T3 শারদ সংখ্যা ২০২২ || তব অচিন্ত্য রূপ || বিশেষ সংখ্যায় সুব্রত মিত্র

সুপ্ত বাণী

যন্ত্রণায় সিক্ত প্রহর যাপন আমার আপন
নিদ্রাহারা নিশীথে কে এসে ফিরে যায়
কিই বা আছে তাহার কারণ?
ভেজা বালিশ
স্মৃতির কাছে করেছিল নালিশ
আগন্তুক পাখি আজ ঠিকানা খুঁজে পায় নির্দ্বিধায়
জানালার বাইরে আকাশের গায়ে সালিশি হয়
বিপক্ষে আগুন; পক্ষে পালিশ হেসে রয়
উত্তর খুঁজে খুঁজে ফল সব ঝরে যায়
মাঝি সব কোনমতে বুঝে বুঝে, ভয়ে সে কথা না বাড়ায়।

কথা দিয়ে কথা রাখার জাহাজ গেছে ডুবে মৌলিক কারণে
কথার কথা ই কথা হয়ে ফোটে আজ মিথ্যাকে গ্রহণে
প্রজন্মের সামনে একটা বিপ্লব আসিবে আগামীর ভোরে
আসিবে গতি; জাগিবে জাতি;যদি না থাকি মোরা ঘুমের ঘোরে।

ইতিহাস হবে অবনতি
আসিলে ইহ উন্নতি
উষার বাতাস
দিলো এই আভাস
ফিরায়ে আনিব মোরা পুরনো সংহতি,
সবুজের মাঝে অবুঝের ছায়া
নিল কাড়িয়া প্রানের মায়া।

আজ শুধু ভালোবাসা ভেঙে যায়
শুকনো ডালের খোসার মতো
পিপীলিকা তবুও সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে হেঁটে যায়
মনে লয়ে পাহাড় সমান প্রবল ক্ষত
সারিবদ্ধ সংহত আছে দেখো অহরহ অবিরত
সভ্যতার চেতনাকে করিতে জাগ্রত
নিরক্ষর প্রতিকূল
ক্রমশ ফোটায় ফুল
তথাপি সময় তাহারে করিছে বারংবার প্রয়াস করিতে প্রতিহত।

বিগ্রহের বাণী

আমরা আসলে আসল মানুষ নই
আমাদের ভিতরকার সুপ্ত মানুষ যিনি তাঁরে খুঁজি কই?
কেউ দেয় গালি;
কেউ দেয় তালি;
কাকে কি যে বলি?
শিক্ষিত সমাজ গেছে গোল্লায়
বুদ্ধিজীবী আজ তন্ময়ী ভূমিকায়;
আসলে নকলে গোপনে সকলে করছে কোলাকুলি।

ভুলে ভরা পৃথিবীতে
ভুল করে করি শুধু সমৃদ্ধির খোঁজ,
মিছে মিছে করি তালাশ
অভিনয়ে জীবন খালাস
নিজের কাছেই নিজে বোঝা হই রোজ।

হাসিতে পরিহাস রাশি রাশি আজ
সোজা পথ বেঁকে যায়; সোজা কথা ভেঙে যায়
বিবেকের পলায়ন ঘটিতেছে অতি সহজেই আজ,
নাটকের ভাঁজে ভাঁজে
তারা বহুরূপী কেবল সাজে।

মেঘে ঢাকা ঐকতান বিবর্ণ ব্যাকরণ আঁকে বাতাসে
প্রগতির প্রহর আমায় ফকির বানায় ক্রমে ক্রমে
একদা প্রতিজ্ঞা করেছিনু মনে;নাহি যেন যাই কভু থেমে
এখনো পাথরের গায়ে লেখা আছে গর্বের বাণী
এই মধু ছায়ায় রয়েছে যে মায়া
অধীর আগ্রহে ওঠে জাগি বিগ্রহেরও বাণী।

হতভাগা কবি ও কবিতা

এত অপমান পাবো বলিয়া লিখিয়াছি কত কবিতা
কবিতায় তোমাদের দিতে পারি নাই সুখ;দিয়াছি যে ব্যথা
প্রকাশ্য প্রতিবাদের কবিতা লিখিবার তরে
তাহারা আক্রমণ করিয়াছে মোরে বারে বারে
বোঝে নাই তাহারা এই মনের কথা
বিদায় দেয় মোরে আলোক রঞ্জিত সমাবেশ
সর্ব সময়ের সাথি হইয়া ঘিরিয়া ধরে নিরবতা।

