“এই শ্রাবণে আষাঢ়ে গপ্পো” বিশেষ সংখ্যায় সিদ্ধার্থ সিংহ

এর পরে কী

পুকুরঘাটে সবিতাকে কাপড় কাচতে দেখে রুক্মিণীর মাথার মধ্যে কী যেন একটা খেলে গেল। একটু আগেই ও দেখেছে, সবিতার স্বামীকে বেরিয়ে যেতে। ওদের সংসার বলতে তো টোনা আর টুনি। তার মানে ওদের বাচ্চাটা এখন একা। এ দিক ও দিক তাকিয়ে ঝট করে ওদের বাড়ি পেছন দিকে চলে গেল রুক্মিণী। এ দিকটা কেউ খুব একটা আসে না। আগাছায় ভরে আছে। একটু হলেই দেওয়ালে হেলান দিয়ে রাখা বাঁশের মইটাতে হোঁচট খাচ্ছিল সে। আগে এটা একতলা বাড়ি ছিল। ঢালাই ছাদ। পরে সেই ছাদ জুড়ে বিশাল একটা ঘর করে ওরা। সেই ঘর এখনও প্লাস্টার হয়নি। জানালাগুলোয় কপাট লাগানো হয়নি। কোনও রকমে অ্যাসবেস্টাস চাপানো হয়েছে উপরে। সেখানে এই মই বেয়ে উঠে শুধু ওর স্বামীই নয়, সবিতাকেও মাঝে মাঝে মাখম সিম, কুমড়ো, এটা ওটা সেটা পাড়তে দেখে গা জ্বলে যেত রুক্মিণীর। তাই একদিন এ ভাবেই চুপিচুপি এসে কুমড়ো আর মাখম গাছের কাণ্ডটা ধরে এক হ্যাঁচকায় টান মেরে গোড়া থেকে উপড়ে ফেলেছিল সে। তিন দিন পর টের পেয়ে হাউমাউ করে কেঁদে উঠেছিল সবিতা— এমন ফলন্ত গাছ তুলে ফেলল কে?
তার পর থেকে ওরা আর এখানে কিছুই লাগায়নি। তবু মইখানা একই ভাবে রয়ে গেছে। এক্ষুনি পায়ে বেঁধে পড়ছিল আর কী। গজগজ করতে করতে জানালা দিয়ে উঁকি মেরে সে দেখল, ওদের বছর তিনেকের ছেলেটা মেঝেতে বসে খেলা করছে। সামনে একগাদা খেলনা ছড়ানো-ছেটানো। ওর বরের স্টেশনারির দোকান। প্রতিদিনই এই সময় যায়। ও চলে গেলে সবিতা রোজই ছেলেকে কতগুলো খেলনা দিয়ে বসিয়ে এটা ওটা করে। ঘরটার এক কোণে রান্না হয়। রুক্মিণী হঠাৎ দেখল,  উনুনের উপরে একটা হাঁড়ি বাসানো। ও আগেও তাই করত। যখন তাদের হাঁড়ি আলাদা হয়নি। শ্বশুরের দোকান মাঝ-বরাবর ভাগ করে ওরা স্টেশনারি আর তারা মুদিখানা দোকান করেনি। শ্বশুড়ের কিনে রাখা এই জমি ভাগ হয়নি। ভাগ হওয়ার পরেও দুই ভাইয়ের মধ্যে এমন রেষারেষি শুরু হয়নি। তাদের এই রেষারেষির জের ছড়িয়ে পড়েনি তাদের দুই বউয়ের মধ্যে। কেউ কারও ক্ষতি করার জন্য এমন উঠেপড়ে লাগেনি। সেই সময় তারা একসঙ্গেই ছিল। রুক্মিণী জানে, এই ভাবে হাঁড়িতে জল চাপিয়ে ও ঘরের অন্য কাজ করতে চলে যায়। তার পর যখন খেয়াল হয়, তখন এসে চাল দেয়। সেই জল নিশ্চয়ই টগবগ করে ফুটছে। না হলে হাঁড়ির ঢাকনাটা মাঝে মাঝেই ও ভাবে লাফিয়ে লাফিয়ে উঠছে কেন!
