এবার দুই বিখ্যাত আধুনিক যুগের মহিলা শাস্ত্রীয় সঙ্গীত শিল্পি, জয়পুর ঘরানার সর্বপরিচিত ও অন্যতম জনপ্রিয় কিশোরী আমনকর ও অশ্বিনী ভিডে দেশপান্ডের কথা না বললে এই ঘরানার কথা শেষ করা যাবে না। এই ঘরানাকে খ্যাতির চূড়ায় নিয়ে গেছেন এই দুই শিল্পি। দেশে ও বিদেশে এই ঘরানার জয়জয়কার তাঁদের অন্যতম কীর্তি। দুজনের মধ্যে মিলগুলি আগে বলি। দুজনেরই বুনিয়াদ ও সঙ্গীতশিক্ষা তাঁদের মায়ের কাছে। দুজনের মা ই এই ঘরানার দুই ধারক ও বাহক। একজন মঘুবাঈ কুর্দিকর এবং অপরজন মাণিক ভিদে। দুজনেই গোটা ভারতে ও দেশের বাইরে অজস্র সঙ্গীত সম্মেলনে গান গেয়েছেন, কিশোরী আমনকর আমৃত্যু এবং অশ্বিনী ভিদে আজ পর্যন্ত গেয়ে চলেছেন। দুজনেরই অপূর্ব সঙ্গীত ধরা রয়েছে অসংখ্য অ্যালবামে ও সিডিতে। দুজনের গানই আমি বহুবার শুনেছি ডোভার লেন সঙ্গীত সম্মেলনে। কিশোরী আমনকরের গানে ভোর হয়েছে আর অশ্বিনী ভিদের গানে রাত গভীর হয়েছে কত! দুই শিল্পিই শুদ্ধ খেয়াল ছাড়াও লঘু শাস্ত্রীয় সঙ্গীত, যেমন ঠুংরি, ভজন ইত্যাদিতে পারদর্শী ছিলেন।
এবার বলি দুজনের পার্থক্যের কথা। কিশোরী আমনকর সারা জীবন শুধুই সঙ্গীতে নিবেদিতপ্রাণ তাপসী। কিন্তু অশ্বিনী ভিদে পড়াশুনাতেও অসাধারণ এবং মাইক্রোবায়োলজিতে মাস্টার্স ও ভাবা আটোমিক রিসার্চ থেকে বায়োকেমিস্ট্রিতে ডক্টরেট করেন ও গবেষক হিসাবে কর্মরত ছিলেন।
কিশোরী আমনকর কোন একটি ঘরানায় বিশ্বাস রাখতেন না। তিনি মায়ের কাছে জয়পুর ঘরানার গান শেখা ছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষকের কাছে আগ্রা ঘরানা, গোয়ালিয়র ঘরানা ও ভেন্ডিবাজার ঘরানার সঙ্গীত শিক্ষা করেন। ক্রমে তিনি জয়পুর ঘরানার সঙ্গে এই ঘরানাগুলির মিশ্রণে তাঁর নিজস্ব স্টাইল তৈরী করেন। তিনি বলতেন যে ঘরানা বলে কিছু হয় না। আসল হলো সঙ্গীত যা শ্রুতিমধুর হতে হবে। তাঁর গায়কীতে জয়পুরের বদ্ধ লয়কারী ও মেলডির জায়গায় বেশী দেখা যায় আবেগের প্রকাশ, মীড় ও সুরের গভীরে প্রবেশ। তিনি একাকীত্ব ও মনসংযোগে বিশ্বাস করতেন। অত্যন্ত খেয়ালী ও সম্মানসচেতন এই শিল্পিকে অনেকবার দেখেছি গান গাইতে বসে সুর লাগাতে অনেকখানি সময় নিতেন। কারণ তিনি নাকি গানের আগে একাকীত্ব পাননি ব্যাকস্টেজে। একবার তো ডোভার লেনে, শেষরাতে সবাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষায়। কিন্তু ললিত গাইতে গিয়ে নিজের লাগানো দুটি মধ্যম কিছুতেই তাঁর পছন্দ হলো না। শেষ অবধি তিনি গান না করেই চলে গেলেন। কিন্তু যেদিন তিনি মেজাজে গাইতেন সেদিন তিনি অনন্য। সেই গান যে একবার শুনেছে, সে ভুলবে না।
