সাপ্তাহিক ধারাবাহিকে শাশ্বতী নন্দী (পর্ব – ১১)

নিশিভোর

পর্ব – ১১

(১৬)
কুসুমপুরের উদ্দেশে রওনা হয়েছে এখন গৌরী। হাইওয়ে দিয়ে সাঁ সাঁ ছুটছে ক্যাব। ইচ্ছে করেই আজ নিজের গাড়ি বার করে নি। তবে ক্যাব ড্রাইভারটির হাত পাকা, দুরন্ত চালাচ্ছে।
বাড়ি থেকে যখন বেড়িয়েছে আজ, আকাশে সবে গোলাপি রঙের দু একটি আঁচড়। ভোর সদ্য ফুটছে। বটুকদা ঠায় দাঁড়িয়েছিল গেটে। তার গাড়ি যতক্ষণ দেখা যায়, হাত নেড়ে গেছে একনাগাড়ে। মনটা খারাপ কাল থেকেই মানুষটার। এক গাদা বোঁচকা-বুঁচকি বেঁধে দিয়েছে সঙ্গে। বলে,‘পথে খিদে পেলে, বাইরের জিনিস খাবে না খবরদার। সব সঙ্গে দিলাম। কয়েক লিটার জলও রেখে দিয়েছি গাড়িতে’।
বড্ড ভাল মানুষ বটুকদা। বেরোনোর সময় বার বার বলে চলে, ‘তুমি না থাকলে বাড়িটা খাঁ খাঁ করে’।
গৌরীরও খারাপ লাগছিল। কেন এমন করছে বটুকদা? দুটো দিনের তো ব্যাপার, কাল কিংবা পরশু, তার মধ্যে ফিরতেই হবে। আজ কুসুমপুর পৌঁছতে পৌঁছতে বেলা গড়িয়ে যাবে। দূর তো কম নয়, ঘন্টা ছয়েকের পথ। একনাগাড়ে যাওয়া সম্ভব নয়। একটু থেমে, চা জলের বিরতি নিয়ে, নইলে ড্রাইভারের পক্ষে কষ্টদায়ক।
এবার আশ্বিনের গোড়াতেই বাতাসে হিমকণা। জানলার কাঁচ নামানো, হু হু করে বাতাস ঢুকছে। মন্দ লাগছে না। এরকম একটা ট্রিপে অনেক দিন বেরোন হয় নি। তবু মনের কোথায় যেন একটা কাঁটা খচ্‌খচ্‌ বিঁধছে।
ব্যাগের চেনটা খুলে সে সুমনার পাঠানো খামটা বার করল। খালি বাড়িতে ওটা রাখা নিরাপদ মনে হয় নি। যদিও বটুকদা আছে। তবু ধাক্কা খেতে খেতে সে এখন অনেক সাবধানী।
খাম থেকে বার করে একটা একটা করে ফটো নিরীক্ষণ করতে থাকে । অজান্তেই মুখটা পাথুরে হয়ে ওঠে। খবরের কাটিংগুলো আবার নতুন করে পড়তে শুরু করে। কিছু কিছু লাইনের ওপর লাল কালি দাগানো। মানে মোস্ট ইমপর্টেন্ট।  গৌরী পড়তে পড়তে হতবাক হয়ে যায়। কী সাংঘাতিক সব তথ্য সংগ্রহ করেছিল সুমনা। সাংবাদিকতায় মেয়েটা সত্যিই চ্যাম্পিয়ন। একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এল। হয়তো সে কারণেই এত কম বয়সে চলে যেতে হল।
তবে অনেক দূর এগোলেও একসময় বন্ধ করে দিতে হয় জ্যোতিপ্রিয়র ওই কেস। সেই এক কারণ। ছেলে পুলিশের ডেপুটি কমিশনার, অতএব মাথার ওপর বড় একটা ছাতা তাঁকে আড়াল করে রাখে।
কপালের রগ দুটো আবার দপ দপ লাফাতে শুরু করল তার। মন তিতকুটে। এ সব কারণেই অনুভবের ওপর একটা বিতৃষ্ণায় মন ছেয়ে থাকে মাঝে মাঝে। সুমনার মৃত্যুটাকেও রহস্যজনক মনে হয়।
মোবাইল বেজে উঠল হঠাৎ। এত ভোরে, কে? নম্বরও অচেনা। অনেকবার হ্যালো হ্যালো বললেও ওপাশটা শব্দহীন। গৌরী ছেড়ে দিল লাইন।
মাঝে মাঝে সব হিসেব গুলিয়ে যায়। অনুভবকে সে চিনতে পারে না কিছুতেই। সত্যিই কি সে গৌরীর ভাল চায় নাকি …
