গদ্যানুশীলনে সুদীপ ঘোষাল (সিরিজ – ২)

গুল বাঘ

গ্রামের বাড়িতে আমাদের মাটির দোতলা বাড়ি ছিলো।সন্ধ্যাবেলা হলেই হ্যারিকেন নিয়ে সিঁড়ি বেয়ে উঠে যেতাম দোতলার ঘরে।আমরা ভাই বোন একসাথে পড়ছি, এমন সময়ে কালোদার গলা শুনতে পেলাম। পড়ার থেকে গল্প হত আমাদের বেশি। বড়দা সবাইকে চুপ করতে বললো,কিসের চিৎকার হচ্ছে।  শুনলাম নিচে হৈ হট্টগোলে সবাই ছোটাছুটি করছে।কালোদা আমাদের বাড়ির লোকাল গার্জেন। তিনি নিচে থেকে বলছেন,ওপরে যারা আছো,কেউ নিচে নামবে না। বড়দা জিজ্ঞাসা করলো,কেন কালো দা? কালোদা জোরে চেঁচিয়ে বললেন,গোলার তলায় গুলবাঘ ঢুকেছে। সাবধান। ওরা মানুষের রক্ত খায়। বড়দা বললো,গুলবাঘ আবার কি? কালোদা বললো,বাঘের মত দেখতে। কিন্তু বাঘ নয়। সাইজে একটু ছোটো।ঠিক হায়েনার মত। ওরা খুব হিংস্র।
বাড়িতে সবাই আতঙ্কিত। সকলে ঘরে ঢুকে খিল দিয়ে বসে আছে। উঠোন একদম ফাঁকা। আমার বড়দার ভালো নাম দিলীপ। কিন্তু বড় শ্রদ্ধায় ডাকনাম আমরা দিয়েছি,বাহাদুর বিশু।বাহাদুর বিশু পরোপকারী,বুদ্ধিমান,দরদী এবং সাহসী যুবক।বিশুর কাহিনী আমার স্মৃতিকথা,সাদা পাতায় জীবনরেখা গল্পে বিস্তারিত বর্ণনায় পাবেন।যাইহোক  বিশু বললো,আর পারা যাচ্ছে না। গুলবাঘ গোলার তলায় ঢুকে আছে। বের হচ্ছে না। দেখি খুঁচিয়ে বের করি।এই বলে একটা গিঁট তোলা লাঠি নিয়ে নিচে নেমে এলো বিশু। একহাতে তিন ব্যাটারীর টর্চ আর এক হাতে লাঠি।সকলে চিৎকার করে উঠলো,যাস না হতভাগা। কিন্তু বিশু মনস্থির করে ফেলেছে।তার বুদ্ধিতে সে বুঝতে পারছে এটা ভয়ংকর কিছু নয়। কিন্তু বিশু লাঠি দিয়ে খোঁচা মারার সঙ্গে সঙ্গে গুলবাঘ বিশুর কাছে চলে এলো।সে দেখলো,একটা ভোঁতা মাথা। টর্চ রেখে বিশু মারলো চার লাঠি। কিন্তু একটাও গুলবাঘের শরীরে পড়লো না। জন্তুটা লাফিয়ে উঠছে তিন ফুট।তারপর বিশু মাথা ঠান্ডা করে অপেক্ষা করলো কিছুক্ষণ।সে দেখলো,জন্তুটা বসে আছে আর মাথাটা নাড়াচ্ছে। তিন ব্যাটরীর টর্চের আলোয় দেখলো বিশু, ওটা মাথা নয়। একটা ঘটি। জলেরঘটি। অই ঘটিতে চারটে ট্যাংরা মাছ বিশু ছিপে ধরে রেখে ভুলে গেছে বাড়িতে বলতে। বিশু ঘটিটা হাত দিয়ে ধরে টান মারতেই খুলে গেলো। একটা বিড়াল মাছ খেতে গিয়ে ঘটিতে মাথা আটকে যাওয়ায় এই বিপত্তি। বিশু লাঠি রেখে বিড়ালটাকে ধরে আদর করলো। সবাই বেরিয়ে এলো ঘর থেকে। কালোদা বললো,শালা বিড়ালের লোভ আর যাবে না। মারো শালাকে। বিড়ালটা আদরে আব্দারে ডেকে উঠলো,ম্যাঁও।
Spread the love

You may also like...

error: Content is protected !!