Cafe কলামে ডঃ সঞ্চারী ভট্টাচার্য্য – ৯

নিজের সম্বন্ধে আর কি বলি ! পেশায় একটি কলেজের অধ্যাপিকা , তবে পাশাপাশি সংগীত শিল্পী হিসেবেও কিছুটা পরিচিতি আছে। আছে বিভিন্ন ভাষার আর দেশের প্রতি আকর্ষণ , সেই টানেই বেশ কিছু বিদেশী ভাষা করায়ত্ত করার সৌভাগ্য হচ্ছে , হয়েছে দেশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতাও - তবে সেটা নিছক কর্মসূত্রে । সম্প্রতি বিভিন্ন দেশের জাতীয় সংগীত নিয়ে কাজ করছি আর অনেক অজানা তথ্য যা আমিও জানছি , সেগুলোই লেখার মাধ্যমে সবার সাথে ভাগ করে নিচ্ছি ।

অবশেষে ১১৮বছর পর সে ফিরলো সিডনি থেকে

কথায় আছে ‘বই ‘ একবার হাতছাড়া হলে তা আর ফেরত আসেনা- কিন্তু তাই বলে ১১৮ বছর পর তার যে আবার যথাস্থানে স্বমহিমায় প্রত্যাবর্তন ঘটতে পারে! এমন ঘটনা নিঃসন্দেহে আশ্চর্যের, আর আজ সেই কথাই বলবো।
সম্প্রতি নিউজিল্যান্ডে ঘটেছে এমনই এক অদ্ভুত ঘটনা। প্রত্যাবর্তন ঘটলো এক বইয়ের। ১৮৯২ সালে প্রকাশিত জর্জ সেন্টসবেরীর বই ‘The Earl of Durbey’ ১৯০২সালের মার্চ মাসে নিউজিল্যান্ডের ওয়েলিংটনের নিউটন লাইব্রেরী থেকে এক গ্রাহক নিয়ে যান। আর সম্প্রতি সেই বই একটা পোস্ট ব্যাগে করে সবচেয়ে পুরোনো এই নিউটন লাইব্রেরীতে এসে পৌঁছায়। এমনিতে প্রচুর মানুষ এইভাবেই জিনিসপত্র এভাবেই ফেরত দেয়। কিন্তু ১১৮বছর পর ফিরে আসা এই বই দেখে গ্রন্থাগারিক পলিস নেলসন সহ বাকিরা রীতিমতো আশ্চর্য হন এবং এই বইটির এতো বছরের অন্তর্ধানের ইতিহাস জানতে যোগাযোগ করেন এমন একজনের সাথে যিনি দায়িত্ব নিয়ে এই বইটি ফেরত দেন।

তিনি হলেন সিডনির ৩০ বছরের অভিজ্ঞ এক পুরোনো বই সংগ্রাহক ও বই বাঁধাইকারী বারবারা স্কেমেলজার। বারবারা এই বইটি সিডনির সমুদ্র সৈকতের এক বইয়ের দোকানে দেখতে পান। বই খুলেই তার নিউটন লাইব্রেরীর স্ট্যাম্প নজরে পড়ে। আর তাঁর ১৪ বছর আগের স্মৃতি ভেসে ওঠে। তিনি ওই শহরেই থাকতেন। যাইহোক, হাত বদল করে বইটি charity lifeline এ অর্থসংগ্রহের উদ্দেশ্যে দান করা হয়েছিল। সেই শুরু। বারবারা এই সব নানা পুরোনো বইয়ের গুরুত্ব দেখে সেগুলো সংগ্রহ করেন। আর এই বইটি এতটাই ভালো অবস্থায় ছিল যে, লাইব্রেরীর কোন তাকের ১৯৪ নম্বর বই তার প্লেট লাগানো ছিল। এমনকি আঠা দিয়ে লাগানো, ফেরত দিতে দেরি হলে জরিমানার শর্ত ও অর্থমূল্য। কিন্তু বইটি তিনি আরো শক্ত করে পুনরায় সুন্দর করে বাধিয়ে ফেরত পাঠান যথাস্থানে। আর তাতেই রোমাঞ্চিত, উচ্ছসিত এই লাইব্রেরী কর্তৃপক্ষ। লাইব্রেরীর মুখপাত্র শ্যারন ম্যাকিনটাইয়ার জানিয়েছেন যে, বইটি এক অনন্য সংগ্রহ হিসেবে রাখা হয়েছে এবং এতো বছরের জরিমানাও মুকুব করা হয়েছে, সে মূল্য কিন্তু বর্তমান মুদ্রার নিরিখে নেহাত সামান্য নয়।

যাইহোক, বইটি দেখতে বারবারা যেতে চান তার পুরোনো শহরে, সম্প্রতি সেখানে করোনা পরিস্থিতি খানিক স্বাভাবিক হওয়ায় ভ্রমণের উপর নিষেধাজ্ঞা খানিক শিথিল হয়েছে। ১১৮বছর পর কোনো বইয়ের যে আদৌ আবার যথাস্থানে প্রত্যাবর্তন ঘটতে পারে তা নিঃসন্দেহে এক আশ্চর্যের ঘটনা।
Spread the love

You may also like...

error: Content is protected !!