ধারাবাহিক ভ্রমণ সিরিজে শতদ্রু ঋক সেন – ৯৫

সেইবার বিধানসভা ভোট ছিলো এই রাজ্যে। একদিকে ভোটের উত্তাপ, তারপর বেড়াতে যাবার উত্তেজনা। উফফ যা কেটেছিল কদিন। তারপর অফিস ও পারিবারিক চাপ তো রয়েছে। আরো আছে অফিস ছুটি নেওয়া। আমাদের যাত্রার দিন ঠিক হয়েছিল ১৮ই জুন। আমার সেইদিন থেকেই ছুটি। অনিন্দিতার ও তাই। খালি শতাব্দী ঠিক করেছিল সকালে অফিস যাবে। ওকে অফিস থেকে পিক আপ করে আমি চলে যাব শিয়ালদহ স্টেশন। অনিন্দিতা সেখানেই মিট করবে আমাদের।
ভোট এলো, চলেও গেলো। বেড়াতে যাবার দিন এগিয়ে আসতে থাকলো ঘোড়ার পিঠে চেপে। সারাদিন কাজ, আর রাতে গোছানো ও নানা পরামর্শ। যারা কোনোদিন লাদাখ তো দূর, পাহাড় অবধি যায়নি, তারাও উপযাচক হয়ে পরামর্শ দিতে থাকলো। সে এক নাজেহাল অবস্হা। কটা জ্যাকেট সোয়েটার নেবো ঠিক করতে করতে এটা স্হির হলো, প্রত্যেকে একটা করে সোয়েটার মানালি গিয়ে কিনে নেবো। ওখানে সস্তায় পাবো, আর তাছাড়া এখান থেকে অহেতুক বয়ে নিয়ে যেতে হবে না। টাকা পয়সা যা খরচ হবে, তিন ভাগে ভাগ হবে। পুরো খরচ আমি করবো, তারপর ভাগ করে নেবো। একটা ছোট্ট খাতা জোগাড় করলাম যার পাতায় কলাম করে রাখলাম। কত খরচ আর কে করেছে।
আলমারির পুরনো ড্রয়ের খুললে, হয়তো এত গুলো বছর পরেও খাতাটা খুঁজে পাবো। জায়গাটি আছে, সেখানে ঘুরে বেড়ানোর স্মৃতি আছে, খালি সেই মানুষগুলো আর একে অপরের সাথে যুক্ত নেই। কি অদ্ভুত সমাপতন তাই না??
যাকগে, লিখতে লিখতে আবার এখনকার সময়কালে চলে আসছি। নাহ আবার টাইম হোক পিছিয়ে যাবার। আমরা ফিরে যাই ১৭ই জুন, শুক্রবার। বেড়াতে যাবার ঠিক আগের দিনটিতে।

Spread the love

You may also like...

error: Content is protected !!