কর্ণফুলির গল্প বলা সাপ্তাহিক ধারাবাহিকে সৈয়দ মিজানুর রহমান (পর্ব – ১৭)
by
·
Published
· Updated
অনন্ত – অন্তরা
দেখুন- জীবনে এতো সময় কোথায় পাবো বলুন – অপচয় করার মতো সময় আমার নেই – ভাবাবেগ আছে, ভাব করার জন্য নয়, ভালবাসার জন্য, একজন জীবনসঙ্গী খুঁজে নেওয়ার জন্য । অনুভূতি প্রখর,আছে কল্পনায় সাত রঙের রামধনু,সেখান থেকে রঙ নিয়ে আঁকতে চাই বাস্তবতার এক নতুন উন্মুক্ত দিগন্ত যেখানে অবাধ বিচরণ থাকবেন দু’টি মনের। ঝর্ণা থাকবে- থাকবে নদী, থাকবে দুকূল উপচে পড়া ভালবাসা,পাহাড় থাকবে, থাকবে তার পাদদেশে ছোট্ট একটি নান্দনিক কুঁড়ে ঘর বাতায়ন বেয়ে ভেসে আসবে ঝর্নার কলরব,স্বচ্ছ জলের অববাহিকায় জলে আধো ডুবা পাথরে মুখোমুখী কখনও পাশাপাশ প্রাণ খুলে প্রেমের দর্পনে চুখাচুখি অন্তর চিনে নিতে জীবন দর্শনে । সমুদ্রের বিশালতায় খুঁজে নেব অনুভবের ছায়াপথ,নীল আকাশের ডানা মেলবো চাতক মনের খেয়ালে,জলের নুপূর পরাবো প্রভাতে শিশির বিন্দু কুঁড়িয়ে, ঘাসের ডগায় শিশির কণা ভরের আলোয়ে মুক্তদানায় গলার মালা দেব বানিয়ে, যাবো চলো ঐ গোধূলী বেলায় বেড়াতে হাতে হাত ধরে গোধূলীর রঙ মাখবো দু’জনে । ভালবাসার স্বপন হৃদয় আলয়ে প্রেম প্রদীপ জ্বালা্বো ।
বাহ্ অনেক ভালো স্বপ্ন দেখে আপনি – কল্পনা শক্তি অনেক প্রখর দেখছি – এতো প্রতিভা যার মনে প্রাণে সে কী করে এতদিন একা? কৌতূহলী মন প্রশ্ন করে, জানতে ইচ্ছেও করে, যদিও সে অধিকার আমি চাই না, তবু কথা প্রসঙ্গে এসে গেল তাই ইচ্ছে হলে বলতে পারেন ।
“হৃদয় মন্দিরে ছায়ামুখ নিরন্তর আনাগোনা করে,
প্রকৃতির ছায়াতলে বীজমন্ত্র অবহেলায় ছিল পড়ে ।
অঙ্কুরিত হবার উদ্যমে ছায়ামুখ সঙ্গে ঘোরে সন্ন্যাসী হয়ে,
করবে সে ব্রত পালন ছায়ামুখ উদ্ধারে- বৃষ্টি লগনে
অঙ্কুরিত হবার স্বপনে ।”
বাহ্ কবির ভাষায় সাড়ে চার লাইনে ব্যাখ্যা টেনে সারমর্ম বানালেন! অপূর্ব বলার ভঙ্গিমা ।তবে হ্যাঁ আপনি ভালো সাহিত্যিক এটা অকপটে স্বীকার না করে উপায় নেই । যদি এই লেখার সাথে মনটা হুবহু মিলে যায় তাহলেই জীবনের সার্থকতা । একটি অবিশ্বাস সব সময় তাড়া করে ফেরে মিষ্টি ভাষাভাষীর মানুষ দেখলে যেমন ঘর পোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলে ভয় পায় । সমাজজীবন সমাজচিত্র তাই চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় ।
ধন্যবাদ, তবে আমি সাহিত্যিক নই- আমি আমার মনের ভাব বা ইচ্ছে, স্বপ্ন , আশা যে ভাবে দেখি তার নিমিত্তেই কথা বলার চেষ্টা করি আমার নৈতিকতা ও আদর্শের জায়গা থেকে এর বেশী কিছু নয় ।