সিটং যাবো বেড়াতে। ডিসেম্বর মাস, খুব ঠান্ডা হবে। সেই মতো প্রস্তুতি নেওয়া চলছে। সুটকেস খুলে, বের হচ্ছে পুরনো জামা কাপড়। আরে এটা কি? এতো সেই লাল সোয়েটার… বাবার কেনা। হাতে নিয়ে দাঁড়াই, মন উঠে পড়ে টাইম মেশিনে, এক ঝটকায় পিছিয়ে যায় ২৩ টা বছর।
১৯৯৭। লক্ষ্মী পুজোর পরদিন। আমাদের বেড়ানোর দল উঠে পড়েছে, দার্জিলিং মেল এ। সেই চারজনের টিম.. আমি, বাবা, মণিজেঠু আর জেঠি। গন্তব্য কালিম্পং, দার্জিলিং, তারপর ভুটান ঘুরে জলদাপাড়া হয়ে ব্যাক টু প্যাভিলিয়ন।
সেইমতো পথে নামা। কালিম্পং ঘুরে দার্জিলিং। প্রথম দিনের ম্যাল। আমরা বসে আছি, পাশে আরেকটি বাঙালি পরিবার এসে বসেছে। তাদের টুকরো টুকরো কথা আমাদের কানে আসছে। কি গরম লাগছে, এতো ভিড়, কালকে আমরা কি নির্জনে ছিলাম, ইত্যাদি ইত্যাদি। বাবা কৌতুহলী হয়ে জিজ্ঞেস করায় তাঁরা বললেন যে গতকাল তারা সান্দাকফু গেছিলেন, আজ ফিরেছেন। খুব ভালো ভিউ পেয়েছেন কাঞ্চনজঙ্ঘার। এও জানালেন যে ট্রেক রুটের পাশাপাশি, দার্জিলিং থেকে রোজ চারটে মান্ধাতার আমলের ল্যান্ড রোভার ছাড়ে, একদিন গিয়ে পরদিন ফেরত আসে। রাস্তা জঘন্য, কিন্তু গেলে মন ভরে যাবে। আরো খানিকটা আলাপ আলোচনার পর তাঁরা চলে গেলেন, আমরাও হোটেলের পথ ধরলাম। একটু এগিয়েছি, মণি জেঠুর গলা, বাবাকে বললো… ময়ূখ( বাবার নাম ছিলো ময়ূখাভ) কিছু ভাবছো? বাবার উত্তর: মণিদা,সান্দাকফু যেতে তো মন চাইছে, কিন্তু দুটো কথা.. ১) বৌদি কি পারবেন? ২) শীতকালীন পোশাক তো বেশি আনিনি, কি করা যায়? জেঠির ব্রিদিং ট্রাবল ছিলো, কিন্তু রক্তে বেড়ানো, তাড়াতাড়ি বললো.. না আমি যাবোই।আর কাল সবাই কিছু এক্সট্রা ভুটিয়া সোয়েটার কিনে নেবো, হয়ে যাবে। ব্যস.. আর কি প্ল্যান হয়ে গেলো, এরপর পরদিন গাড়ি ঠিক করা।
পরদিন সকালে টাইগার হিল। যদিও মন ভরলো না। তারপর গাড়ির স্ট্যান্ড। নেপালি যুবক মোহন আর তার ল্যান্ড রোভার। গাড়ির বয়েস পঞ্চাশ এর কাছাকাছি, শুনলাম স্বাধীনতার কিছু পরে তৈরী। আমি হাঁ হয়ে দেখছি দেখে আমাকে মোহনের সহাস্য জবাব… ক্যা দেখ রহে হো খোকাবাবু? ইয়ে শের কা বাচ্চা হ্যায়… কাল দেখ না ইসকি ঔকাত আউর তাকত। এরপর ম্যাল বাজার। ওখান থেকেই বাবার ঐ লাল সোয়েটার টি কেনা। যেটি হাতে নিয়েই আমার এই স্মৃতি মনে পড়া আর লিখতে বসা।