এ দিকে ও দিকে তাকিয়ে ময়লা ফেলার পেছন দরজা দিয়ে ওদের বাড়িতে ঢুকে পড়ল রুক্মিণী। কাপড়ের আঁচল দিয়ে হাঁড়ি দু’কাঁধ ধরে কোনও রকমে বাচ্চাটার সামনে নামিয়েই, যে খেলনাটা  নিয়ে ও খেলছিল, সেটা হাত থেকে কেড়ে ফুটন্ত হাঁড়িতে ফেলেই নিমিষের মধ্যে উধাও।
খেলনা নেওয়ার জন্য বাচ্চাটা হামাগুড়ি দিয়ে কাছে গিয়ে হাঁড়িটার কাঁধ ধরে উঠতে যেতেই গোটা হাঁড়িটা কাত হয়ে তার গায়ে পড়ে গেল। ছেলেটা চিৎকার করে উঠল।
ওর মা পুকুরঘাট থেকে সেই চিৎকার শুনে ছুটে এল। ওই দৃশ্য দেখে সে একেবারে আর্তনাদ করে উঠল। কে করল এমন সর্বনাশ! দৌড়ে বাচ্চাটাকে কোলে নিতে গিয়ে ছেলের গায়ে জবজব করা ফুটন্ত জলের ছেঁকায় তার হাতেও ফোসকা পড়ে গেল। চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে ততক্ষণে আশপাশের লোকেরা ছুটে এসেছে। এ বউ বলছে, বড়দের সঙ্গে বড়দের ঝগড়া, সেই ঝাল কেউ বাচ্চাদের উপর দিয়ে মেটায়? এটা নিশ্চয়ই ওদের কাজ। ও বউ বলছে, যত শত্রুই হোক, এটা কোনও মানুষ করতে পারে? সে বউ বলছে, আগে ওদের হাসপাতালে নিয়ে চলো।
ডাক্তার ব্যস্ত হয়ে পড়লেন বাচ্চাটির মাকে নিয়ে। তার হাতে অনেকটা ফোসকা পড়ে গেছে। সবিতা যত বলছে, আমার তো শুধু হাত পুড়েছে, আমাকে পরে দেখলেও হবে। আগে বাচ্চাটিকে দেখুন। কিন্তু কে শোনে কার কথা! বাচ্চাটিকে নার্সদের কাছে দিয়ে উনি ব্যস্ত হয়ে পড়লেন তাকে নিয়ে। খবর পেয়ে দোকান থেকে ছুটে এল বাচ্চাটির বাবা। তারও এক কথা, বাচ্চাটি কেমন আছে?
ওর মায়ের শুশ্রূষা করে বাচ্চাটিকে যখন ভিতর থেকে ডাক্তারবাবু নিয়ে এলেন, বাচ্চাটি তখন ঘুমোচ্ছে। তার গায়ে ফুটন্ত জল পড়া তো দূরের কথা, উষ্ণ জল পড়ারও কোনও চিহ্ন নেই। ওর মা অবাক। বাবাও অবাক। যে ক’জন পাড়া-প্রতিবেশী গিয়েছিল, তারাওঅবাক। সব শুনে ডাক্তারবাবু বললেন, ওইটুকু বাচ্চার গায়ে যদি ফুটন্ত জল পড়ত, তা হলে ওকে আর দেখতে হত না।
ডাক্তারবাবুর কথা শুনে সবিতার স্বামীও বলল, সত্যিই তো, ওর গায়ে পড়া গরম জল লেগে তোমার হাতের যদি এই অবস্থা হয়, তা হলে সেই জলে ওর কী হবার কথা একবার ভাবো তো… কিন্তু সে রকম কিছু হয়েছে কী? আমার তো মনে হয়, তুমি নিশ্চয়ই ভুল দেখেছ।
সবিতা ওর বরকে কিছুতেই বোঝাতে পারল না, ও ভুল দেখেনি। সে না পারুক, সেটা নিয়ে ও অত চিন্তিত নয়। ও চিন্তিত, এটা কে করল, সেটা নিয়ে। তার স্পষ্ট মনে আছে, হাঁড়িটা সে উনুনে চাপিয়ে গিয়েছিল। তা হলে নামাল কে! তা হলে কি কেউ তক্কে তক্কে ছিল! না, একবার যখন এই কাণ্ড হয়েছে, ছেলেকে আর একতলায় রাখা যাবে না। আশপাশে প্রচুর শত্রু তার। বাইরের শত্রু হলে লড়া যায়, কিন্তু ঘরের শত্রুর সঙ্গে সে লড়বে কেমন করে? দেড় হাত জমি নিয়ে দেওরের সঙ্গে তাদের যে বিরোধ, তা নিয়ে পঞ্চায়েত বসেছিল। থানা-পুলিশও হয়েছিল। তবে কি সে তার স্বামীকে সেটা ছেড়ে দিতে বলবে?