তবে কালো দুনিয়ায় যে অরিন্দম পালের যথেচ্ছ ঘোরাফেরা  ছিল এবং বর্তমানেও আছে তা আগেই আন্দাজ করেছিল। এখন সুমনার পাঠানো তথ্য থেকে আরও পরিস্কার।
অরিন্দম ছদ্মনামে বেশ কিছু এজেন্সির সঙ্গে জড়িত। তার মধ্যে আছে কিছু টাকা লেন দেনের ব্যবসা, আর কিছু মেয়েদের হোম।
ঘাড়ের কাছটা টনটন করতে শুরু করে গৌরীর। খামটাকে যত্ন করে আবার ব্যাগে পুরে রাখে। এসব আবর্জনা নাড়াচাড়া  আর ভাল লাগছে না। তবে একটা প্রশ্ন প্রায়ই কুরে কুরে খায়। জ্যোতিপ্রিয়কে কি সে পুরোপুরি ক্ষমা করে দিতে পারবে? বহুবার এমন প্রশ্নে সে নিজেকে যাচাই করতে চেয়েছে। যে উত্তরটা উঠে আসে ভেতর থেকে, তা হল, ক্ষমা নয়, শুধু অনুকম্পা ওই মৃত্যু পথ যাত্রী মানুষটার প্রতি। আর ওই ঘুঙুর ডাকটাও মাঝে মধ্যে বাবাকে ফিরিয়ে আনে তার কাছে।
বিভিন্ন ঝড় ঝঞ্জায় জ্যোতিপ্রিয় এখন শিকড় উপড়ানো গাছ একটা, তবু তিনি মাটি কামড়ে ভূমি ছুঁয়ে থাকতে চান। আর ইদানিং এমন কিছু তাকে তাড়া করে চলেছে, যা থেকে মুক্তি পেতে চাইছেন। তাই হয়তো এই পুজো-আচ্চার আয়োজন। তবে সেটা নিজের মৃত্যু ভয় দূর করতে নাকি অন্য কোনও আতঙ্কে থেকে, তা স্পষ্ট হচ্ছে না। এর জন্যই তিনি গৌরীর সাহায্য চান।
কী ভেবে একবার অনুভবের নম্বরে ফোন লাগায় সে। এত সকালে ঘুম ভাঙাবে? তেমন প্রয়োজনও নেই যদিও। তবু নম্বরটা টিপে ফেলে। কিন্তু দুটো নম্বরই তো সুইচড অফ। আশ্চর্য! চব্বিশ ইনটু সাত তো অনুভব খোলাই থাকে।
হয়তো চার্জ নেই। কিন্তু দুটো মোবাইলেই একসঙ্গে চার্জ খতম! হতেই পারে। অত ভাবাভাবিরই বা কী আছে? বেলা বাড়ুক, পাত্তা লাগানো যাবে। ওর কোয়ার্টারের ল্যান্ড নম্বরটাও রাখা হয় নি। ধুস। নিজের ওপরেই বিরক্তি এল।
মোবাইল জি পি এসে দেখাচ্ছে, আরও ঘন্টা তিনেকের পথ বাকি। তার মানে মাঝ বেলায় গিয়ে পৌঁছবে কুসুম ভিলায়। মোবাইলটাকেই আয়না করে গৌরী নিজেকে দেখে। বেশ দেখাচ্ছে, কেমন অন্যরকম। গরদ শাড়ি, আটপৌরে করে পরা, ঘাড়ের কাছে লতপতে হাত খোঁপা, অনুভব দেখলে হেসে খুন হত। পারফেক্ট আটপৌরে বউ। জ্যোতিপ্রিয়র মতো অনেক পুরুষের মনেই মেয়েদের একটু ট্র্যাডিশনাল লুকে দেখার বাসনা থাকে, অনুভবও এর ব্যতিক্রম নয়। তবু অন্য অনেক ইচ্ছের মতো এই ইচ্ছাটাও সে স্ত্রীর ঘাড়ে চাপায় নি কখনও।
আবার একবার অনুভবের নম্বরে চেষ্টা করে। এবার, ‘লাইন নট রিচেবল’। তার মানে ও ফোন খুলেছে। কিন্তু  কানেকশন নেই। এত ভোরে কোথায় বেরোল?
গতকাল অনেক কথা হয়েছিল অনুভবের সঙ্গে। কথা চলাকালীনই ঘন ঘন ট্রেনের হুইসিল কানে এসেছে। এখন আর একটা চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খেল। অনুভব কি ট্রেনে করে কোথাও যাচ্ছিল? অবশ্য ষষ্ঠীর আগেই ওর কলকাতায় ফেরার কথা।
আবার মোবাইল বাজছে। সেই আগের নম্বর। – কে বলছেন?