আমি যেন রহস্য মানব এক এই মুক্ত ধরার বুকে
নীল আকাশের গায়ে পাখিরা উড়িয়া বেড়ায়
কত অব্যক্ত ব্যথার পাহাড় জমিয়া আছে ওদের ঠোঁটে
অনিমেষ দরবেশ অলিন্দে বিদায় রেশ
অহমিকা ক্রেতা হয়,
ভগ্নচুরে ছেঁড়া মাকড়সার জালে মায়া
মমতার প্রত্যাশা করিয়াছে অপহরণ ক্ষমতার কায়া
থেমে যায় কবিতার স্থান,
জীবন্ত স্মৃতির প্রাণ হয় ম্লান।

বিবেচনা হয় কেনাবেচা
নকলের মাঝে আসলেরে যায় না চেনা
লিখে যায় কবি কবিতায় সময়ের কথা
ভুলে যায় মানুষ কবিতার ভাষা
পুনরায় একদা কবিতাকে খুঁজে চলে সময়
কবিকে খুঁজে বেড়ায়
অকালে ঝরে যাওয়া গাছের পাতা,

জীবনে যারে দিলে শুধু অপমান
সময়ের হাত ধরে সময় তাঁরে দিবে সম্মান
আজিকার কবিতা কেহ করিল না মূল্যায়ন
এই দুঃসময়ের মাঝপথে
খোঁড়া হয়ে দাঁড়ায়ে আছে তাহার নাম কৃত্রিম আস্ফালন।

পথের বাঁকে

ঘূর্ণায়মান পৃথিবীর হাত ধরে কোথায় চলে আসলাম
চলে যাওয়া আসার মাঝে কত কি যে পেলাম…!
এখন পথের বাঁকে ভালোবাসি যাকে তাকে
ভালবাসি উচ্চবৃত্ত;নিম্ন বৃত্ত; সমবৃত্ত সকল মানুষের মাকে
তোমরা যে এসেছিলে আমাকে ভালোবেসে
বিদায় কালে তবে চোখে কেন জল আসে?
আচানক দেখা হয়ে যায় কত জানা অজানা মুখ
সমাদৃত প্রহর দেয় আলোড়ন
দিয়ে যায় জীবনের সুখ।

 

 

বিদ্যুতের প্রয়াণ

ঘরের বাইরে বেরোতেই নীরব উঠুন
সতেজ ফুলগাছে রঙিন স্বপ্নের বুনন;
রাস্তার ধারে সবুজ ঘাসের শান্ত হাসি
সবই আছে রাশি রাশি;
তবু বেদনার ইশারা দিয়ে যায় এ কোন নিষ্ঠুর বাঁশি?

প্রতিদিনের প্রভাতে যার সাথে হয় দেখা
চলে গেল সে; দিয়ে গেল ব্যথা
নিরবে কেঁদে ভাসে পতিত মৃত্তিকা,
সবাইকে কাঁদিয়ে কাউকে কিছু না বলে
গেল চলে বিদ্যুৎ নিল বিদায় একা।

ভোরের হাওয়ায় হিমেল বাষ্পে
তোমার মৃত্যু সংবাদ স্তব্ধ করে দিল প্রেরণার খাতাকে
যেন সূর্য খসে পড়ে
পৃথিবী অন্ধকার হয়ে হয়ে যাওয়া স্তব্ধতা,

মেনে নেওয়া যায় না এই আকস্মিক মৃত্যু সংবাদ।

এই মানতে না পারা অন্ধকার পাড়ার প্রতিটি ঘরে ঘরে
আমার অগ্রজ কবিতার রচনায় তোমাকেই মনে পড়ে
যেখানেই থাকো ভালো থেকো বিদ্যুৎ,
থেকো মোর অন্তরে।

তোমার অকাল প্রয়াণ
শোকের গভীর সমুদ্র করেছে রচনা
আকাশ সমান ভাষার সাক্ষী দেবো বলে তোমায়
যাওয়ার কালে নীরবে পথ নিলে বেছে
বিধাতার প্রতি একটি বারও তুমি করিলে না মানা।

Spread the love

You may also like...

error: Content is protected !!