এই সব সাত-পাঁচ যেমন ও ভাবছে, তেমনি ওই ঘটনার পরে যথেষ্ট সতর্ক হয়েছে সে। বাচ্চাকে সে আর একতলায় রাখে না। এমন ম্যানিয়া হয়েছে যে, স্বামী-স্ত্রী দু’জনে বাড়ি থাকলেও দোতলার ঘরের খাটের উপরে ছেলেকে খেলনা দিয়ে বসিয়ে রাখে। দেওয়াল থেকে খাটটা হাতঅনেক দূরে। ফলে একদম খোলা হলেও জানালা দিয়ে পড়ে যাওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই ওর। সবিতা নিশ্চিন্ত।
সে দিন রান্না করছিল সবিতা। জানালা দিয়ে উঁকি মেরে রুক্মিণী তাকে আনাজ কাটতে দেখে দোতলার যে-ঘরে বাচ্চাটা থাকে, ওদের বাড়ির পেছন দিকে দেওয়ালে হেলান দিয়ে রাখা মইটাকে সেই ঘরের জানালা বরাবর লাগিয়ে, পা টিপে টিপে উঠে পড়ল ও। তার পর জানালা দিয়ে মুখ বাড়িয়ে ইশারা করে ডাকতেই, খেলাটা-টেলনা ফেলে বাচ্চাটা একেবারে খাটের ধারে চলে এল। খাটটাকে যে কেন এরা দেওয়াল থেকে এত দূরে পেতেছে, কে জানে! ঝুঁকেটুকে কোনও রকমে ছেলেটাকে নাগালে পেয়েই হাত ধরে এক হ্যাঁচকা টান মারল সে। হুমড়ি খেয়ে বাচ্চাটা শাঁ করে জানালা দিয়ে বেরিয়ে আসতেই, টাল সামলাতে না পেরে নিজেও পড়ে গেল মই সুদ্ধ।
ধপাস করে কী একটা পড়ার শব্দ শুনে ময়লা ফেলার পেছনের দরজা দিয়ে বেরিয়ে সবিতা দেখে, তার ছেলে মাটিতে বসে ঘাস ছিঁড়ছে। আশপাশে কেউ নেই। রুক্মিণী ততক্ষণে পড়ি কি মরি করে পালিয়েছে। সবিতা বুঝতে পারল না, তার ছেলেকে দোতলার ঘর থেকে কোলে করে এনে কে এখানে বসিয়ে রেখে গেল!
রুক্মিণীর কোমরে মলম মালিশ করতে করতে রুক্মিণীর বর বলল, তোমাকে দিয়ে কোনও কাজ হবে না। ওইটুকু একটা বাচ্চা, তাকে শায়েস্তা করতে পারো না?
মুখ ঝামটা দিয়ে উঠল রুক্মিণী— আমাকে কি ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবে? আমি যে আর পারছি না!
দুপুরে যখন বর খেতে এল, তাকে বলতে যেতেই সে বলল, রাখো তো তোমার যত সব আজগুবি কথা। ওই ঘটনার পর থেকে তো সব সময় ভিতর দিয়ে ছিটকিনি দিয়ে রাখো। বাইরে থেকে ছিটকিনি খুলে কে তোমার ছেলেকে কোলে করে বাইরে রাখতে যাবে, শুনি?
