সাপ্তাহিক ধারাবাহিক ভ্রমণ সিরিজে শতদ্রু ঋক সেন (পর্ব – ১২৬)

ফেরা
রাত বয়ে যায় নিজের খেয়ালে। গভীর রাতে প্যানগংয়ের বুক চিরে হাওয়া বয়। ঘুম ভেঙে উঠে টের পাই ধাক্কা মারছে তাঁবুতে। শীত লাগে বড়ো। একটা মোটা লেপে আপাদমস্তক ঢেকে, আরামে রাত কাটে।
পরদিন সকালে ঘুম ভেঙে দেখি চারদিকে অন্ধকার। ডাইনিং হলে চমৎকার কমপ্লিমেন্টারি ব্রেকফাস্ট খেয়ে, আবার গাড়ি, আবার প্যানগংয়ের ধারে।
আজ সেই গভীর সুনীল জল কৃষ্ণবর্ণ ধারণ করেছে। আজ এক রুক্ষ অপার্থিব রূপ। বেশ কয়েকটি ফটো তোলা হয়। এরপর ফিরে চলা লে শহরে।
ফিরে যেতে যেতে মন খারাপ লাগে। লাদাখ দেখা তো প্রায় শেষ হয়ে এলো, এতো দিনের পরিকল্পনা, এতো তাড়াতাড়ি শেষ?
ভালো লাগে না। গাড়ির মধ্যে বসে এদিকে ওদিকে দেখি। একটা জিনিস খেয়াল হয়। কর্মাকে বলি ভাইয়া, আপনি আমাদের শ্রীনগর নিয়ে যাবেন তো লাদাখের পরে?
কর্মা মাথা নাড়ে। ও যাবে না। বস্তুত শুনলাম শতকরা আটানব্বই জন লাদাখি ড্রাইভার শ্রীনগরের দিকে কাশ্মীরে গাড়ি চালাতে চান না। হ্যারাসমেন্টের ভয়ে। তবে ওর চেনা কাশ্মীরী ড্রাইভার আছে, সে আমাদের নিয়ে যাবে, ও বলে দেবে।
মন আরো খারাপ হয়ে যায়। কিন্তু উপায় নেই। ভাবতে ভাবতে কখন ঘুমিয়ে গেছি, খেয়াল নেই।