ধারাবাহিক কিশোর উপন্যাসে সমীরণ সরকার (পর্ব – ৩০)

সুমনা ও জাদু পালক

দৈত্যরাজ ডিম্যান দৈত্য রানী দিতি সহ রাজপুত্রের গুহা থেকে বেরিয়ে যেতেই সুমনা বলল,বন্ধু অদৃশ্য কণ্ঠ, দৈত্য রাজপুত্র কিভাবে সুস্থ হবে?আর তাকে যে সুস্থ করে তুলবে সেই
রাজকুমারী রত্নমালা কোথায়? তাকে দেখছি নাতো।
অদৃশ্য কন্ঠ বলল, রাজকুমারী রত্নমালার দেখা পরে পাবে। আপাতত দৈত্য রাজকুমার কে সুস্থ করার জন্য তোমাকে চেষ্টা করতে হবে। মনে রেখো ,হাতে সময় মাত্র চব্বিশ ঘন্টা। চব্বিশ
ঘন্টা সময় পেরিয়ে গেলেই দৈত্য রাজ আর দৈত্য রানী এখানে উপস্থিত হবেন। ওদের পুত্রের জন্য খুব উৎকণ্ঠায় আছেন ওঁরা।
—— কিন্তু আমি কি করবো? আমি কিভাবে দৈত্য রাজকুমার কে সুস্থ করে তুলবো?
—— আমি যা বলছি সেটা মন দিয়ে শুনে কাজ শুরু করো।
—– তুমি বলো, আমি শুনছি।
—— তোমার কাছে ভগবান মহাদেবের আশীর্বাদী বিল্বপত্র আছে চারটি।
—– হুম।
—– ওই চারটি বিল্বপত্রের মধ্যে একটি দেখবে ক্ষুদ্রাকৃতি বা তুলনামূলকভাবে ছোট আকারের আছে।
—–তা হতে পারে, আমি দেখছি।
—- দাঁড়াও দাঁড়াও, কি করতে হবে আগে শুনে নাও।
—– হ্যাঁ, বল।
— তুমি দৈত্য রাজকুমারের কপালটা ভালো করে লক্ষ্য করলে দেখতে পাবে যে, কপালের মাঝখানে বিন্দুর মতো একটাঐে ছোট্ট কালো চিহ্ন আছে। ওই চিহ্নের উপর ছোট্ট বিল্বপত্র বসিয়ে দেবে।
—তারপর?
—- কপালের ওই কালো বিন্দুর উপরে বিল্বপত্রটা বসিয়ে দিলেই ওটা ওখানে সেঁটে বসে যাবে । আর তারপরেই দৈত্য রাজপুত্রের কান্না বন্ধ হয়ে যাবে। এরপর তুমি শিব স্তোত্র পাঠ করলেই দৈত্য রাজপুত্র ঘুমিয়ে যাবে।
——তারপর?
—– রাজপুত্রের মাথায় হাত রেখে ‘ওম নমঃ শিবায়’ মন্ত্র জপ করতে শুরু করবে। গুনে গুনে এক হাজার আট বার মন্ত্র জপ করা শেষ হলেই রাজপুত্র সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যাবে। যাও, কাজ শুরু করো সুমনা।
দৈত্য রাজপুত্রের মাথার কাছে সুমনা গিয়ে বসে।
ঘুমন্ত রাজার শিব মন্দির থেকে নিয়ে আসা বিল্বপত্র চারটি বের করে দেখে, সত্যিই ওর মধ্যে একটি বিল্বপত্র আছে,যা অন্য তিনটি বিল্বপত্রের থেকে আকারে অনেকটাই ছোট। সুমনা দৈত্য রাজপুত্রের কপালে ছোট্ট কালো বিন্দুটি খুঁজে তার উপরে বিল্বপত্র টি রাখতেই সেটি কপালে সেঁটে বসে যায়। আশ্চর্যজনকভাবে প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই দৈত্য রাজপুত্রের কান্না থেমে যায়।
এরপর সুমনা সুর করে সুললিত স্বরে শিব স্তোত্র পাঠ করতেই ঘুমিয়ে যায় ল হূডুর রাজ্যে বিশেষ কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু আপনারা হয়তো জানেন না যে, জাদুকর হূডু কতটা নিষ্ঠুর আর ভয়ঙ্কর।
— জানি দৈত্যরাজ। সুমনা বলে।
দৈত্যরাজ বলে, হে মনুষ্য কন্যা, আমি তোমাকে একটা মন্ত্রপূত অস্ত্র দেবো। ওই অস্ত্র তুমি মনে মনে যাকে উদ্দেশ্য করে ছুঁড়বে, তাকে আঘাত করে আবার ফিরে আসবে তোমার হাতে। ওই অস্ত্রের সাহায্যে তুমি তোমার শত্রুকে বেশ কিছুক্ষণ আটকে রাখতে পারবে‌ নির্দিষ্ট জায়গায়।
অদৃশ্য কন্ঠ বলল, দৈত্যরাজ, যে অপূর্ব অস্ত্রের কথা আপনি বললেন,তা অবশ্যই আমাদের কাজে আসবে দুষ্টু জাদুকর হূডুর মুখোমুখি হতে। এই অস্ত্র আমি তোমাকে প্রদান করার পর অদৃশ্য হয়ে যাবে। তবে তুমি যখনই স্মরণ করবে তাকে ,সে হাজির হবে।
অদৃশ্য কন্ঠ বলল, দৈত্যরাজ ওই অপূর্ব অস্ত্র প্রদানের জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।
দৈত্য রানী দিতি সুমনাকে বলল, হে কন্যা, আমি তোমাকে একটা মায়াবী কণ্ঠহার দেবো। ওই কন্ঠহার কন্ঠে ধারণ করলে তুমি কিছুক্ষণের জন্য নিজেকে অদৃশ্য রাখতে পারবে।
সুমনা উচ্ছ্বসিত হয়ে বলল, সত্যিই অদৃশ্য হতে পারবো?
—- অবশ্যই।তবে তা কিন্তু কন্ঠে ধারণ করার পর মাত্র এক দন্ড সময়ের জন্য। অর্থাৎ ওই সময় অতিক্রান্ত হলে আর অদৃশ্য থাকা যাবেনা । কিন্তু পরবর্তী সূর্যোদয় না হওয়া পর্যন্ত ওই হার কন্ঠে ধারণ করলে আর কার্যকরী হবে না। অর্থাৎ চব্বিশ ঘন্টায় মাত্র একবারই ওই কন্ঠহার কার্যকর হবে।
আমি তোমাকে ওই মায়াবী হার টি দেওয়ার পরে সেটি ও অদৃশ্য হয়ে যাবে। তবে তুমি আমাকে মনে মনে স্মরণ করলেই তোমার হাতে উপস্থিত হবে মায়াবী হার।
অদৃশ্য কন্ঠ বলল, আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই রানী দিতি। আপনার দেওয়া কন্ঠহার আমাদের অভিযানে সহায়ক হবে।
এরপর দৈত্যরাজ প্রদত্ত মন্ত্রপূতঃ অস্ত্র আর দৈত্য রানীর দেওয়া মায়াবী কন্ঠহার সুমনা হাত পেতে গ্রহণ করতেই সেগুলো অদৃশ্য হয়ে গেল। দুধ রাজের পিঠে চেপে বসল সুমনা।
অদৃশ্য কন্ঠ বলল, চলো দুধরাজ।
দুধরাজ ডানা মেলে উড়ে আকাশে। নিচের থেকে সুমনাকে হাত নাড়ায় দৈত্যরানী দিতি।

চলবে

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।