কথাটা শুনে চমকিত হল সে। সত্যিই তো, তখনই বাচ্চাকে নিয়ে বাড়ি ঢুকতে গিয়ে দেখেছিল, সদর দরজাটা ভেতর থেকে বন্ধ। তা হলে! ও বাইরে গেল কী করে! তবে কি… ও যেখানে বসে ঘাস ছিঁড়ছিল, তার ঠিক উপরেই ছিল দোতলার ওই জানালাটা। তা হলে কি ওই জানালা দিয়ে ও পড়ে গিয়েছিল! তা হলে-টাহলে নয়, ও নিশ্চয়ই ওই ভাবে পড়েছিল। কিন্তু সেটা ও আর ওর বরকে বলতে পারল না। ওর বর তখনও বলে চলেছে— ওদের ওপর তোমার রাগ আছে জানি। রাগ হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু তা বলে ওদের ওপর আমাকে বিষিয়ে তোলার জন্য বানিয়ে বানিয়ে এ সব কথা একদম বোলো না।
সবিতা কী করবে বুঝে উঠতে পারছে না। বরকে দিয়ে ইতিমধ্যে দোতলার জানালায় গ্রিল লাগিয়ে নিয়েছে। যতক্ষণ বাড়িতে থাকে, বেশির ভাগ সময় ছেলেকে চোখে-চোখেই রাখে। সে দিন বারসুচ দিয়ে কাঁথা সেলাই করতে করতে একটু উঠেছে,এসে দেখে, সেই সুচ নিয়ে তার ছেলে নিজের দুই আঙুলের মধ্যে দিয়ে ঢুকিয়ে এর মধ্যেই দু’-দুটো ফোঁড় দিয়ে দিয়েছে, কিন্তু কোনও রক্ত বেরোচ্ছে না।
ছেলের কাণ্ড দেখে আঁতকে উঠল সে। কিন্তু সেই ছেলে তার মাকে দেখে ফিক করে হেসে উঠল। এটা দেখলে তার বর কী বলবে! সে সঙ্গে সঙ্গে ছেলেকে কোলে তুলে দরজায় তালা লাগিয়ে দৌড়তে লাগল বরের দোকানের দিকে।
দোকানটা খুব একটা দূরে নয়। ছেলের অবস্থা দেখে সবিতার স্বামী একেবারে বাকরুদ্ধ। যে দু’- চার জন খরিদ্দার ছিল, তারা কিনবে কী? ভিড় করে দেখতে লাগল বাচ্চাটাকে। তাদের মুখে মুখেই  খবরটা ছড়িয়ে পড়ল সারা গ্রামে। গ্রাম থেকে গ্রামের বাইরে। বাজারে। হাটে। বাসে। ধাবায়। চটিতে। সেখান থেকে শহরে। খবরের কাগজে। টিভি চ্যানেলের দফতরে দফতরে। ভাইরাল হয়ে গেল ফেসবুক, টুইটার, ইন্টাগ্রামে।
সবাই এক্সক্লুসিভ খবর দেখাতে লাগল। ছুটে এল বিজ্ঞানমঞ্চের ছেলেরা। ছুটে এল চিকিৎসকের দল। একটি চ্যানেল বাচ্চা-সহ তার বাবা-মাকে প্রায় কিডন্যাপ করে তুলে নিয়ে গেল তাদের স্টুডিওয়। সরাসরি সম্প্রচার করতে লাগল তারা। ফোন ইন প্রোগ্রাম।
লোকেরা হুমড়ি খেয়ে দেখতে লাগল সেই কাণ্ড। হু হু করে বাড়তে লাগল সেই চ্যানেলের টি আর পি। সঞ্চালক মেয়েটি সবিতাকে বললেন, বাচ্চাটির আঙুলে পিন ফুটিয়ে তাদের দর্শকদের দেখানোর জন্য। সঙ্গে সঙ্গে সবিতা তার ব্লাউজের ভেতর থেকে একটি সেফটি-পিন বের করে বাচ্চাটির আঙুলে ফোটাতে না-ফোটাতেই বাচ্চাটি চিৎকার করে উঠল।
বোঝা গেল, বাচ্চাটির লাগছে। সবাই অবাক। এই সেফটি-পিনের সামান্য খোঁচায় যদি তার এত লাগে, তা হলে সে অত বড় সুচ নিজের আঙুলে একের পর এক ফোঁড় দিয়ে হাসছিল কী করে!
