।। ত্রিতাপহারিণী ২০২০।। T3 শারদ সংখ্যায় শমীক জয় সেনগুপ্ত

অথ সরস্বতী কথা

আদতে কলম তোলা মানেই লেখা নয়। জল ছুঁয়ে গেছে বলে যে মুনি হাত অপসৃত করে ভাবে নদী আসলে নারী, সে বোঝেনি আমি কতটা পুরুষ। ব্রক্ষ্মকল্পে আদিকালে কে যেন স্তব করে বলেছিল – ” হে সুন্দর, তুমি অনাবিষ্কৃত থেকো… হে অনাদি তুমি তলহীন হয়ে ওঠো… কেউ যেন খুঁজে না পায়!” আমি বললাম – ” বেশ, তাই হোক”।
সে বলল -তবে তোমায় চিনবো কি করে?
আমি – আমার স্বরে আমায় চিনে নিও। আমি স্বরের স্রোতে ঠিক ভাসিয়ে নেবো। আর যদি চিনতে ভুল করো, শব্দ কিন্তু অভিমান বোঝে … মন পড়তে শেখায়?
সে- তবে রূপ ধরো।
আমি- কল্পনায় সৃষ্টি কর গ্রীবা, মুখাবয়ব আর বাকিটা নির্মাণ কর মনে।
তারপর কতকাল কেটে গেল। সেই ঋষিকুমারের অপেক্ষায় অপেক্ষায় নদী হয়ে উঠলো ক্ষরস্রোতা। সে বড় বেশী কথা বলে, বড় বেশী পলি জমায় বুকে। অনুগামিনীরা জানতে চায় – “কি নাম তোমার?”
আমি বলি, নামে কি কাজ। শ্রবণ করো। ওরা আমাকে সম্মতি দেয় ঠিকই, কিন্তু তারপরে কিভাবে যেন আমি “শ্রুতি” শব্দে সাড়া দিতে থাকি।
আরো কিছুকাল গেলে, যে সকল পুণ্যলোভাতুর আচমন করে বলে –
“তদ্বিষ্ণু পরমং পদং , সদা পশ্যন্তি সূরয়ঃ
দিবীব চক্ষুরাততম “।
তাদের কর্মফলে কেমন ভার জমে ওঠে। আমি স্রোতহীন হই। ওরা আজো রূপ খোঁজে … সন্ধিৎসু চোখে কুচযুগশোভিত অঙ্গশোভা। প্রেমিক বলে ভুল করি যাদের তারা এসে বলে – “সুর কোথায় গেল!”
নিরুত্তর হতে হতে একসময় জলে টান পড়ে। শুকিয়ে যাই মন।
আদতে কলম তোলা মানেই তো লেখা নয়। জল ছুঁয়ে যায় না বলে হাত অপসরণ করে নেওয়া মুনি ভাবে নদী মানে সে ব্রক্ষ্ম তো হতেই পারে… তাই আমি দেবত্বে উন্নীত হতে হতে লোকচক্ষুর অন্তরালে হারিয়ে যেতে থাকি।
Spread the love

You may also like...

error: Content is protected !!