কাব্য কথায় রবীন বসু

অন্ধকার গাঢ় হয়

তোমার খড়ের চালে আজ দেখি পুঁইলতা
বাড়ে ধীরে। বাড়ে মেয়ে গঙ্গামণির স্তন
বুনো ঘাস বাড়ে কিছু ক্ষেতে,
এ ঘাস নিড়ান না যায়
তাই জন্তু ঢুকে পড়ে কিছু।
তোমাকে দেখায় খুব চিন্তান্বিত মুখ‌।
অন্ধকারে বাড়ি মারো, হয়তো কোন গুপ্ত ওত
ওইখানে দাঁড়িয়ে ছিল, ওই যে দাবার অন্ধকারে।
না হলে সামনে বাজরা ক্ষেত
হায়নার দল ঢুকে আছে সেইখানে
লোহামণি সোরেনের চোখ আঁতিপাঁতি খোঁজে।
এ আঁধারে শ্বাপদেরা চুপ, নিঃশব্দে থাবা মারে
কুমারীর শস্যক্ষেত হয় লণ্ডভণ্ড
লালসার লালা চেটে নেয় গঙ্গামণি সোরেনের দেহ।
সংবাদ মাধ্যম নেই, সংকোচ লজ্জায় মুখ ঢাকে।
উৎসব শেষ হলে অন্ধকার গাঢ় হয় শুধু।

পাতা ফাঁদ

কে যেন দাঁড়ায় অন্তরালে
কারা দেখছে রাতের চাঁদ,
পুরুষ-থাবায় ওরা দোলে
রুপোলি রেখা পাতছে ফাঁদ!
অভাব ছিল ঘর ভরতি
জুটত না যে বাসি রুটি
টাকা যে চাই, চাকরি কই?
প্রতারণায় ফেঁসেছে সই !
ধ্বস্ত মেয়ে পড়েছিল একা
শেয়ালগুলো ছিঁড়েছে মাংস,
নেতা-মন্ত্রীর ছেলে সব ওরা
পুলিশ খাতায় ভদ্র অহিংস।
দিনের আলো যখন ফুটল
সবাই দেখলো নির্বিকার,
যে যার মত পাশ কাটালো
পুলিশ এলো লাইন পার।
তবু মেয়ের জ্ঞান এলো না
জীবন লড়ে হাসপাতালে,
তাকিয়ে রইলো বৃদ্ধা মা
চোখে আঁধার সেই সকালে।
জীবন নিয়ে ফিরে তো এলো
কিন্তু মেয়ে দাঁড়াবে কোথায়?
ভেবেচিন্তে তোমরাই বলো
ফাঁদ পাতা রুপোলি রেখায়!
Spread the love

You may also like...

error: Content is protected !!