সঞ্চালিকা বললেন, আপনি তো বলেছিলেন কে বা কারা ওকে দোতলার খোলা জানালা দিয়ে ফেলে দিয়েছিল, আপনি ওকে টেবিলে বসিয়ে একটু ধাক্কা দিয়ে নীচে ফেলে দেখান তো…
সবিতা তার বাচ্চাকে আলতো করে একটু ঠেলা দিতেই সে নীচে পড়ে গেল। আর এমন বেকায়দায় পড়ল যে, সঙ্গে সঙ্গে কপাল ফুলে আলু। মুহূর্তের মধ্যে কে যেন এক টুকরো বরফ নিয়ে এসে বাচ্চাটির কপালে ঘষতে লাগল। বাচ্চাটিকে ঘিরে অলৌকিকতার যে তিনটে গল্প শোনা গিয়েছিল, পরীক্ষা করতে গিয়ে তার দুটিই ডাহা মিথ্যে প্রমাণিত হল। বাকি রইল গরম জলের গল্প।
অভিভাবকদের সামনে ছিল জলের গ্লাস। এগিয়ে দেওয়া হল চায়ের কাপও। সেখান থেকে ধোঁয়া উঠছে। সঞ্চালিকা বললেন, ফুটন্ত নয়, তবু ওই চা বাচ্চাটির গায়ে একটু ফেলে দেখান তো, ওর গরম লাগে কি না।
ঢালা-টালা নয়, বাচ্চাটির হাত ধরে সবিতা সোজা ডুবিয়ে দিল চায়ের কাপে। বাচ্চাটি তারস্বরে চিৎকার করে উঠল। হাত বার করতেই দেখা গেল কচি চামড়ায় ফোসকা পড়ে গেছে।
বাইরে থেকে দর্শকদের ঘনঘন ফোন আসছে। দিল্লি থেকে, দার্জিলিং থেকে, সুন্দরবন থেকে। কেউ বলছেন, বুজরুকি। কেউ বলছেন, টাকা রোজগারের এটা একটা সহজ রাস্তা। আবার কেউ বলছেন, আমার বউ তো বলছিল, ওর মধ্যে নাকি ঈশ্বরপ্রদত্ত কিছু একটা আছে। না হলে এমনটা হয় হয় নাকি! কিছুক্ষণ আগে ও বলছিল, যে ভাবে পারো, বাচ্চাটা কোথায় থাকে, ঠিকানাটা জোগাড় করো না… দর্শন করে আসি। ভাগ্যিস আপনারা ওকে স্টুডিওয় নিয়ে এসেছিলেন! না হলে লোকের কাছে ভুল বার্তা গিয়ে পৌঁছুত।
যখনই এই লাইভ প্রোগ্রামটি শেষের মুখে, তখন এল আর একটি ফোন। ফোনটা করেছেন কামরূপ কামাখ্যা সিদ্ধ সাধক— ভটচায্যি মশাই। তিনি খুব শান্ত গলায় ধীরে ধীরে বললেন, অলৌকিক কোনও কিছু যাচাই করতে যাওয়া ঠিক নয় গো, তা হলে তার সব গুণ নষ্ট হয়ে যায়। মনে নেই, সীতার অগ্নিপরীক্ষা নিতে গিয়ে আমরা কী ভাবে সীতাকে হারিয়েছিলাম? বিশ্বাস করতে শেখো। বিশ্বাস করে ঠকাও ভাল।
তার কথা কারও মনঃপূত হল, কারও হল না। তবু লোকে টিভির সামনে বসে রইল। তারা উন্মুখ হয়ে আছে, এর পরে কী! এর পরে কী! এর পরে কী!
বিঃ  দ্রঃ
এই অত্যাশ্চর্য গল্পটির রহস্য উন্মোচন করতে পারেননি লেখক সিদ্ধার্থ সিংহ। পাতা তৈরি করার মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি বুঝতে পারছেন না, ‘এর পর কী’? তাই এই রহস্যের কিনারা করার ভার ছেড়ে দেওয়া হল ‘টেকটাচ টক’-এর পাঠক-পাঠিকাদের ওপরে। তাঁদের মধ্যে থেকে কেউ যদি এই গল্পটি  পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করে যথোপযুক্ত সমাধান-সূত্র বার করতে পারেন, তা হলে সেটি লিখে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পাঠিয়ে দিন‌‌ আমাদের মেল— techtouchtalk@gmail.com-এ। সম্পাদকের পছন্দ হলেই আগামী সংখ্যায় আমরা তাঁর নাম ঠিকানা-সহ সেটা প্রকাশ করব।
সম্পাদক
টেকটাচ টক
Spread the love

You may also like...

error: Content is protected !!