ধারাবাহিক ভ্রমণ সিরিজে শতদ্রু ঋক সেন – ৭১

ফেরা

সেদিন রাতে নেটালায় ফিরে অনেকটা সময় একা কাটাতে চেয়েছিলাম। কারণ ওখানকার পরিবেশে একা চুপ করে বসে পাহাড়ের নির্জনতার স্বাদ নেওয়া আলাদাই ব্যপার। এবং সেটা নিয়েও ছিলাম।
অনেকটা সময় একা কাটানোর পর অঝোরে বৃষ্টি নেমেছিল। সাথে ঠান্ডা হাওয়ায়। উঠে ঘরে চলে গেছিলাম। এবং এই যাত্রায় প্রথম বার মদ্য পানের আসর বসেছিল। আমাদের যারা রাঁধুনি, তারা সারাদিনের অবসরে কোনো একটা জায়গা থেকে জোগাড় করেছিল। ঐ ঠান্ডা, বৃষ্টিতে রামের তীব্রতা বড়ো আরাম দিয়েছিল। আরো ভালো একটি ব্যপার ছিলো ডিনারে ভেড়ার মাংস। অনেকদিন ধরে নিরামিষ খেয়ে খেয়ে সবার জিভ একটু হলেও আমিষ চাইছিলো। মনে আছে, অন্যদিনের থেকে সবারই ভোজন গুরুতর হয়ে গেছিল। কম্বলের নীচে শুয়ে বৃষ্টির গান শুনতে শুনতে কখন ঘুমিয়ে পড়েছি, খেয়াল নেই।

পরদিন সকাল। রেডি হয়ে নীচে নেমে দেখি, আকাশের মুখ ভার তখনও। বুঝলাম বৃষ্টি আজকেও পিছু ছাড়বে না। প্রতিটি গাড়ির কাঁচে গাঢ় হয়ে বাষ্প জমে আছে। তার উপর আঁকিবুকি কেটেছে মুক্তোর দানার মতো বৃষ্টির জল। আমরা অনেকেই হাত দিয়ে কাঁচের উপর কিছু লিখলাম। কেউ লিখলো ওম, আবার কেউ বা জয় কেদারনাথ। একসময় বাবার নামে জয়ধ্বনি দিয়ে বাস ছাড়লো। পিছনে পড়ে থাকলো, আমাদের দুদিনের আবাসস্থল, আমাদের উপস্থিত থাকার চিহ্ন বুকে নিয়ে। মনে ভাবলাম, যদি কোনোদিন সামর্থ্য হয়, তো অবসর জীবন এখানে কাটাবো, এই শান্তির নীড়ে।
বাস ছুটলো। আজকের গন্তব্য শোন প্রয়াগ।

Spread the love

You may also like...

error: Content is protected !!