অনন্য সৃষ্টি সাহিত্য পরিবার
পাক্ষিক প্রতিযোগিতা পর্ব – ১২
বিষয় : রঙবদল
তারিখ : ১৮/০৯/২০২০
অকৃতজ্ঞ
রবি আর সোম দুই বন্ধু।রবির বাবা দিনমজুরের কাজ করেন। সংসারে অনটন লেগেই থাকে।সোমের বাবা ব্যবসা করেন মোটামুটি স্বচ্ছল অবস্থা। রবি অনেক সময় অর্থাভাবে বই খাতা কিনতে পারে না।সোম বুঝতে পারলে সে নিজের হাতখরচের টাকা দিয়ে কিনে দেয় এবং মাঝে মাঝে বাবাকে বলে রবির জন্য কিছু টাকা জোগাড় করে দেয়। এমনকি রবির বাড়িতে কিছু খাবার না থাকলে তাকে জোর করে বাড়িতে ডেকে আনে এবং একসঙ্গে খাওয়া সারে।সোমের মা ও রবিকে খুব স্নেহ করেন।
একদিন সোমের বাবা ব্যবসা স্থল থেকে আসার সময় দূর্ঘটনায় পড়েন। উনাকে হসপিটালে ভর্তি করা হয়। অবস্থা বিপদজনক হওয়ায় হসপিটাল থেকে বলা হয় কোনো বড়ো নার্সিংহোমে নিয়ে যেতে বলে। সেইমতো নামকরা এক নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে বলা হয় রুগীকে ঠিক সুস্থ করতে গেলে দশ লক্ষ টাকা লাগবে তা না হলে দুটি পা ই বাদ দিতে হবে। টাকা জোগাড় করতে গিয়ে নিরুপায় হয়ে সোমের বাবার ব্যবসা স্থল বিক্রি করে দিতে হয়। এরকম সময় রবি আর সোম চাকরির জন্য যে ফর্ম পূরণ করেছিল তার ইন্টারভিউ এর সময় হয়ে আসে। দূরের শহরে শীট পড়ায় রবি তার খরচ জোগাড় করে উঠতে পারেনি।সোম জানতে পেরে রবিকে বলে- দেখো ঐ দিনই বাবার অপারেশন হবে আমি তো যেতে পারবোনা আমার কাছে কিছু টাকা আছে তুমি যাও। রবি ইন্টারভিউয়ে সফল হয় এবং চাকরি পেয়ে যায়।
দীর্ঘ নার্সিংহোমে থাকার পর সোমের বাবা বাড়িতে আসেন। পুরো পরিবার দেনায় জর্জরিত খাওয়া দাওয়া ঠিক নেই অশক্ত শরীর খুব কষ্ট করে ঔষধ জোগাড় করতে হয়।সোম মাঝে মাঝে শ্রমিকের কাজ করে আর চাকরির জন্য হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়ায়। এভাবে অতি কষ্টে দিন যাপন হয়। একদিন সোমের কাছে কোনো টাকাপয়সা নেই ওদিকে বাবার ঔষধ শেষ বিভিন্ন মানুষের কাছে কিছু টাকা ধার চায় কিন্তু সবাই ফিরিয়ে দেয়। এমন সময় রবির সঙ্গে দেখা সোম বলে রবি বাবার ঔষধ টা কিনতে পারছিনা তুমি যদি কিছু টাকা ধার দিতে খুব ভালো হতো। রবি বলে এর আগেও তোমাকে আমি দুশো টাকা দিয়েছিলাম তুমি তো পরিশোধ করো নি,সব সময় টাকা টাকা করলে হবে আমার কি টাকার গাছ আছে ? তাছাড়া তুমিতো জানো আমি বিয়ে করেছি কালকে বৌ নিয়ে সুইজারল্যান্ড যাবো মধুচন্দ্রিমায় তোমাকে দেবার মতো টাকা আমার কাছে নেই।সোম বলে হ্যাঁ ঠিক ই বলেছো তুমি চাওয়াটাই আমার ভুল।