সাপ্তাহিক কোয়ার্ক ধারাবাহিক উপন্যাসে সুশোভন কাঞ্জিলাল (পর্ব – ৯৪)

চূড়ানোব্বই
অনিকেতের কথা অনুসারে যাদবপুর থানার কাছে নেমে গেলাম। সেলিমপুর থেকে যে ব্রিজটা। কালিকাপুরের দিকে গেছে সেটায় না উঠে তার গা ঘেঁষে একটু এগিয়ে বাঁদিকে গলির ভেতর অনিকেতের ডেরা। ডেরাটি একটা দোতলা বাড়ি। ওই বাড়ির একতলার একটি ঘরে অনিকেত ও আর একটি ছেলে পেয়িং গেস্ট হিসাবে থাকে। আমি আর আমার দেহরক্ষী মোক্তার আলি ১৫ নাম্বার বাড়ির নীল দরজার টোকা মেরে অনিকেতকে ডাকলাম। কোনো উত্তর পেলাম না। আরও দুবার ডাকার পরও যখন সারা পেলাম না। তখন দরজায় আমার হাতের চাপ লাগতেই দরজাটা আলগা হয়ে গেলো। এবার দরজায় ঠেলা দিলাম দরজা খুলে গেলো। ঘর অন্ধকার। তাহলে কি অনিকেত বেরিয়েছে? কিন্তু এভাবে দরজা খুলে রেখে কেউ বেরোয়? চলেই আসলাম হঠাৎ ঘরের ভেতর থেকে একটা গোঙানির আওয়াজ কানে এলো। আমি তারা তারি মোক্তারকে ডাকলাম।বললাম, “দেখতো ঘরের ভেতর থেকে গোঙানির আওয়াজ আসছে কেন?”মোক্তার সঙ্গে সঙ্গে টর্চ জ্বেলে ঘরে ঢুকে পড়লো। আমিও পেছন পেছন ঘরে ঢুকে দেখি কেউ একজন। খাটের সঙ্গে পিছমরা করে বাঁধা। টর্চের আলোয় সুইচবোর্ড খুঁজে নিয়ে আলো জ্বাললাম। ভাবছি অনিকেতের দশা এমন কে করলো?মোক্তার তার দক্ষ হাত দিয়ে বাঁধন খুলে ছেলেটাকে সোজা করে শুইয়ে দিতেই আমি অবাক হয়ে বললাম,” আরে এতো অনিকেত নয় “। ছেলেটা তখনো ভয়ে কাঁপছে। মুখে মোটা প্লাস্টার সাটা। মোক্তার প্লাস্টার খুলে দিলো।
আমি খুঁজে এক গ্লাস জল খাওয়ালাম। কয়েকমেন্ট পর ও কিছুটা স্বভাবিক হয়ে বললো,”অনিকেতকে ওরা ধরে নিয়ে গেলো “।আমি জিজ্ঞাসা করলাম,”কারা অনিকেতকে ধরে নিয়ে গেলো? তুমি চেনো তাঁদের?”। ছেলেটা আমায় পাল্টা প্রশ্ন করলো,”আপনি কি অর্কদা?”আমি বললাম,”হ্যাঁ আমি অর্কদা । অনিকেত কি কিছু বলেছে?ছেলেটা অনেক স্বাবাভিক হয়ে উঠলো। তারপর যাযা ঘটেছে সব বলে গেলো।এই ছেলেটি অনিকেতের রুমমেট শ্রেয়ানের কথা জিগ্যেস করাতে বললো একই ক্লাস এ পড়লেও ওর সঙ্গে তেমন ভাব নেই। শ্রেয়ান মাঝে মাঝে এই বাড়িতেও আসতো। কিন্তু ওর সঙ্গে এই ছেলেটির সেরম ভাব জমতো না। তাই ও শ্রেয়ানকে এড়িয়ে চলতো। ছেলেটির নাম হলো অরুণাক্ষ চ্যাটার্জী। আজ সন্ধেয় অরুণাক্ষ ঘরে ঢুকে দেখে অনিকেত কম্পিউটারে এক মনে ড্রয়িং করছে। ও ঢোকার পড়ও অনিকেত তাকালো না। ও যখন জিজ্ঞাসা করলো অনিকেত কি করছে। তখন অনিকেত বলেছিলো ও একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছে। অর্কদা নাম একজন আসবে তার জন্যই ও কাজটা করছে। কাজটা শেষ হয়েছে তবুও একবার চেক করে নিচ্ছে। অরুণাক্ষ নিজেও একজন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার তাই Autocad
এ আঁকা অদ্ভুত শেপের ইংরাজির আলফাবেট দেখে ওর বেশ কৌতূহল হয়েছিল। তাই অনিকেতকে জিজ্ঞাসা করেছিল এগুলো কিসের ড্রয়িং। অনিকেত কোনো উত্তর না দিয়ে অর্কদা বলে একটা ফোল্ডার বানিয়ে সেটা সেভ করে রেখে দিলো। তার ভেতর থেকে সিডিটাও বের করে নিলো। বুঝলাম ফাইলএর কনটেন্টস সিডিতেও সেভ করে রেখে দিলো। কম্পিউটার ওদের দুজনের কমন প্রপার্টি। অনিকেত ভেবেছিলো পরে সুযোগ মতো দেখে নেবে। ঠিক সেই সময় দুজন মুখোশ পড়া বন্দুক ধারী লোক ঘরে হুড়মুড় করে ঢুকে পরে। একজন অরুণাক্ষর মাথায় পিস্তল থেকেই বললো, “অনিকেত কে আছিসরে শালা?”অরুণাক্ষ ঘাবড়ে গিয়ে আঙ্গুল তুলে অনিকেতকে দেখিয়ে দিলো। দ্বিতীয় জন অনিকেতের মাথায় পিস্তল থেকেই বললো,” কি খুঁজে বার করেছিস দেখা। বার কর শালা তারা তারি “