ক্যাফে গল্পে সুব্রত সরকার

  বদন মুন্ডা

পাহাড় টিলা ডুংরি জঙ্গলে ঘেরা একসময়ের উপদ্রুত অঞ্চলে বেড়াতে চলে এসেছি হঠাৎই। এসেই জুটিয়ে ফেলেছি গাইড বদন মুন্ডাকে। ওর বাইকে ঘুরব। তেলচুক্তি। সঙ্গে দেব গাইড চার্জ।

বদনের বাইকে করে লোহাগড়ের হাট দেখতে গেলাম। আদিবাসী দেহাতী মানুষদের হাট। হাট ঘুরে ফেরার পথেই ঘটল বিপদ। টায়ার ফটাস!

দু’চাকার গাড়িতে স্টেপনি থাকে না। পাংচার সারানোর দোকানও কাছে নেই। বদন মুখ কালো করে বলল, “ই ক্যামুন হল্য বটে!…”

আমি অন্ধকার জনশূন্য চরাচরে দাঁড়িয়ে ভয় পেয়েই বললাম, “কি হবে এখন?”

বদন হতাশায় বিড় বিড় করে বলে, “আপনি কুটুম। আপনার জন্যই চিন্তা হচ্ছে!”

“এই জঙ্গলে তো হাতি আছে!..”

“তা আছে!..”

“পথ কতটা বাকি? কাছে কোনও গ্রাম নেই?”

“গ্রাম আছে। আরও দুক্রোশ গেলে পাব শালচুয়া।”

রাস্তা দিয়ে আর কোনও গাড়ি বা মানুষ এলো না। আমরা দুজনেই শুধু দাঁড়িয়ে আছি। অন্ধকার ঘিরে ধরেছে আমাদের। এমন সময় আমার মোবাইল বেজে উঠল, “আপনি কোথায়?” হোম স্টে থেকে উৎকন্ঠিত জিজ্ঞাসা।

বললাম রাস্তার বিপদের কথা। সে বলল, “কার সাথে চলে গেছেন?”

বললাম, বদন মুন্ডার নাম।

সে নিশ্চুপ। আমি ফিসফিস করে বললাম, “চেনেন আপনি?”

“চিনি। এ তল্লাটের সবাই ওকে চেনে।”

“কোনও ভয় আছে নাকি?”

একটু থেমে বললেন,  “আগে হলে ভয় করত।

অনেক দিকুকে ও উড়িয়ে দিয়েছে।”

“মানে!..”

“স্যার, আপনি ডর করবেন না।” বদন আমায় আশ্বস্ত করে বলল, “আমি ভাইকে ফোন লাগাচ্ছি। ও এসে নিয়ে যাবে আপনাকে।”

“আর তুমি?”

“আমি গাড়িটাকে আগে শালচুয়ায় নিয়ে যাই।”

বদনের ভাই আসছে। অন্ধকার অচেনা জঙ্গলে একসময়ের উপদ্রুত অঞ্চলে যার সঙ্গে দাঁড়িয়ে আছি, সে যে সেইসময়ের বন্দুকধারী বিদ্রোহী, তা একটু আগেই জেনেছি।

মনে ভয়, তবু বুকে আবেগ এসে আমাকে দিয়ে হৃদয় কথা বলিয়ে নিল , “বদন এই  পাহাড় জঙ্গলের গল্প একটু বলবে?”

বদন কেমন অবাক হয়ে আমার দিকে চেয়ে বলল, “শুনবেন সেই সব গল্প?..”

“হ্যাঁ। বলো। একটু শুনি…”

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

3 Responses

  1. Mihir. Auddy says:

    I Am mihir

  2. Mihir. Auddy says:

    I Am mihir very good description of the.tour. I am enjoying it .pl go on.to post more

  3. Abhijit Chatterjee says:

    অসাধারণ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।