সাপ্তাহিক কোয়ার্ক ধারাবাহিক উপন্যাসে সুশোভন কাঞ্জিলাল (পর্ব – ৯৩)

তিরানোব্বই
হসপিটালে গিয়ে দেখি ওখানে আর্যমাও উপস্থিত। ভালোই হলো ওর সঙ্গে দেখা হয়ে। ওকে দেখলে তো কোথায় নেই, ওর সঙ্গে ফোনে কথা বললেও আমি খুব ভরসা পাই। ও যেন আমার রক্ষা কবচ। সবসময় বিপদে আপদে আমার পাশে থাকে। জীবনে এমন বন্ধু পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। নিজে থেকে কখনও আমার সামনে আসেনা।কিন্তু আড়ালে থাকলেও ও সব সময় আমার পাশে। আমি আর আর্যমা একসঙ্গে পুনিতকে দেখে গেলাম। সকালের পুনিত এর সাথে এখনকার পুনিতের কোনো মিল নেই। মাথায় ব্যান্ডেজ বাধা থাকলেও যেন যোগ বগ করে ফুটছে। ও নিজেই হসপিটাল থেকে রিলিজ চাইছে। ডাক্তার এক কোথায় ওর রিলিজ নাকচ করে দিয়েছে। ওর অনেক রক্ত ক্ষয় হয়েছে। আরও দুদিন রেস্টে থাকতে হবে। তারপর ছাড়ার চান্স আছে। হাসি ঠাট্টায় মিনিট পনেরো কাটালাম আমি আর আর্যমা পুনিতের কাছে। ডাক্তার আমাদের পনেরো মিনিটের বেশি থাকার পারমিশন দেন নি। ঘুমের ওষুধ দেওয়া আছে। পুনিতের কাছ থেকে আমরা চলে এলাম নিচের কাফেটেরিয়ায়। আর্যমা বললো যে পুলিশ রামদার আস্তানায় চিরুনি তল্লাশি করেও কিছু পায়নি। গ্যাসের ইনলেট পাইপ পাওয়া গেছে ঘরের পেছনে সিলিন্ডার আর গ্যাস পাঠানোর ব্যবস্থা। একটা ছোট কেবিনে এই ব্যবস্থা করে রাখা ছিল। ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞ বলেছে যে সমগ্র ব্যবস্থাটা খুব সম্প্রতি করা হয়েছিল। খুব সম্ভবত আমার জন্যই মানে আমাকে ঘিরে যে এতো সব ঘটনা ঘটছে তার জন্যই এতোসব ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। আমি গোকুল কুন্ডুর সম্মন্ধে জানতে চাইলাম। কিন্তু আর্যমা তেমন কিছু বলতে পারলো না। আমি লুলিয়ার মুখে সোনা সব কিছুই বললাম। এমনকি আমার ধারণা রামদার আসে পাশেই গোকুল কুন্ডুর আস্তানা থাকা উচিত।আর্যমার সঙ্গে কথা বলছি তখন আমার মোবাইলে একটা কল এলো। ল্যান্ডলাইনের একটা আননোন নাম্বার ফোনটা রিসিভ করলাম। ওপাশ থেকে এক মহিলার গলা। বললো যে পার্ক হোটেল থেকে কথা বলছে। ওদের বোর্ডার একজন জার্মান ডঃ বার্গেনস্টাইন আমার সাথে কথা বলতে চান। আমি বললাম লাইনটা ওকে ফরওয়ার্ড করতে।এবার ওদিক থেকে ভারী এক পুরুষ আমার সাথে জার্মান ভাষায় কথা বলতে লাগলো। বললেন উনি আমার সঙ্গে দেখা করতে চান। আমি যদি ওনার সুইট এ গিয়ে দেখা করি তাহলে দুজনেরই উপকার হবে। বুঝলাম এই ভদ্রলোকি আমায় জন্মদিনের কার্ড পাঠিয়েছেন। ইনি SOAM এর কর্ণধার। আমি বললাম আজ সম্ভব নয়। কাল সকালে ওনার সুইট এ গিয়ে দেখা করতে পারি। উনি রাজি হয়ে ফনটা রেখে দিলেন। তবে তার আগে বললেন সার্প অ্যাট 10 A.M সুইট নাম্বার 1029। অ্যাপয়েন্টমেন্ট ফিক্সড।
ফোনটা রেখে আর্যমাকে সব কথাই বললাম। আর্যমাও বললো যে আমার ওখানে যাওয়া উচিত। ওর মতে বার্গেনস্টাইন এর সাথে কথা বললে অনেক জট খুলে যেতে পারে। আর্যমা বললো ওই ধরণের হোটেলে যদিও নিরাপত্তাজনীত সমস্যা নেই তাও আমার সঙ্গে আন্ডার কভার পুলিশ দিয়ে দেবে। এখনো যেমন আমার সঙ্গে একজন এসেছে। যে দুজনকে বাড়ির বাইরে রাখা হয়েছিল তাদেরই একজন। আমি আর্যমাকে বললাম এবার আমায় যাদবপুরে একজনের বাড়ি যেতে হবে। আর্যমা বললো ওকেও বেরোতে হবে। কথা হলো যে আর্যমা নিজের জায়গায় যাবার আগে আমাকে আর আমার নিরাপত্তা রক্ষিকে যাদবপুরে নামিয়ে দিয়ে যাবে। আর্যমার সঙ্গে গাড়িতে যেতে যেতে লুলিয়ার কথা জিজ্ঞাসা করলাম। বললো ওকে পুলিশের হেফাজতে হসপিটালে ভর্তি করে চিকিৎসা করা হচ্ছে।লুলিয়াকে গোকুলকুন্ডুর ডেরার ব্যাপারে কিছু জিজ্ঞাসা করা হয়নি। একথা আর্যমাকে বলে ও বললো যে লুলিয়াকে ও জিগ্যেস করবে। পুলিশ কথা বের করার জন্য খুব অত্যাচার করে। আমি উদ্বিগ্ন হয়ে বললাম মেয়েটা দুখী ওকে কেন কোনো কষ্ট না দেওয়া হয়। আর্যমা আমার দিকে তির্যক দৃষ্টি দিয়ে বলছে, “বাপরে দরদ যেন একবারে উঠলে উঠছে”। আমরা দুজনে হো হো করে হেসে উঠলাম। চোখ পড়তেই দেখি গাড়ির ড্রাইভার আর আমার দেহরক্ষীও মুচকি হাসছে। ওরা বোধহয় ওদের এই হাইঅফিসারকে এমন খোস মেজাজে কখনো দেখে না। আমি অনিকেতকে ফোন করে বাড়ির নির্দিষ্ট ঠিকানাটা জেনে নিলাম। বললাম আমি আটটার মধ্যে আসছি।