“কি চায় ও” ধারাবাহিক বড়ো গল্পে সায়নী বসু (অন্তিম পর্ব)

সদ্য ফিজিওলজি তে মাস্টার্স করে উঠেছে সায়নী বসু। ছোটবেলা থেকে নাচ গান আর সব রকম গল্প উপন্যাস নিয়ে চর্চা করতে ভালোবাসে। তবে ভৌতিক সাহিত্যের ওপর ঝোঁক চিরকালই বেশি। কয়েক বছর নিজেও লেখালিখি শুরু করেছে। পাঠক পাঠিকাদের ভালোলাগাই তার প্রেরণার উৎস।

রৌনকের হাজার বারণ কে গুরুত্ব না দিয়ে পিয়ালী এই প্রস্তাবে রাজি হল, এই যদি একমাত্র রাস্তা হয় তবে তাই করবে ও, নিজের চোখের সামনে সন্তান কে শেষ হতে দেখতে কোন মা পারে! নিজের শেষটুকু দিয়ে পিয়ালী তাই চেষ্টা করবে ঋক কে বাঁচানোর।
অসীম বাবুর কথা মত বন্ডে সই করে ঋক কে হসপিটাল থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসা হল, চিকিৎসা বিজ্ঞান দ্বারা যে এই রোগের কোনো কিনারা পাওয়া গেল না ও তার ছেলে যে এভাবে সুস্থ হবেনা সেটা রৌনকও এতদিনে বেশ বুঝেছে তাই তার ও নিমরাজি হওয়ার কোনো কারণ নেই। অচৈতন্য অবস্থা তেই ঋক কে নিয়ে আসা হল ফ্ল্যাটে। পিয়ালী কে কি করতে হবে তা অসীম বাবু ভালো করে বুঝিয়ে দিয়েছেন। তবে এও জানিয়েছেন যে যখন তখন যা কিছু হতে পারে এবং তার জন্য মানসিক ভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে সবাইকে। এ লড়াই যে সহজ লড়াই নয়, একটা অশরীরীর থেকে তার কব্জা করা শরীর কে কেড়ে নেওয়া বড়ই শক্ত কাজ, সে সহজে ছাড়তে চাইবে না শরীর টাকে, তাকে প্রলোভন দেখতে হবে অন্য কিছুর, আরো প্রিয় কিছুর বা কারুর….
এ্যাপার্টমেন্ট এর মেন সুইচ অফ করা হয়েছে, গোটা অ্যাপার্টমেন্টের সব বাসিন্দা কে বলা হয়েছে আজ রাতটুকু একটু সহযোগিতা করতে, সমস্ত ইলেকট্রিক কানেকশন বন্ধ রাখতে ও কোনরকম চেঁচামেচি শুনেও ফ্ল্যাটের বাইরে না বেরোতে। সমস্তই অসীম বাবু বলেছেন একটু বাড়তি সাবধানতা অবলম্বন করার জন্য, যাতে আর কারুর কোনরকম ক্ষতি না হয়। তবে পিয়ালী দের ফ্ল্যাটের প্রত্যেক কোণ ভেসে যাচ্ছে মোমবাতির আলোয়, অসংখ্য মোমবাতির আলোয় আলোকিত করা হয়েছে যাতে সব পরিষ্কার দেখা যায়। ফ্ল্যাটে উপস্থিত মাত্র চার জন, অসীম বাবু রৌনক পিয়ালী ও ঋক। মাটির সাথে বিশেষ কিছু জিনিস মিশিয়ে সেই মিশ্রণ দিয়ে ঘরের মাঝে একটি বলয় তৈরি করেন অসীম বাবু। বলয়ের ভিতরে থাকবে পিয়ালী, তার কোলে থাকবে ঋক এর শরীর যার মধ্যে তোজো র আত্মা বর্তমান, আর থাকবে সেই ফ্রিজ যার জন্যই এত কিছু, যার ভিতরে অনেকদিন ধরে ছিল তোজো র অতৃপ্ত আত্মা, সঠিক সময় ও সুযোগের অপেক্ষায়, যা সে পেয়ে যায় ঋক কে নিজের বন্ধু বানিয়ে তার শরীর টাকে নিজের বশে এনে। আর বেশি সময় বাকি নেই, ঋক এর শরীর থেকে তোজো র আত্মা কে সরাতেই হবে, নাহলে যে ঋক এর আত্মা চিরকালের মত হারিয়ে যাবে! এই বলয়টির ঠিক পাশে একটি ছোট বলয় যাতে অসীম বাবু নিজে বসবেন শুচি বসন পড়ে, সাথে গঙ্গাজল, মাটি, স্ফটিক পাথর ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কিছু সামগ্রী নিয়ে। আর রৌনক থাকবে অন্য ঘরে, তাকে বারবার বারণ করা হয়েছে যাই ঘটুক না কেন সে যেন এই ঘরে বেরিয়ে না আসে!
