মার্গে অনন্য সম্মান সুচন্দ্রা বসু (সেরা)

অনন্য সৃষ্টি সাহিত্য পরিবার
সাপ্তাহিক প্রতিযোগিতা পর্ব – ১০০
বিষয় – শুধু তোমারই জন্য
নীরব প্রতিশ্রুতি
শোভা বললে জানিস,ফেবুতে অতীশ নামে
এক খেলোয়াড়ের সাথে আমার বন্ধুত্ব হয়েছিল।কবিতা লেখে দারুণ। তাই মেসেঞ্জারে চ্যাটের মাধ্যমেই দুজনে কাছাকাছি এসে পড়ি চটপট। কাব্যের ভাষা সংগ্রহ করি।এরপর পরস্পরের কবিতা আদান প্রদান করি।ফেসবুকের অনেক গ্রুপেই সে কবিতা লেখে।আমিও লিখতে শুরু করি ।মেসেঞ্জারে লিখত আমি তার কবিতা লেখার প্রেরণা। সে বলত,আমার প্রতি সে মুগ্ধ। আমার সঙ্গে গল্প করলে তার উত্তেজনা হয়, শিহরণ জাগে।সে নাকি আমার প্রেমে পড়ে গেছে।সে ভিডিও কলেও আসতে বলতো। ভিডিও কলে কিছুতেই আসতে পারব না তা স্পষ্ট জানিয়ে দিই।
প্রশ্ন করলাম শোভাকে- কেন? সামাজিক ভীতি?
শ্রদ্ধা প্রেম সেক্স সব মিলেমিশে গেলে কি হয়?
প্রেমে তবে শরীর বড় না মন? শরীরের প্রেম তো ফুরায় একদিন!
উত্তেজিত শোভা বলল,জানিস অতীশের প্রেম
নিবেদনের সমস্ত কথোপকথন ওর বউ, মণি
জেনে ফেললে বাড়িতে অশান্তি হয়।মণি বন্ধুত্বের অনুরোধ পাঠালে অতীশের সম্মতিতে বন্ধুত্ব গ্রহণ করি।
মণি মেসেঞ্জারে বলে, দুজনের সব কথাই সে জেনেছে। তাই শুনে শোভা হেসে বলে, দিদিভাই অতীশ তোমার হাবি।সে তোমারই থাকবে।আমরা গল্প করি মাত্র,কাব্য রচনার জন্য।অতীশ শুধু বন্ধু তার বেশি কিছু নয়।
কিছুদিন পর দুটো গ্রুপে অতীশের পোষ্ট দেখে আশ্চর্য হই। কারণ যে কোন কবিতাই আমার মেসেঞ্জারে আগে পোষ্ট করতো। বলতো, “দিদিমনির ছোঁয়ায় পরিস্রুত হলে গ্রুপে তবেই পোষ্ট করব”।কিন্তু নিজের জন্মদিন নিয়ে যে কবিতাটা গ্রুপে পোষ্ট করেছিল সেটা আমার মেসেঞ্জারে পাঠায়নি। আমি কমেন্টবক্সে লিখেছিলাম যোগাযোগ রাখছে না কেন? তার কোন উত্তর পাইনি।
স্কুলে পরাকালীন মণি তার প্রেমেই মজেছিল। দুজনেই প্রেমে হাবুডুবু। খেলাধূলা করেই সি. ই.এস. সি তে চাকরি পেয়ে সে মণিকে বিয়ে করে।প্রতিদিন এখন সন্ধ্যায় অতীশ একপেগ খেয়ে কবিতার খাতা কলম নিয়ে নিজের ঘরে নিজের টেবিলে বসে। আর মণি চায়ের কাপ হাতে সিরিয়ালে ব্যস্ত থাকে। সময় মতো রাতে খাওয়া সেরে যে যার ঘরে নিজের বিছানায় রাত কাটায়।
ভাবা যায়,এরাই এক সময় প্রেমে হাবুডুবু খেয়েছে।এই বয়সে সেই প্রেম মুছে গেল?শুধু দুজনে কর্তব্যটুকু পালন করে? মনের কোনো টান নেই?বন্ধুত্ব প্রেম ভালবাসা এইসব ক্ষণিক অনুভূতি মাত্র?মোহমুগ্ধতায় পরিবার গঠন করে বংশ রক্ষকরা মাত্র?একসাথে তারা বন্ধুত্বের বন্ধনে পঞ্চাশ বছর সংসার করেছে।
অতীশ বলেছিল,জীবন একটাই। যেভাবে
খুশী উপভোগ করতে হয়। কিছু বুঝলেন দিদিমণি?অতীশের এই দিদিমণি ডাকটা শোভার
বেশ ভাল লাগতো। শোভা একটু দুঃখ পেয়েছিল। অতীশের কাব্যগুলো সে আর দেখতেই পায় না।বোধ হয় অতীশ কবিতা আর
পোষ্ট করে না।
ভাল লাগার সময়গুলো আর ফিরে আসে না।কিন্তু ভাল মানুষ আর ভাল সম্পর্ক চিরদিন স্মৃতির মাঝে অমর হয়ে থাকে। ভাঙা মনে শোভা বলল,বন্ধুত্ব শুধু একটা শব্দ নয়,শুধু একটা সম্পর্ক নয়,এটা একটা নীরব প্রতিশ্রুতি।আমি ছিলাম আমি আছি আমি থাকব।