কবিতা সিরিজে তুলসী কর্মকার

১। ভোগবিলাস

আমি চেয়েছি এমন একটি বউ যার মন খুব নরম শরীর হৃষ্টপুষ্ট হবে
আমার সাথে যে কোন কারণে ঝগড়া করবে না
নতুন নতুন বান্ধবীদের ঘরে আনবে
আমার ইচ্ছেকে প্রাধান্য দিতে দিতে আমাকে জানবে চিনবে
নিরঙ্কুশ স্বাধীনতা আমার থাকবে
সংসার হবে গোছানো
শ্বশুর শাশুড়ী অনান্য ঝঞ্ঝাট সামাল দেবেন
আমার প্রথমেরটি ছেলে দ্বিতীয়টি মেয়ে
অথবা উল্টোটি হলেও চলবে
ছেলেটি তিন বছর থেকে গড়গড় করে ইংরেজি বলবে
মেয়েটি খালি গলায় রবীন্দ্র সংগীত হাঁকাবে
মায়ের পেনশন বাবার জমিদারি আমার হাতে থাকবে
মা থাকবে ধর্ম্মকে আঁকড়ে ধরে হরিমঞ্চে বসে
বউ আমাকে নিত্যনতুন খাবারে সন্ধান দিবে
আমি শরৎ হেমন্ত বসন্ত মেজাজে ঠান্ডা গরম বর্ষাকে ছুঁয়ে দেখব

২। কাললেখক

ঘড়ির একটা সাধারণ ঘূর্ণন আছে চলন গমন আছে
অন্তর্ভুক্ত চক্রপথ অতিক্রমের পর কৃতকাজ শূন্য হয়
সূচক নির্দিষ্ট মেয়াদে ক্লান্তিহীন পথ অবলম্বন করে
ফাঁকে ফাঁকে ছোট ছোট স্পেলে সময়কে পরিমাপ করে
ব্যবহার যোগ্য করে অনেক কিছু
বিকেল চারটায় প্রেমিকার মুখ
রাত সাড়ে তিনটায় নিরঙ্কুশ সোহাগ
বেলা একটায় লাঞ্চ করার ইচ্ছা
রাত দেড়টায় গা ছমছম ইত্যাদি
কোন এক আবদ্ধ ঘরে ঠিক কতটা ঘুম ছিল
বাইরে পরিস্থিতি এখন কেমন
কতটা সুস্পষ্ট ভায়োলেন্স অপেক্ষা করে আছে
ঘড়ি দিকে তাকিয়ে অনুমান করা যায়
কাঁটা কখন শ্লথ হবে নির্ভর করে দম বা চার্জে
মানুষ ঘড়ি দেখেন সময়মতো দম দেন ব্যাটারি পাল্টান
জৈব অজৈব ইত্যাদি এবং শক্তিরা মানুষকে দেখেন

৩। আহ্লাদ

ময়দায় জল মিশে প্রস্তুত হল লেই
মা লেচি কাটে
হাল্কা তালে দুলতে দুলতে
বেলুনি দিয়ে চাকিতে চ্যাপ্টা গোল
ছাড়া হয় গরম তেলে
তেলের স্পর্শে লুচি ফুলে
আমি অবাক
হাওয়া আমার ভেতরে আছে

৪। আগ্নেয়গিরি

পাহাড়টি সারাদিন দাঁড়িয়ে আছে
একই রকম খাড়া
ভালো লাগতে লাগতে বিরক্তিবোধ
সেই এক প্রেক্ষাপট
আর কতক্ষণ
হে পাহাড় মাথা নত কর
তুমি নরম হও
তুমি লেদকে যাও
বের করে দাও লাভা
তবে আনন্দ তবে সুখ
অনথায় তুমি ধর্ষক
কালো সভ্যতার মালিক……..

৫। ব্যবচ্ছেদ

গাছ বোঝে কখন কীভাবে খাড়া হতে হয়
কোনদিকে হেল ধরে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা যায়
অনেক গাছ টাল সামলাতে পারে না
শিগগির পড়ে যায়
গাছ আলোর মুখে যাত্রা করে
নরম রোদ ধরে খায়
সিয়ানা গাছ আলোর বিপরীতে ডাল ছাড়ে
কিছু গাছ খুব ছোট
অনেক গাছ দাঁড়াতে পারে না
কিছু গাছ গাছে ঠেস দিয়ে জীবন কাটিয়ে যায়
Spread the love

You may also like...

error: Content is protected !!