সাপ্তাহিক ধারাসম্পাতে সিদ্ধার্থ সিংহ (পর্ব – ৫১)

দেবমাল্য

হরি তাদের বাড়ির বহু পুরনো ড্রাইভার। কাছেই থাকে। কী একটা কাজে যেন বড়বাবু হাওড়া ময়দানের কাছে গিয়েছিলেন। একটু আগে তাঁকে নামিয়ে দিয়ে সে বাড়িতে খেতে গেছে। যাওয়ার সময় বড়বাবু তাকে বলে দিয়েছিলেন, আজ আর বেরোব না। কাল বেলা এগারোটা নাগাদ এলেই হবে।

তবু, বাবুর তলব পেয়েই সে ছুটে এসেছিল। শুনেছিল, কারখানার জন্য জমি দেখতে গিয়ে ছোটবাবু অসুস্থ হয়ে পড়েছে বহরমপুরে। এক্ষুনি যেতে হবে।

অসুস্থ শুনে, ওখানে পৌঁছে যখন আসল ঘটনা জানতে পারবেন, তখন কি আর বড়বাবু ঠিক থাকতে পারবেন! তখন তাঁকে সামলাবে কে! তাই কারখানার কর্মচারীরাই ঠিক করেছিল, একটা গাড়িতে তো ড্রাইভার ছাড়াও আরও চার জন খুব ভালভাবে যেতে পারে, তা হলে বড়বাবুর সঙ্গে তিন জন যাক না… গুলি লেগেছে মানে তো প্রচুর রক্ত বেরিয়েছে। যদি রক্তটক্ত লাগে!

আধ ঘণ্টার মধ্যে হাওড়ার কালীবাবুর বাজার থেকে বেরিয়ে পড়েছিল ওরা। ক’হাত গিয়েই একটা লরির পেছনে এমনভাবে ফেঁসে গিয়েছিল ওদের গাড়ি, না পারছিল এগোতে, না পারছিল পেছোতে। ড্রাইভারের পাশে বসেছিলেন বড়বাবু। পেছনের সিটে কারখানার তিন জন। ঠিক সেই সময় কারখানা থেকে ছুটতে ছুটতে গাড়ির সামনে এসে দাঁড়িয়েছিল সামশের। সামনে বসার উপায় থাকলেও, ও দিকে গেলই না ও। পেছনের দরজা খুলে, ‘একটু আগে-পিছু হয়ে বস তো’, বলেই চেপেচুপে ঢুকে পড়েছিল ও। ও বসতেই রুদ্ধশ্বাসে ছুটতে শুরু করল গাড়ি। যেন ওদের সঙ্গে একই গাড়িতে ওকে পাঠানোর জন্যই স্বয়ং ঈশ্বর যানজট তৈরি করে দাঁড় করিয়ে রেখেছিল গাড়িটাকে।

ওরা রওনা হওয়ার আগেই মুর্শিদাবাদের এস পি ভরতলাল মিনা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়ে দিয়েছেন— দুষ্কৃতীদের এই ধরনের হামলা বরদাস্ত করা হবে না।
এস পি-র নির্দেশে নড়েচড়ে বসেছে আশপাশের সব ক’টি থানা। তারা নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করছে। হামলাকারীদের দেখতে কেমন, তার মোটামুটি একটা ধারণা পাওয়ার জন্য বারবার জিজ্ঞাসাবাদ করছে তানিয়াকে। কিন্তু দুষ্কৃতীদের দিকে তাকানোর আগেই তার গায়ে যাতে গুলি না লাগে, সে জন্য তাকে ধাক্কা দিয়ে ঠেলে সরিয়ে দিয়েছিল দেবমাল্য। তার পর ঘন ঘন গুলির শব্দে, আর এই বুঝি কোনও গুলি এসে তাকে বিদ্ধ করল, এই আতঙ্কে সে চোখই খুলতে পারেনি। যখন খুলেছে, দেখে মেঝের ওপরে রক্তাক্ত অবস্থায় কাতরাচ্ছে তার স্বামী।

Spread the love

You may also like...

error: Content is protected !!