মার্গে অনন্য সম্মান চিত্রা বন্দ্যোপাধ্যায় (সেরার সেরা)

অনন্য সৃষ্টি সাহিত্য পরিবার

সাপ্তাহিক প্রতিযোগিতা পর্ব – ১০৭
বিষয় – মহালয়া

মহালয়ার ভোরে

আজ মহালয়ার ভোরে চারিদিক আগমনীর গানে শান্তি ও মুগ্ধতা একরাশ। শ্বেত শুভ্র কাশের বন হাওয়াই দুলে মায়ের আগমনকে স্বাগত জানাচ্ছে। উঠান জুড়ে শিউলি,কামিনীর সুবাসে যেন মনে হতো স্বর্গরাজ্যে বিচরণ করছি। দাদু তার দুই নাতি-নাতনি মানে আমাদের সাথে নিয়ে ধূপ জ্বালিয়ে রেডিও খুলে মহালয়া শুনতে বসলেন। সেই বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের গুরু গম্ভীর কন্ঠে চিরাচরিত স্তোত্রপাঠ এবং চণ্ডীপাঠে মুগ্ধ সকল মানুষ–
“দেবী প্রপন্নার্তিহরে প্রসীদ
প্রসীদ মাতর্জগতোহখিলস্য।
প্রসীদ বিশ্বেশ্বরি পাহি বিশ্বং
ত্বমীশ্বরী দেবী চরাচরস্য।।”
“ইয়া দেবী সর্বভূতেষু শক্তিরূপেন সংস্থিতা নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নম’ ! মহালয়া শোনার পর দাদু আমাদেরকে তার জীবনে ঘটে যাওয়া অলৌকিক ঘটনা ঘটার কথা বলতে আরম্ভ করলেন–
জানিস ভাই, মহালয়ার শোনার পর সকালে শিশির ভেজা ঘাসে খালি পায়ে হেঁটে যাচ্ছিলাম মর্নিং ওয়াকের জন্য লনে।
এইদিকে খারাপ আবহাওয়ার জন্য অসময়ে মাঝে মাঝে বৃষ্টি হচ্ছে। আকাশের চারিদিক মেঘে ঢাকা মেঘলা আবহাওয়ার জন্য সামনের মানুষকে ঠিকমত দেখা যাচ্ছেনা। সবকিছু যেন আবছা দেখাচ্ছে। বেঞ্চে বসে থাকা এক ভদ্রলোকের সামনে এগিয়ে গিয়ে দেখি,আরে এ তো আমাদের বিজনবাবু বসে আছেন। প্রিয় বন্ধুর সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করে এবং কোলাকুলি করে প্রায় আধঘণ্টার মত গল্প করতে করতে বেশ কিছুটা সময় কাটিয়ে দিলেন। বিজন বাবু পাড়ার দুর্গাপূজার সেক্রেটারি ছিলেন। তার কাঁধে ছিল অনেক দায়িত্ব। এই বছর তাদের পুজোতে রজতজয়ন্তী পালন করা হবে। তাই জনপ্রিয় সাহিত্যিক এর হাত দিয়ে পুজোর উদ্বোধন করা হবে। এই নিয়ে আলোচনা বেশ কিছুক্ষণ চলল। কারণ গত বছরই করোনা মহামারীর জন্য ঠিকমতো ধুমধামের সহিত পুজো করা যায়নি। তাই এই বছরে ভালো করে পুজো করতে হবে। কথা শেষ হলে বাড়ি ফিরে এলাম।
সকালবেলা বৈঠকখানায় ঘরে বসে চায়ে চুমুক দিতে দিতে এই কথায় ভাবছিলাম। এমন সময় কাঁদতে কাঁদতে বিল্টু এসে বলে দাদু আর বেঁচে নেই। তোমাকে এক্ষুনি যেতে হবে আমাদের বাড়ি। আমার তো কথাটা শুনে হাত পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়ার উপক্রম। ভয়ে আমার সারা শরীর থরথর করে কাঁপছে। উফ কি বাঁচাটাই না বেঁচে গেছি সেদিন। দেখ ভাই এখনো গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠছে।

Spread the love

You may also like...

error: Content is protected !!