অপরপক্ষে, অশ্বিনী ভিদে হাসিখুশী সুন্দরী অত্যন্ত পরিশীলিত। বিশুদ্ধ জয়পুর আত্রাউলি ঘরানাদারী সঙ্গীত পরিবেশন করেন। বিশুদ্ধ খেয়াল ও পরিচিত রাগের সঙ্গে ঘরানার নতুন নতুন অপ্রচলিত রাগগুলি পরিবেশন করেন। তিনি তাঁর ঘরানার সঙ্গীতের ওপরেও যথেষ্ট গবেষণা করেছেন এবং হাভেলী সঙ্গীতের ধারা থেকে এমন এমন বন্দিশ তুলে এনে পরিবেশন করেন যে চমকে উঠতে হয়। মহারাষ্ট্রের লাওনি থেকে মারাঠি ও রাজস্থানী নানা গীত ও ভজন থেকে কী নেই তাঁর পরিবেশনায়? তিন সপ্তকব্যাপী অনায়াস সুরেলা বিচরণ তাঁর কন্ঠের! অসাধারণ বৈচিত্র তাঁর গানে। তিনি নিজে বহু বন্দিশ রচনা করেছেন এবং সেগুলি সম্বলিত বইপ্রকাশ করেছেন। মাণিক ভিদে ছাড়াও রত্নাকর পাই এর কাছে তিনি দীর্ঘদিন সঙ্গীতশিক্ষা করেন। ফলে জয়পুর ঘরানা ছাড়াও তাঁর গানে মেওয়াটি ও পাতিয়ালা ঘরানার অল্প প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। কিন্তু জয়পুর ঘরানার লয়কারী ও বোল ও সরগম তান তাঁর গায়কীর বৈশিষ্ট।
কিশোরী আমনকর পদ্মবিভূষণ ও সঙ্গীত নাটক অ্যাকাডেমী পুরস্কার ল্যাভ করেন। অপরপক্ষে অশ্বিনী ভিদে দেশপান্ডে পন্ডিত জশরাজ গৌরব পুরস্কার, কুমার গন্ধর্ব সম্মান ও জাতীয় পুরস্কার পান। তিনি পৃথিবীর বিভিন্ন নামকরা সম্মানীয় হলগুলিতে, যেমন আগা খান মিউসিয়াম টরন্টো এবং রাগমালা মিউসিক সোসাইটি হলে সঙ্গীত পরিবেশন করেন।
কিশোরী আমনকর বেশ কয়েকটি সিনেমায় প্লে ব্যাক করেন যেমন গীত গায়া পাত্থরোঁ নে এবং দৃষ্টি, কিন্তু অশ্বিনী ভিদে সিনেমায় সঙ্গীত পরিবেশন করেননি। তবে তিনি সঞ্জীব অভয়ঙ্করের সাথে অনেকগুলি জায়গায় ঘুরে জশরাজ যুগলবন্দী কন্সার্টে লঘু শাস্ত্রীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেন।
কিশোরী আমনকর প্রণম্য শিল্পি কিন্তু তাঁর গাইবার স্টাইল এবং মেজাজি পরিবেশনার সঙ্গে আমি একাত্ম হতে পারিনি অপরপক্ষে অশ্বিনী ভিদের পরিবেশন আমার অসম্ভব সমৃদ্ধ বলে মনে হয়েছে। তিনি আমার অন্যতম প্রিয় মার্গসঙ্গীত শিল্পি তিনি যার পরিবেশনা থেকে প্রতিনিয়ত অনেক কিছু শিখি। হল থেকে বেরোনোর পরও বহুক্ষণ গুণগুণ করতে ইচ্ছা হয় তাঁর অপূর্ব বন্দিশ ও অজানা নানা বিচিত্র গানগুলি! তাঁর কন্ঠের গুণে সেগুলি অনন্য হয়ে ওঠে।