অসীম বাবু বিরবির করে কিছু বলতে শুরু করেন নিজের আসনে বসে। ক্ষণে ক্ষণে ঋক এর দিকে গঙ্গাজল ও পবিত্র মাটি নিক্ষেপ করতে থাকেন। বড় বলয়টির মধ্যে ঋক কে কোলে নিয়ে তার দিকে তাকিয়ে থাকে পিয়ালী। কতদিন হয়ে গেল ছেলেটা ওঠেনি, মা বলে ডাকেনি, খেলা করেনি ছুটোছুটি করে, বায়না করেনি কোনোকিছুর জন্য। ইচ্ছে করছে ঋক কে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে, বলতে ‘ ফিরে আয় সোনা আমার, মানিক আমার, ফিরে আয় তোর মায়ের কোলে ‘। কিন্তু না, এটা তো ঋক নয়, ঋক এর শরীরে অন্য কেউ, ভালো করে মুখ টা লক্ষ্য করলেই বোঝা যাবে সেই নিষ্পাপ মুখটা কেমন শুকিয়ে শুষ্ক হয়ে গেছে, কিসের যেন অব্যক্ত কষ্ট লুকিয়ে আছে! অথচ পরেশ বাবুর বাড়িতে সেদিন কি করে গেল ঋক, কোন শক্তি তাকে টেনে নিয়ে গেল আর সেই শক্তি এখন কেন সাড়া দিচ্ছে না তবে! বেশ খানিকক্ষণ কেটে যায় বাইরে থেকে কোনোকিছুর শব্দ না পেয়ে রৌনকের মন টা আনচান করতে থাকে। এইসব এর জন্য দায়ী তো সে, শাস্তি যদি পেতেই হয় তবে সেটা তার পাওয়া উচিৎ, অথচ সেই শাস্তি ভোগ করছে তার নিরীহ স্ত্রী ও সন্তান। সেদিন যদি লোভে না পড়ে কম টাকায় ভালো জিনিস পাওয়ার আশায় ফ্ল্যাটে ওই ফ্রিজটা না এনে তুলতো তাহলে তাদের কাউকে আর এই দিন দেখতে হত না। এখন সব ভাগ্যের হাতে, ছেলেকে তো প্রায় হারিয়েই ফেলেছে, আজ মনে হয় পিয়ালী কেও হারিয়ে ফেলবে সে, ছেলে কে বাঁচাতে তো তার স্ত্রী নিজের জীবন কেও বাজি রেখেছে অথচ সে কাপুরুষের মত ভয়ে ঘরে লুকিয়ে বসে আছে।
মানসিক দোলাচলে ভুগছিল রৌনক নিষেধ অমান্য করে ঘরের বাইরে পা রাখবে কিনা সেই নিয়ে কিন্তু এমন সময় বাইরে থেকে পিয়ালীর চিৎকার কানে আসায় নিজেকে আর আটকে রাখতে পারলো না সে, এক ছুটে দরজা খুলে বেরিয়ে এলো এবং বেরিয়ে এসে যা দৃশ্য দেখলো তাতে সে নিজের চোখ কেই বিশ্বাস করতে পারছেনা। বড়ো বলয়টির মধ্যে থাকা ফ্রিজের দরজা খুলে গেছে এবং কোনরকম বৈদ্যুতিক সংযোগ না থাকা সত্ত্বেও তার ভিতরের আলো জ্বলছে, ঋক এর শরীর টা পিয়ালীর কোল ছেড়ে শূন্যে ভেসে উঠেছে! রিকের মুখ টা ফ্যাকাসে হয়ে উঠেছে আর তাতে ফুটে উঠেছে অজস্র বলিরেখা, ঠোঁটের কোণে রয়েছে অদ্ভুত এক ক্রুর হাসি। সেই দেখেই পিয়ালী ভয়ে চিৎকার করে উঠেছে।
