মুড়িমুড়কি -তে সঙ্গীতা দাশগুপ্ত রায়

ওয়ান ফাইন মন্নিং অফ রাজপরিবার
বেড়ার গায়ে লতানো বেলি আর তরুলতা লাল সাদা ফুলের টুনি জ্বালাচ্ছিল কদিন ধরেই। নিচে সার দিয়ে বসে থাকা হলুদ আর ঝাঁঝগোলাপী সন্ধ্যামণিগুলো প্রশ্ন করেই ফেলল “বলি উৎসবটা কি?” দাওয়ার খুঁটিতে সাইকেলটা বাঁধা। সিটটা খুলে রোজ রাতে ভেতরে নিয়ে যান রানিমা। রাজকন্যার বালিশ কেনা হয় নি। ওতেই মাথা দিয়ে শোয়ানো হয়। ছোট মাথাখানা দিব্যি এঁটে যায়। অসুবিধা একটাই, রাজপুত্র যখন সকালে লোকের বাড়ি বাড়ি দুধ বিলি করতে যায় তখনই রাজকন্যাকে ঘুম থেকে তুলে দিতে হয়। সিটে না বসে সাইকেল চালানো এক্কেবারে অসম্ভব যে! রাজকন্যা ঘুম চোখ খুলে একটু ফিক করে হেসে নেয়। এখনও দাঁত বেরোয়নি তাই হাসিটা বেশিইই আদুরি লাগে। রাজবধূ দুধের ঘনত্ব দেখে রাজগাভীকে বলল এত জল খাস কেন বল দেখি? কী জোলো দুধ হচ্ছে দেখছিস তোর? রাজগাভী মাথা নিচু করে লজ্জায় শিং দিয়ে মাটি খুঁড়তে গিয়ে চমকে দু পা পিছিয়ে যায় । ডিমনিটাইজেশনে অচল হয়ে যাওয়া মাটির নিচে পুঁতে রাখা মোহরখানা এখুনি বেরিয়ে এসেছিল প্রায়। রাজমোটরটির দরজাগুলো খুলে তার মধ্যে মাটি ফেলে ভারি সুন্দর এক ছাউনি ওয়ালা বাগান বানিয়েছে রাজবধূ। রাজপুত্র বালতির জোলো দুধের এক ঘটি ওই বাগানে গিয়ে ঢালতে ঢালতে মা-কে বলে শিগগির দেখে যাও। গাছে গাছে কেমন রসগোল্লা হয়েছে! রাজবধূ দৌড়ে গিয়ে গালে হাত দিয়ে অবাক হয়ে স্বীকার করে রাজপুস্তকে লেখা রেসিপিটি তবে একদম ঠিকঠাক। লেবুগাছের গোড়ায় দুধ ঢাললে গাছের অম্লরস আর দুধ মিলে ছানা তৈরি করবে। তারপর লেবুফুলের মধু ওই ছানায় ঢুকে রসগোল্লা তৈরি হবে ঠিকঠাক। তবে খেয়াল রাখতে হবে গাছ যেন রোদ্দুর না পায়। তাহলে গরমের তাতে ছানা না হয়ে দই হয়ে যাবে সব। আর দই তো গাছে ফলে না! এখন রাজবধূর কৌতূহল হয় যদি দুধইত্যাদির সাথে গরম তেলও ঢালা হয় গাছের গোড়ায় তবে কি তা থেকে পানতুয়া বা ছানার জিলিপি হবে? শুনে রাজপাচক এসে আপত্তি করে। বলে গরম তেল ঢালার রেওয়াজ আপনাদের বংশে নেই মা। ওটা আলিবাবার বংশের রেসিপি। ওটি নেওয়ার আগে তাদের মর্জি আছে কিনা মর্জিনাকে দিয়ে জিজ্ঞেস করিয়ে নেওয়া ভাল নয় কি? কলরব শুনে চোখে সানগ্লাস পরে রাজ বেরিয়ে আসেন। ওনার তো ক্ক্ক্কিরণ সহ্য হয় না, সবসময় চোখে রোদচশমা তাই। রাজকন্যা আবার ফিক করে হাসে বাবাকে দেখে। ওদিকে বাইরের গেট ঠেলে বিরাট একখান খাতা নিয়ে এক ভদ্রলোক ঢোকেন। বলেন আদমসুমারীর কাজে এসেছি। বাড়িতে ক’জন আছে, কি কি নাম সব বলুন। রাজবধূ মধুর হেসে বলে আছে আর ক’জন? ভদ্দরলোকের বাড়িতে যেমন থাকে আর কি, তেমনি আছে। আর নাম? ওই ওঁর নামটি লিখুন আর পর পর সম্পক্কো ক’টা বসিয়ে দিন, ব্যাস। এবাড়িতে ওঁর নামটিই সব। ভদ্রলোক এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস করেন ‘কার নাম?” সানগ্লাস চোখ থেকে না নামিয়ে ‘তিনি’ মিষ্টি হেসে হাতটা বাড়িয়ে দেন।। হাই, অ্যাই অ্যাম রাজ… নাম তো শুনা হোগা…