গল্পেরা জোনাকি তে তুষার আহাসান

 সিদ্ধি

-অ‍্যাই,হেট-হেট-হ‍্যাট!
ধ‍্যানমগ্ন দুই সাধু পরস্পরের দিকে তাকাল।
ভীমমারী মহাশ্মশান।দিনের আলোয় যেখানে একলা মানুষ যেতে ভয় করে।দুই সাধু তখন সাধনরত।অমাবশ‍্যার গহীন অন্ধকারে।
গুরুজীর নির্দেশ ভুলে তারা দুজনে উঠলো।ছুটলো।ফিরেও দেখল না মড়ার খুলিতে খই ফুটছে।
ছুটতে ছুটতে দুজনেই রাস্তায়।সেখানে এক পাল গরু ডাকিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বাথানের রাখাল।
গরুর পালে পথ পাচ্ছে না দুই সাধু।হুমড়ি খেয়ে পড়ে।
বাথানের রাখাল তাদের-অ‍্যাই হেট-হেট-হ‍্যাট থামিয়ে দিয়েছে।
ছুটে এসে সটা-সট কয় বাড়ি।
দুজনেই ভাবল,আর একটু থামলে আমাদের সিদ্ধি হয়ে যেত।
রাখাল যত মারে ওরা তত বলে,মার-মার যত মারবি তত সিদ্ধি।
রাখাল এতক্ষণ নিশ্চিত ছিল না,ওদের অপরাধ ঠিক কী।
এখন বুঝল এই গরু চুরি করে হাটে বিক্রি করে সিদ্ধি খাওয়ার ধান্দা ওদের। হাতের পাঁচন চালাতে-চালাতে বলল-সিদ্ধি কিরে মদ-গাঁজা সব পাবি জেহেলে।
পাঁচনের ঘায়ে দুজনেই লুটিয়ে পড়ল পথে। চলমান গরুর পালের ক্ষুরের ঘায়ে দুজনেই ক্ষতবিক্ষত।পথের ধূলো ভিজে
যায়।
ওরা শুনল শ্মশানে ওদের গুরুদেব হাঁক ছাড়ছে,কই তোরা আয়,সিদ্ধি খেয়ে যা।

Spread the love

You may also like...

error: Content is protected !!