এতক্ষন ঋক এর দৃষ্টি নিক্ষিপ্ত ছিল অসীম বাবুর দিকে কিন্তু রৌনক ঘর থেকে বেরিয়ে আসতেই ঋক এর চোখ চলে গেলো তার দিকে। রিকের শরীরটা ভেসে ভেসে বলয়ের বাইরে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেও সেই গণ্ডি পেরোতে পারল না তখন রিক দুরে টেবিলের উপর থাকা একটি ফুলদানি দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করল এবং ফুলদানিতে দ্রুতগতিতে ভেসে এসে রৌনকের গায়ে জোর আঘাত করলো আঘাতের আর সামলাতে না পেরে রৌণক মাটিতে বসে পড়ে। এতক্ষণ অসীমবাবু খেয়াল করেননি যে রৌণক ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছে কিন্তু রিকের নজর অনুসরণ করতেই দেখতে পান যে এবার সে রওনকের দিকেই তাকিয়ে আছে ।অসীম বাবু প্রচন্ড রাগান্বিত হয়ে বলে ওঠেন,
– তোমাকে বারবার বারণ করা সত্তেও তুমি ঘর থেকে কেন বেরিয়ে এলে রৌনক তোমার এখন বিপদ বাড়তে পারে তুমি আবার ঘরে ফিরে যাও তাড়াতাড়ি করে
– আমার স্ত্রী সন্তান যেখানে এত বড় বিপদের সম্মুখীন হয়ে রয়েছে সেখানে আমি কি করে কাপুরুষের মতো ঘরে বসে থাকি বলতে পারেন?
রৌণক বলে কথাগুলো। অসীম বাবু আবার বলে ওঠেন,
– যা বলছি তোমাদের সবার ভালোর জন্যই বলছি শোনো দয়া করে না হলে সবারই বিপদ বারবে।
অসীম বাবুর কথায় ভরসা পেয়ে রৌনক আস্তে আস্তে উঠে ঘরের দিকে যাওয়ার জন্য এগোয় আর তখনই এক অদৃশ্য শক্তি রৌণক কে আস্তে আস্তে বলয়টার কাছে নিয়ে আসার চেষ্টা করে।রৌণক সামনের দিকে না গিয়ে হঠাৎ পেছনদিকে সরে আসতে থাকে কি হতে চলেছে তা অসীমবাবু তৎক্ষণাৎ বুঝতে পেরে খানিকটা পবিত্র মাটি হাতে তুলে নিয়ে দিকে ছুড়ে বলতে থাকেন
– ছেড়ে দে ওকে। ও তোর কোন ক্ষতি করেনি ছেড়ে দে বলছি।
পবিত্র মাটির ছিটে ঋক এর গায়ে লাগতেই সেই অদৃশ্য টান আলগা হয়ে আসে ও রৌনক নিজের জোর খাটিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয়। রিকের চোখে-মুখে এবার একটু রাগ দেখা যায় ও সেই সাথে ফ্রিজের ভেতর জ্বলতে থাকা আলোটা দপদপ করে ওঠে। রিক সেই দিকে তাকায় ও তার দেহটা ভাসতে ভাসতে ফ্রিজের ভেতর ঢুকতে থাকে, অসীম বাবু পিয়ালী কে উদ্দেশ্য করে বলেন যে জোর করে টেনে ধরে রাখো রিকের শরীরটাকে কিছুতেই ঢুকে যেতে দিও না ওর ভিতরে আর তোমার যা বলার আছে বলো এবার। পিয়ালী উঠে দাঁড়িয়ে নিজের সব শক্তি প্রয়োগ করে ঋক এর শরীরটাকে টেনে ধরে বলতে থাকে,
– তোজো, সোনা আমার , তুমি তো ভালো ছেলে, লক্ষ্মী ছেলে আমার, তোমার বন্ধুর তো শরীর খারাপ ওকে তুমি ছেড়ে দাও, আমি তো তোমার মায়ের মতো তুমি আমায় নিয়ে চলো তোমার সাথে করে তোমার জগতে, আমি যাচ্ছি তোমার সাথে। তোমার সাথে আমি খেলা করব আগলে রাখব তোমাকে অনেক আদর করবো সোনা আমার ছেড়ে দাও তো বন্ধুকে আমায় নিয়ে চলো।