এবারও ওপারটা নীরব। তবে একটা ক্ষীণ মেয়েলি কন্ঠস্বর ভেসে এল, গলাটা শুনে প্রথমে ঘাবড়ে যায় গৌরী, অবিকল যেন সুমনা। না, ওর কথা এই মুহূর্তে ভাববে না। বড্ড কষ্ট দিয়ে চলে গেল মেয়েটা।
আর কতক্ষণ? বিরক্ত লাগছে এবার জার্নিটা। ঠিক তখনই  জ্যোতিপ্রিয়র ফোন, ‘কতদূর পৌঁছলে মা? পুরোহিত মশাই তো চলে এসেছেন’।
গৌরী আশপাশের দোকানের সাইনবোর্ড দেখে জায়গার নাম বলতেই জ্যোতিপ্রিয় হাই হাই করে উঠলেন, ‘এ হে, তুমি তো ঘুর-পথ ধরেছ দেখছি। বিকেল ফুরিয়ে যাবে পৌঁছতে পৌঁছতে, চেয়েছিলাম দীক্ষার কাজটা সকাল সকাল সেরে ফেলব। পুরোহিত মশাইকে তো বাড়ি ফিরতেও হবে’।
-আপনি তাহলে ড্রাইভারকে বুঝিয়ে দিন যদি কোনও সর্টকাট রাস্তা থাকে। আমায় তো জি পি এস এই রাস্তাই দেখাচ্ছে।
-ধুর, ছাড়ো। আমি বরং তোমায় হোয়াটস অ্যাপে একটা পথ নির্দেশ পাঠাচ্ছি, ওটা ফলো করে এগিয়ে এসো।
গৌরী হাসে, ‘আপনি পারেন মোবাইলে ওসব পাঠাতে?’
জ্যোতিপ্রিয়ও হাসলেন, ‘আমি না পারলে কী হয়েছে, আমার হ্যান্ডসরা আছে’।
গৌরী মনে মনে হাসে। এখনও হ্যান্ডস রাখার দরকার পড়ে বুড়োর? মুখে বলে, ‘আপনি পাঠিয়ে দিন ডিরেকশনটা’।
দু মিনিটেই হোয়াটস অ্যাপে কুসুমপুরের রোড ম্যাপ চলে এল। ভাল করে খুঁটিয়ে দেখে বুঝল, সত্যিই তারা ঘুরপথে এগোচ্ছিল। ড্রাইভারকে বলতেই ও গাড়ি ঘুরিয়ে নিল।
কী মনে করে, গৌরী ওই রোড ম্যাপ রোহিতকে ফরওয়ার্ড করে দেয়, সঙ্গে একটা গুড মর্নিং মেসেজ।
কিন্তু ওদিক থেকে কোনও রিপ্লাই এল না। সচরাচর রোহিত এটা করে না। যথেষ্ট সহবৎ জানা ছেলে। ঘুম থেকে ওঠে নি হয়তো। ঘড়ি দেখল, বেলা নটা। রোদ এখন চড়চড়ে, গরমও লাগছে। জানলা তুলে সে এসি চালাতে বলে ড্রাইভারকে।
মনের মধ্যে অনেক কথাই উথাল পাতাল করছে। নতুন করে কি আর একটা চ্যালেঞ্জ নিয়ে বসল গৌরী? আসলে জ্যোতিপ্রিয়র কাছে একটা ছোট্ট ঋণ মেটাবার আছে। অনেককাল বাদে হলেও, তাঁকে বাবা ডেকে কোথাও যেন একটা তৃষ্ণা মিটে যায়।
টিং, একটা মেসেজ ঢুকল মোবাইলে। নিশ্চয়ই রোহিত।
কই না তো, এ তো অন্য নম্বর। -হ্যাভ আ সেফ জার্নি।
কে? ভ্রু কুঁচকে ওঠে গৌরীর। তার এই কুসুমপুর আসার কথা তো গুটিকয়েক মানুষ ছাড়া আর কেউ জানে না, তার মধ্যে রোহিত আর বটুকদা আছে।
নম্বরটা কি তাহলে অনুভবের? মিলিয়ে দেখতে গিয়ে ধরা পড়ল, বার বার যে ব্ল্যাঙ্ক কলটা আসছে, সেই নম্বর থেকেই আসা ওই মেসেজ।
ভেতরে অস্বস্তি শুরু হল। বেশ বুঝতে পারছে কেউ যেন তাকে ছায়ার মতো অনুসরণ করছে। কে? শাড়িটাকে আর একটু আঁটসাঁট করে সে সিটে বসল। অসুবিধা হচ্ছে, এভাবে শাড়ি পরায় তো অভ্যস্ত নয় ।
ওদিকে জ্যোতিপ্রিয়র ঘন ঘন ফোন, ‘এখন কোথায়?’
