গুচ্ছ কবিতায় সুজিত রেজ

১। অহেতুক
এত অপমান গাছে-গাছে ঝুলে থাকে।
শ্লোকহীন অনুদ্বায়ী শোক, হিমেল দুঃখপাথর
মায়াবী করুণ কাঠকয়লা…
যেভাবে চেয়েছি পাইনি তো কিছুই…
বিড়াল রুমাল…
শুধু খেলা ভাঙার খেলা
ভাঙতে ভাঙতেও এত উপাচার…
এত বিনষ্ট শস্যশ্যাম্পেন
…ড্যাশ-হাইফেন…
কেঁচোর মতো মৃত্তিকা উদ্গীরণ…
ওই দূর আকাশের তারারাই জানে
এর কী প্রয়োজন
আবছায়া আলসে আলোকমালায়
অহেতুক এই রজঃস্বলা উদ্দীপন
২। বিসর্গ বিযুক্ত দুঃখ
তুমি আমায় ভিক্ষা শেখাবে কী
আমার কোনও ঈশ্বর নেই
তুমি আমায় রাত্রি দেখাবে কী
আমার কোনও সকাল নেই
তুমি আমায় ছন্দে বাঁধবে কী
আমার কোনও কবিতা নেই
তুমি আমায় কান্না শেখাবে কী
বিসর্গ বিযুক্ত দুঃখও যে নেই
৩। আয়ু
পুরনো লেখার প্রেমে পড়ে যাই বারবার
হারানো গানের খাতা, কড়িকাঠ,কাঠের দরজা
দোয়াত-কলম আর বাতাবিলেবুর বল
গাছের বাকলে লাল পিপড়ের ঘরবাড়ি
শাবক প্রহরারত মগডালে দাঁড়কাক
ইস্কুল পালানো ছেলেটার অপার মুগ্ধতাবোধে
পাকা আলফানসোর মতো রোদ্দুর ছড়ায়
বেঁচে থাকা দায় নয় এভাবেই বেঁচে থাকা যায়
নুড়িরা যেমন থাকে অলকানন্দায়
৪। তিল
তিলের ভিতর কত রাত জেগে থাকে
কত হাত আঙুলের গল্প
বাউল বাউল ব্যথা
সহজিয়া স্রোত ভেঙে নদী হয়ে যায়
অন্ধকারে তিলই শুধু ঘুমায় না
পায়রা ওড়ে তখন
শুধু স্পর্শদৃশ্যের জন্ম হয়
আকাশকুসুম কল্পনা
এই তিল আমার শত জনমের সুরম্য সাধনা
৫। ঋণ
ডাকলেও যাব, না-ডাকলেও যাব,
যাওয়ার জন্যই তো আসা
এত ভালোবাসা !
মিছে কেন বঞ্চিত হব?
শেষ গন্তব্য তো সেই শিবের জটা,
তার মাঝে কিছু দিন
কৈলাস প্রমাণ ঋণ।
আসা-যাওয়ার ছিদ্রপথে
গান না-গেয়েই কেটে গেল দিন।