ধারাবাহিক কিশোর উপন্যাসে সমীরণ সরকার (পর্ব – ৫৭)

সুমনা ও জাদু পালক
দুধরাজ কিছুটা এগোতেই নীল পরীর পালক বললো, এবার আমাকে বিদায় দাও রাজকুমারী রত্নমালা।
সুমনা বললো,তুমি কি আর কিছুক্ষণ আমাদের সাথে থাকতে পারো না বন্ধু? জানিনা সামনে আরো কত বাধার মুখোমুখি হতে হবে আমাদের। তুমি থাকলে আমাদের সাহায্য করতে পারতে।
—- রাজকুমারী রত্নমালা, একে একে আমরা ছয় রঙের ছয় পরীর পালক তোমার ডাকে এসেছি এবং সাহায্য করেছি। শুধু এখনো তুমি বেগুনি রংয়ের পরীর পালককে আহ্বান করনি। এবার কোন গুরুতর সমস্যা্য পড়লে তাকে স্মরণ করলেই সে আসবে। সে তোমার ডাকের অপেক্ষাতে প্রস্তুত হয়ে আছে।
—— কিন্তু…….!
—– তুমি সৎ এবং সাহসী। যথেষ্ট ধৈর্য এবং বুদ্ধি আছে তোমার ।তোমার সঙ্গে যিনি আছেন, সেই রাজকুমারী চন্দ্রকান্তা বীর এবং বুদ্ধিমতি। তাছাড়া আমার আর থাকার উপায় নেই।
—–কেন?
—— অন্য আরেক জায়গা থেকে ডাক এসেছে আমার। সেখানে বিপদে পড়েছে এক কিশোর।
—– কি বিপদ?
—– এক ভয়ঙ্কর রাক্ষসের মুখোমুখি হয়েছে সে। আর তাই আমার সাহায্য প্রার্থনা করছে।
——- তোমরা কি এই ভাবে সবাইকে সাহায্য করে বেড়াও? এটাই কি তোমাদের কাজ?
চন্দ্রকান্তার এই প্রশ্নের উত্তরে নীলপরীর পালক বললো, আমাদের পরী দেশের রানী সব সময় বলেন, পৃথিবীতে যে সমস্ত মানুষ বা ছেলেমেয়েরা কোন ভালো কাজ করার জন্য কোন অভিযানে বেরোয়, পরী রাজ্যের সবার উচিত তাদের সাহায্য করা। অথচ ভাগ্যের কি পরিহাস দেখো ,আজকে উনি বন্দী হয়ে আছেন হূডুর হাতে।
বেশ, আমি এবারে বিদায় নিলাম।
কথা শেষ করেই কিছুক্ষণের মধ্যে দৃষ্টির আড়ালে চলে গেল নীল পরী পালক।
সামনে এগিয়ে চলল দুধরাজ।
কিছুক্ষণ চলার পরেই সুমনা ও চন্দ্রকান্তা সবিস্ময়ে দেখল,সামনে পাথুরে মালভূমি ও বালির সমুদ্র দিয়ে গঠিত এক বিশাল মরুভূমি। ঢেউ খেলানো মরু বালি দ্বারা ঢাকা বিস্তীর্ণ মরুভূমির এখানে ওখানে সুউচ্চ বালিয়াড়ি । কিছু খেজুর জাতীয় গাছ ,মরু কাঁটা, মরু ঘাস আর কিছু আগাছা ছাড়া আর কিছুই নজরে আসছে না।
বিস্মিত সুমনা বলল,একি! এখানে আবার মরুভূমি কেন?
চন্দ্রকান্তা বলে, হয়তো এটা আমার বাবার রাজ্য ‘সবুজের দেশের’ মতো কোনো অভিশপ্ত রাজ্য।
হয়তো দুষ্টু জাদুকর হূডুর কালো জাদুর প্রভাবে
মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে কোন শস্য শ্যামলা দেশ। সুমনা বলল, হতেও পারে। কিন্তু হূডুর প্রাসাদ আর কতদূরে? সত্যি বলতে কি আমার আর তর সইছে না।
অদৃশ্য কন্ঠ বললো, সবে তো নীল ধোঁয়ার প্রাচীর পেরোলে । হূডুর প্রাসাদে পৌঁছানোর আগে আরো অনেক বাধার মুখোমুখি হতে হবে বলে আমার ধারণা।
অদৃশ্য কন্ঠের কথা শেষ হতে না হতেই দূরে দেখা গেল এক সুউচ্চ পাহাড়।
চন্দ্রকান্তা বললো, ওই দেখো বন্ধু, সামনেই দ্বিতীয় বাধা।
—— তুমি কিচ্ছু ভেবোনা চন্দ্রকান্তা, দুধরাজ খুব সহজে ওই পাহাড় ডিঙিয়ে যেতে পারবে।
বলতে না বলতেই পাহাড়ের সামনে এসে পৌঁছে গেল দুধরাজ।
কিন্তু একি, এ কেমন পাহাড়?সমস্ত পাহাড়ের রং অদ্ভুত বেগুনি। এরকম বেগুনি রঙের আবার পাহাড় হয় নাকি?
দুধরাজ সেই পাহাড়ের কাছে গিয়ে পাহাড়ের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ ডিঙিয়ে যেতে পারে, এমন উচ্চতায় উঠে গেল সহজেই। কিন্তু যখনই সে পাহাড় ডিঙ্গাতে যাবে , তখনই দেখা গেল পাহাড় টা উঁচু হয়ে গেছে। দুধরাজ আবার সেই উচ্চতায় উঠে পাহাড় ডিঙাবার চেষ্টা করলো।
আবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলো। অনেকবার চেষ্টা করেও দুধরাজ কিছুতেই পাহাড় টা ডিঙ্গাতে পারল না।
অদৃশ্য কন্ঠ বললো, এটা অবশ্যই হূডুর আরেকটা জাদু। পাহাড়ের রংটা খেয়াল করেছো রাজকুমারী রত্নমালা?
—— হ্যাঁ ,ঘন বেগুনি রং। তার মানে কি…..?
—– হ্যাঁ, তুমি ঠিকই ভেবেছো। এবারে ডাকতে হবে বেগুনি রংয়ের পরীর পালক কে।
—– বেশ তাই হোক। সুমনা মনে মনে স্মরণ করলো বেগুনি রঙের পরীর পালক কে।
মুহূর্তের মধ্যেই হাজির হলো সে।
চলবে