জায়গার নাম শুনে তিনি বেশ বিরক্ত, ‘রিক্সা চেপে আসছ নাকি ঘুঙুর? এই জন্য আমি গাড়ি পাঠাতে চেয়েছিলাম, বলেছিলাম গতকাল রাতেই চলে এসো। রাজি হলে না। সব ব্যাপারে তোমার জেদ’।
জ্যোতিপ্রিয়র মেজাজে ঠিক আগের মতো আঁচ। ঠক করে উনি লাইন কেটে দিলেন।
-ওনলি টুয়েন্টি কিলোমিটারস টু গো। – আবার মেসেজ।
কে মানুষটা ? আড়াল থেকে একের পর এক মেসেজ পাঠাচ্ছে! গৌরী এবার ওই নম্বরেই ফোন তোলে। রিং হচ্ছে। একটু পর কানেক্টও হল। আবার সেই ভেসে আসা মেয়েলি গলা, যেন দূর থেকে কত কী বোঝাচ্ছে। কে? গৌরী কি ভয় পাচ্ছে? না, না। ভয় ডর ব্যাপারটাই তার প্রাণে নেই। শাড়িটাকে আবার সে গুছিয়ে বসে।
আরও খানিকটা পথ পেরোবার পর গৌরী নিজেই ফোন করল, –বাবা, হৃদয়নগর ছাড়িয়েছি।
জ্যোতিপ্রিয় এবার হাসলেন, ‘তাহলে আর বিশেষ দেরি নেই। এবার আশ্রমপুর, ওখান থেকে আরও পাঁচ কিলোমিটার ভেতরে। জায়গাটা একটু ইন্টিরিয়রে। তবে এমন নিরিবিলি পেতে হলে একটু ভেতরে আসতেই হয়। আমি নিশ্চিত, বাড়ী দেখে তোমার মন জুড়িয়ে যাবে।
গাড়ি এবার যত এগোচ্ছে, গৌরীর নাকে একটা জঙ্গুলে ঘ্রাণ লাগছে। আশেপাশেও লম্বা সারিবদ্ধ গাছ গরান। কাছাকাছি কি কোনও জঙ্গল আছে? হয়তো আছে। ওই তো, রাস্তা মিশে যাচ্ছে জঙ্গলের মধ্যে। এখানে কোথায় কুসুমভিলা? কোনও ভুল হচ্ছে না তো? আবার সে মেলাতে থাকে পথ নির্দেশ। হঠাৎ এক বাইক আরোহীকে দেখা গেল ক্যাবের সামনে সামনে চলতে। কে ও?
সঙ্গে সঙ্গে জ্যোতিপ্রিয়র ফোন, ‘আমার একটি ছেলে যাচ্ছে তোমার আগে আগে, ও তোমাদের পথ দেখিয়ে নিয়ে আসবে’।
সামনের রাস্তা খানা খন্দে ভরা। গাড়ি চলতেই চায় না। বিরক্তই লাগছে বেশ, এ কী জায়গা! জ্যোতিপ্রিয় আর জমি  পেলেন না বাড়ি বানাবার!
আর একটু এগোতেই দূর থেকে দেখা গেল একটা উঁচু পাঁচিল ঘেরা জায়গা। গাড়ি সেখানে পৌঁছতেই সামনে বিরাট লাল গেট। বাইক আরোহী পেছন ফিরে ইঙ্গিতে বোঝাল, এবার নামতে হবে।
 গৌরী ধীর পায়ে নেমে আসতেই লোহার গেট খুলে যায় সশব্দে। আবার একটু নিজেকে ঠিকঠাক করে নেয় সে। শাড়ি পরে চলাফেরায় অভ্যস্ত নয়, তাই আড়ষ্ট হাঁটার ছন্দ। কিন্তু ভেতরে পা রেখেই ও অবাক। আরিব্বাস, চোখ জুড়োন এক বাগানের কোলে দুধ সাদা একটা বাড়ী, মাঝে মাঝে সোনালী জড়ি রঙ বাড়ির গায়ে। ছাদটা গম্ভুজের মতো গোল। অসাধারণ দেখতে। এই তাহলে কুসুম ভিলা! সামনে প্রকান্ড এক ফোয়ারা।
অন্য এক যুবক নিঃশব্দে হেঁটে এল তার সঙ্গে সঙ্গে। একটু পরে সে হাতজোর করে,  ‘ভেতরে যাওয়ার আমার অনুমতি নেই। আপনি এগিয়ে যান ম্যাম’।
কাঠের কারুকাজ করা পালিশ দরজা সামনে। কাছে এসে দাঁড়াতেই আপনা আপনি খুলে গেল। ব্যবস্থাপনা দেখে মাথা ঘুরে যাওয়ার জোগাড়। কিন্তু ঘরে পা দিয়ে ও আরো অভিভূত। বিশাল এক হল-ঘর। বিলাস বহুল সাজ সজ্জা। চকচকে আয়নায় মোড়া দেয়াল। সিলিং থেকে ঝুলছে দামি ঝাড়বাতি। আহা, এখানে পুজোর জোগাড় হলে কমপক্ষে হাজার খানেক লোক এঁটে যাবে। দারুণ, দারুণ! কিন্তু পুজোয় কি আদৌ থাকতে পারবে? যা জেদ ধরেছে অনুভব।
         -এসো বেবি, এসো। কখন থেকে তোমার পথ চেয়ে বসে আছি।
গৌরী থমকে দাঁড়ায়। কে? ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাল। না, সামনে পেছনে কেউ তো নেই। তাহলে? কথাগুলো স্পষ্ট অথচ মিহি কন্ঠস্বর।
-বাবা, আপনি কোথায়? – গৌরী চেঁচিয়ে জ্যোতিপ্রিয়কে খুঁজল।
হা হা হা। গমগমে একটা হাসি এবার যেন ঠিকরে পড়ল চার দেয়াল থেকে। -কে বাবা? কোথায় বাবা? এখানে শুধু আমি, কাম বেবি কাম।
গৌরী বিপদের গন্ধ পাচ্ছে। বুঝল আশেপাশে কোথাও কোনও মাইক ফিট করা। তবু পায়ে পায়ে ও এগোতে থাকে। চুম্বক শক্তিতে যেন কেউ টেনে নিয়ে যাচ্ছে দরজার শেষ প্রান্তে।
-এই তো, গুড বেবি। এবার বেরিয়ে এসো দরজা দিয়ে।
গৌরী বাধ্য মেয়ের মতো তাই করে। কিন্তু এ কী? ঘরের বাইরেটা এত ঘুটঘুটে অন্ধকার কেন? যেন অন্ধকার খনি। শরীর ছমছম করছে। পা দুটো আড়ষ্ট হয়ে এল। আরে, শান্তিবনের ভিডিয়োতে তো এমনি ছবি দেখেছিল। ঘরের বাইরে এরকমই সুরঙ্গ পথ, সেটা পেরিয়ে বাবাজীর বেবি গুহা…
-কী হল বেবি? এসো, কতক্ষণ তোমার অপেক্ষায় আছি।
সুরঙ্গ পথটা এত সংকীর্ণ, হাওয়া বাতাসও নেই। দম আটকে আসছে। তবু সে অন্ধকারে হাতড়ে চলে।
মিহি গলা তাকে ক্রমাগত তাড়িয়ে নিয়ে চলেছে,  ‘এই তো বেবি, এবার তুমি আমার অনেক কাছাকাছি চলে এসেছ। আর একটু, আর একটু কষ্ট কর প্লিজ। সোজা নাক বরাবর চলে এসো। ভয় পেয়ো না। আমি আছি। তোমায় ঠিক সময় বুকে টেনে নেব। হা হা হা।
    হঠাৎ চোখে একটা তীব্র আলোর ফোকাস। গৌরী চোখ ঢেকে ফেলে, উফ্‌! দিশেহারা করে দিল মুহূর্তের জন্য। শাড়িটা  পা-য়ে আটকে যাচ্ছিল। হুমড়ি খেয়ে পড়তে পড়তেও নিজেকে সামলে নিল।
-কী করছ তুমি বেবি? আমি তো আলো দেখালাম। সবাইকে আমি অন্ধকারে আলো দেখাই। এসো, ধীরে ধীরে সামনের দিকে এগিয়ে এসো।
গৌরী দাঁড়িয়ে পড়ে, নিঃশ্বাসের কষ্ট বাড়ছে। কোনদিকে যাবে বোঝার চেষ্টা করে। কিন্তু কিছুই যে ঠাহর করা যাচ্ছে না।
-তুমি আজ কী সুন্দর একটা শাড়ি পরেছ। ওটা আমার প্রিয় রঙ, মেয়েদের খুব পবিত্র দেখায় ওই রঙে’। – মিহি কন্ঠ হাসছে।
মরিয়া হয়ে এবার চিৎকার করে ওঠে গৌরী, ‘বাবা, আপনি কোথায়?’
সত্যিই, কোথায় জ্যোতিপ্রিয়? হঠাতই যেন মানুষটা উবে গেছেন। মিহি সুরের হাসিটা গড়িয়ে গড়িয়ে আবার কানে ধাক্কা দিল, ‘তুমি তো বড় হয়ে গেছ বেবি, এখনও এত বাবা বাবা কর! হা হা হা। শোন, তোমার বাবার খুব কাছের লোক আমি, জ্যোতির বহুদিনের বন্ধু। ও-ই এখানে নিয়ে এল আমায়। শুনলাম, তুমি আমায় খুঁজছ। তাই তো এই ব্যবস্থা। দেখা করতে চাইছিলে, এবার এসো। দুজনে মুখোমুখি হই, দু দন্ড সুখ দুঃখের কথা কই। এত অপারেশনের দরকার কী জীবনে? নীল স্বর্গে আমায় তুমি পাবে না। চাইলে এই স্বর্গেই আমাদের দেখা হোক। এসো ডার্লিং’।
গৌরী ধমকে উঠল, ‘কে তুমি?’
-সে কী! এখনও চিনতে পারলে না ডার্লিং? যার জন্য তোমার এত প্রতীক্ষা।
-স্কাউন্ড্রেল! – গৌরী চিৎকার করে ওঠে। -চোরের মতো লুকিয়ে আছিস এখানে? মুখোমুখি আয়, চেনাচেনিটা হয়ে যাক সামনা সামনি। পুরুষ মানুষ। মেয়েদের এতো ভয়! আয় বেরিয়ে আয়।
গৌরী মাথা ঘুরিয়ে ওকে খুঁজতে থাকে। কিন্তু সামনে পেছনে যে শুধুই অন্ধকার। একটা সরু চিলতে নীল আলো বেরিয়ে আসছে একটা ছিদ্র পথ থেকে। সে পায়ে পায়ে এগোতে থাকে আলো লক্ষ করে।
-বেবি, আস্তে কথা বল তুমি। আমার সামনে কেউ এমন গলা চড়িয়ে কথা বলে না।
গৌরীর ভেতরটা ছটফট করছে। এই অন্ধকূপে বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে জ্ঞান হারাবে। ও প্রাণপণে নিজেকে টেনে হিঁচড়ে এগোতে থাকে। এত কষ্টের মধ্যেও জ্যোতিপ্রিয়র মুখটা ভেসে উঠল। ছিঃ, আবার আপনি প্রমাণ করলেন, আপনি সেই-ই জ্যোতিপ্রিয়!
একটা দমকা কাশি উঠল হঠাৎ। কাশতে কাশতে চোখ মুখ লাল হয়ে উঠল। একটু জল, একটু জল পেলে যেন ভাল হয়। ক্রমশ অবশ হয়ে আসছে শরীর। তবু ও টলমল পায়ে চলতে থাকে, বেরিয়ে আসতেই হবে এই সুরঙ্গ থেকে।
বাবাজীর অট্টহাসি কানে এল, ‘কী ম্যাডাম? দম শেষ?’
আর সহ্য হল না। এক টানে নিজের শরীর থেকে শাড়িটা খুলে ফেলতে যায় গৌরী। সঙ্গে সঙ্গে ওপার থেকে একটা চুক চুক আওয়াজ, ‘আরে! কর কী, কর কী বেবি! তুমি কেন নিজের হাতে পোশাক খুলছ, ওটা আমার কাজ, আমি আজ তোমায় পরতে পরতে খুলে দেব। তুমিও খুলবে আমায়’।
শাড়িটা দূরে ছুঁড়ে দিয়ে গৌরী কোমরে গোঁজা বন্দুকটা হাতে তুলে নেয়। তারপর তাক করে ধরল, যেদিক থেকে গলার স্বর ভেসে আসছে।
-ও মাই গড, তুমি সঙ্গে আর্মস নিয়ে এসছো এখানে? গরদ শাড়ির নীচে, জিন্সের পকেটে … হা হা হা। সত্যিই তোমার সাহস আর বুদ্ধিকে কুর্নিশ করতে হয়। তবে শোন, তোমার সঙ্গে কিন্তু আমার বন্দুক খেলার সম্পর্ক নয়। ওটা নামিয়ে রাখো।
গৌরীর আঙুল ট্রিগার ছুঁয়ে আছে। বাবাজী আবার মুখ খুলতেই, বন্দুক থেকে এলোপাথারি গুলি বেরিয়ে আসতে শুরু করে। সেই সঙ্গে তার পা-ও এগোচ্ছে টিপে টিপে। যদিও স্টেপিং এলোমেলো। এই অন্ধ কূপে তার শরীর ক্রমশ নিস্তেজ হয়ে আসছে। তবু মরিয়া হয়ে ওই নীল আলোর দিকে সে চলতে থাকে।
ধীরে ধীরে এভাবেই সে পেরিয়ে এল সুরঙ্গ পথ। সামনে একটা ঘর। গৌরী ঢুকে পড়ল ওখানে। জোরালো আলোর বন্যা চারিদিকে। গৌরী বন্দুক উঁচিয়ে ধরে রইল হাতে। কিন্তু কোথায় বাবাজী? ঘর তো ফাঁকা।
হঠাৎ চোখ যায় দূরে এক জায়গা থেকে সাদা ধোঁয়া কুণ্ডলী পাকিয়ে উঠছে। আর একটু পরোখ করতেই, ওই তো! এক বিরাট সিংহাসনে আসীন বাবাজী, পরনে গেরুয়া বসন।
গৌরী ছুটে যায় সেই দিকে। বাবাজী একটা হাত তুলে থামিয়ে দেয়, ‘ব্যস, ব্যস, আর এগিয়ো না বেবি। মাত্র একটা গুলিই কিন্তু বেঁচে আছে তোমার ওই বন্দুকে। পারবে ওটা দিয়ে আমায় শেষ করতে?  উঁহু, পারবে না। তারপর আমার পর্ব শুরু হবে। ঝাঁজরা হয়ে যাবে তোমার সুন্দর শরীরটা। তার চাইতে এসো আমরা বন্ধু হই’।
গৌরীর সারা শরীর কাঁপছে। বুকটা হাপরের মতো উঠছে নামছে। তবু ও লক্ষ্য স্থির করল। ঠিক তখনই পেছন থেকে কেউ চেঁচিয়ে তার উদ্দেশে বলছে, ‘ওই শেষ গুলিটা নষ্ট করবেন না ম্যাডাম। ওই ঘৃণ্য জন্তুটা আমার শিকার। আপনি সরে দাঁড়ান’।
গৌরী হতবাক, ‘রোহিত! তুমি এখানে কীভাবে?’
এবার একটা নয়, পর পর দুটো গুলি ও বাবাজীর হাত আর পা লক্ষ করে ছুঁড়ে দিল ওর বন্দুক থেকে।
সিংহাসন থেকে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে শিব শম্ভু। গুলিটা পায়ে লেগেছে। আর একটা ডান হাতে। থরথর করে কাঁপছে হাতটা। তবু সে হামাগুড়ি দিয়ে শরীরটাকে ঘষটে ঘষটে সামনে এগোতে চাইছে। বাঁ হাতটা বাড়িয়ে দিতে গেল একটা দেয়ালের দিকে।
এবার আরও দুটো গুলি ছুটে আসে। তবে ওটা রোহিতের বন্দুক থেকে নয়। দূরে দাঁড়ানো অনুভবের হাত থাকে। চোখ দুটো পাকা শিকারির মতো জ্বলজ্বল করছে। অনুভবের এমন মূর্তি আগে কখনও দেখেনি গৌরী।
চিৎ হয়ে পড়ে আছে শিব শম্ভু। যন্ত্রণায় চিৎকার করছে। রোহিত ছুটে গিয়ে ওকে তোলার চেষ্টা করে। অনুভবের মধ্যে কোনও তাড়াহুড়ো নেই, খুব ধীরে সুস্থে সে শিবুর কাছে পৌঁছে ওর চুলটাকে মুঠো করে টান মারল। সঙ্গে সঙ্গে উপড়ে এল পরচুলা। অনুভব এবার চড়চড় করে টান দেয় ওর গালের চামড়ায়। খসে গেল মুখোস।
রোহিত বিষ্ময়ে চিৎকার করে ওঠে ‘এ কী, ও তো বাসুবাবা। সেই ঝাড়ফুঁক করা ভন্ডটা’।
অনুভবকে বিধ্বস্ত দেখাচ্ছে। তবু স্মিত হাসি মুখে, ‘কী নাম বললে? বাসু বাবা? হ্যাঁ, প্রসথেটিক মেক আপ করে ও বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন নাম ভাঁড়িয়ে ঘুরে বেরাত। এদিকে রটিয়ে দিয়েছিল,  রঙ্গিত নদী পেরিয়ে জঙ্গল পেরিয়ে সে এখন সিকিম ঘাঁটি গেড়েছে। যাতে ফোর্স ওইদিকেই এনগেজ থাকে। তবে আমার কাছে খবর ছিল, শিব শম্ভু কলকাতায় ঢুকে পড়েছে। এবার পুজোয় বড় একটা নাশকতামূলক ঘটনা ঘটাবার ছক কষে ফেলেছে।
গৌরীর দিকে ঘুরে তাকায় অনুভব, ‘যাক, তোমার ড্রিম প্রজেক্ট আজ সাকসেসফুল। বাবাজী পাকড়াও অভিযানে তুমি সফল। রোহিত, ফোর্স ডেকে  জানোয়ারটাকে থানায় নিয়ে যাও। সামনেই আশ্রমপুর থানা। ওসি-কে সব বলা আছে। গাড়িতে তুমি থাকবে বাবাজীর পাশে। এ যা এলিমেন্ট, আমি অন্য কাউকে বিশ্বাস করতে পারি না’।
গৌরী স্থাণুর মতো দাঁড়িয়ে রয়েছে এক জায়গায়। চোখের সামনে যা ঘটে গেল, কিছুতেই বিশ্বাস হচ্ছে না এখনও। যেন একটা আস্ত অ্যাকশন মুভি।
কিন্তু অনুভব,কবে ফিরল কলকাতায়? রোহিতকে সঙ্গে নিয়েই কি এসেছে? অবশ্য রোহিতকে সে সংকেত দিয়ে যাচ্ছিল, যাতে প্রয়োজনে ও ফিল্ডে নামতে পারে।
অনুভব সামনে এসে গৌরীর হাতটা ধরে, ‘চলো, সঙ্গে আমার গাড়ি আছে। সামনে আশ্রমপুর থানা, ওখানে ওসির কোয়ার্টারে তুমি একটু বিশ্রাম করবে। যা ধকল গেল ’।
গৌরীর মুখ দিয়ে কথা সরছে না, তবু কষ্ট করে বলে, ‘কিন্তু তুমি কীভাবে এখানে …
-সব বলব, তার আগে এই অভিশপ্ত বাড়ি থেকে বেরোতে হবে। ।
আশ্রমপুর থানার ওসি রীতিমত ছোটাছুটি শুরু করে দিয়েছে। হাত কচলাতে কচলাতে বলে, ‘ম্যাডাম, আপনার যা লাগবে বলবেন। আমি লোক দিয়ে সব অ্যারেঞ্জ করিয়ে দিচ্ছি’।
অনুভব হাত তুলে তাকে থামায়, ‘এত অস্থির হওয়ার কিছু নেই। আমরা আজকের রাতটুকুই আশ্রয় নিচ্ছি। কাল ভোরে বেরিয়ে যাব’।
ওসি এতবড় একটা জিব কেটে বলে, ‘ছি ছি কী যে বলেন স্যার? আশ্রয়! আমি ধন্য হয়ে যাচ্ছি, আপনাদের পায়ের ধুলো এখানে পড়ল বলে!
সঙ্গে সঙ্গে চা জলখাবার এসে হাজির। গৌরী মাথা নীচু করে বসে আছে, মাথাটা এখনও ঘুরছে। শরীরের একটা গা গোলানো ভাব। ওই ভয়ঙ্কর অবস্থাটা চোখের সামনে বার বার ভেসে ভেসে উঠেছে। যদিও চাকরি জীবনে সে অনেক এনকাউন্টার দেখেছে।
অনুভব ওর পিঠে হাত রাখে, ‘বাথরুমে গিয়ে চোখে মুখে জল দিয়ে এসো, তারপর খাবার খাও। অনেকক্ষণ খালি পেট।  সেই কোন ভোরে বেরিয়েছ’।
চা জলখাবারের পর্ব শেষ হতেই একজন ডাক্তার গলায় স্টেথোস্কোপ ঝুলিয়ে ঘরে ঢুকল। পেছন পেছন ওসি।
গৌরী ভ্রু কুঁচকে তাকায়, ‘কী ব্যাপার, ডাক্তার কার জন্য?’
অনুভব হাসে, ‘তোমার পালস বিট অসম্ভব হাই চলছে। তাই লোকাল ডাক্তারবাবুকে কল দিলাম। উনি প্রেশারটাও মেপে দেবেন’।
গম্ভীর মুখে হাত পা চোখ মুখ টিপে টিপে পরীক্ষা করে ডাক্তার বলে, ‘ভয়ের কিছু নেই। জাস্ট একটা অ্যাংসাইটি অ্যাটাক হয়েছে। রাতে ভাল একটা ঘুম চাই। ওষুধ লিখে দিচ্ছি। ঘুমটা এলেই এভরিথিং উইল বি অল রাইট’।
রাতে নাম মাত্র খাবার মুখে ছোঁয়ায় গৌরী। কিছুই ভাল লাগছে না। মাথায় টিপটিপ যন্ত্রণা। বাবাজীর ওই বীভৎস মুখটা বার বার চোখে ভাসছে। কাটা গেল, ভ্রুর অর্ধেক অংশ নেই, কুতকুতে দুটো চোখ, আস্ত এক শয়তান’।
ঘুমের ওষুধ খেয়েও বিছানায় সে এপাশ ওপাশ করে চলে। অনুভব ঘরে এল অনেক পরে। সারাদিন আজ সে ব্যস্ত ফোনে।
কাছে এসে মাথায় হাত বুলিয়ে বলে, ‘ঘুম আসছে না তো? দাঁড়াও, আসছি। আগের মতো চুলে বিলি কেটে দিই? তুমি তো বলতে, আমার হাতে নাকি ম্যাজিক টাচ আছে, ছোঁয়ালেই ঘুম’।
গৌরী নিঃশব্দে হাসে।
আজ আকাশ ভর্তি তারা। জানলা দিয়ে খোলা আকাশটা ভারি সুন্দর দেখাচ্ছে। মুঠো মুঠো চুমকি যেন গেঁথে দিয়েছে কেউ আকাশের গায়ে। অনুভব গৌরীর মাথায় হাত বুলিয়ে চলে। ফিসফিস করে একবার বলে উঠল, ‘আজও তুমি আমায় বুঝলে না’।
গৌরী নিরুত্তর। গভীর ঘুম তার দু চোখে নেমে এসেছে। তার ভেতরেও অনুভবের হাত দুটো চেপে ধরল সে তার চোখের পাতায়। ক্রমশ সেই হাত ভিজে উঠতে থাকে অনুভবের। গৌরী কি কাঁদছে?

ক্রমশ…

Spread the love

You may also like...

error: Content is protected !!