পিয়ালীর কথাগুলোর মনে হয় কোনো কাজ হল, যে গতিতে ঋক এর শরীর টা ফ্রিজে ঢুকছিল সেটা একটু স্তিমিত হল। রিক এর দৃষ্টি এবার পিয়ালীর দিকে গেলো। এক মুহূর্তের জন্য পিয়ালীর মনে হল যে সত্যি ঋক ই তার দিকে তাকালো করুন ভাবে, মনে হলো বলছে ‘ মা আমাকে বাঁচাও, এখানে খুব কষ্ট!’ পরমুহূর্তেই পিয়ালীর মনে হল এটা তো তার রিক এর দৃষ্টি নয়, এ যেন এক অন্য হিংস্র দৃষ্টি লোলুপ ভংগিতে তাকিয়ে আছে তার দিকে, বোধ হয় সিদ্ধান্ত নিচ্ছে কি করা উচিত, কাকে সাথে করে নিয়ে যাওয়া টা লাভবান হবে! পিয়ালী আরো একবার বলে উঠলো,
– আয়, ওকে ছেড়ে দে, আমায় নিয়ে চ।
মুহূর্তের মধ্যে একটা ঝটকা খেলো পিয়ালী, যেন কোনো ইলেকট্রিক শক লাগলো, ছিটকে পড়ল সে মেঝের উপর আর ঋক এর শরীর টা হুড়মুড়িয়ে ঢুকে যেতে লাগলো ফ্রিজটা র ভিতর আর পাল্লা টাও আস্তে আস্তে বন্ধ হতে লাগলো। অসীম বাবু চেঁচিয়ে উঠলেন,
– পিয়ালী হার মেনোনা…
পিয়ালী দ্রুত উঠে ঋক এর পায়ের পাতার যে শেষ অংশ টুকু বাইরে ছিল সেটাই টেনে ধরলো, এ যেন অন্য এক যমে মানুষে টানাটানির খেলা! একদিকে নিজের সঙ্গী হিসেবে একজন কে নিয়ে যেতে চাওয়া এক বিদেহী আত্মা, আর একদিকে মায়ের স্নেহ ভালবাসা। তবে এবার পিয়ালীর শক্তিও বোধ হয় হার মানতে চলেছে, নিজের সর্বশক্তি দিয়েও যে টেনে বার করতে পারছেনা ঋক এর শরীর টা কে!

– তোজো… তোজো…
পিয়ালী ও অসীমবাবু দুজনেই চমকে ওঠেন। দেখেন এক মহিলা ছুটে ঢুকলো তাদের ফ্ল্যাটের ভিতর দরজা টা কে ধাক্কা মেরে খুলে। মোমবাতির আলোয় যতক্ষণে তার মুখ টা দেখা গেল ততক্ষণে সে কাউকে তোয়াক্কা না করে বলয়টির ভিতর ঢুকে হাটু মুডে ফ্রিজের সামনে বসলো। আশ্চর্য রকম ভাবে ফ্রিজের পাল্লা টা হাট করে খুলে গিয়ে এক ঝলক নীল আলোয় বলয়টি ভরে ওঠে যেন ওইটুকু জায়গায় বিদ্যুৎ চমকে উঠলো। উপস্থিত সকলের চোখ ঝলসে গেলো মুহূর্তের জন্য ও পরমুহূর্তেই দেখা গেলো ফ্রিজটি বন্ধ হয়ে গেলো আর তার বাইরেই দুটো শরীর পড়ে আছে, একটি রিকের ও আরেকটি সেই মহিলার। পিয়ালী ছুটে গিয়ে ঋক কে জড়িয়ে ধরতে দেখে ঋক এর গা আর আগের মত ঠাণ্ডা নেই, তা যথেষ্ট গরম হয়ে গেছে। এমন সময় দরজা দিয়ে আরো একজন ‘ অরুণিমা ‘ বলে চেঁচিয়ে ঢুকলো। রৌণক ও কখন আবার ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছে তা কেউ খেয়াল ই করেনি। লোকটির দিকে তাকিয়ে সবাই চিনতে পারলো ইনি তো তোজো র বাবা! উনি ছুটে এসে মহিলা টি কে ধরে বিলাপ করতে লাগলেন,
– অরুণিমা, কেন বারণ শুনলে না? কেন এভাবে চলে গেলে?
উপস্থিত সবাই স্তম্ভিত। কোথা থেকে কি হয়ে গেল তা পিয়ালী রা বুঝতেই পারছেন। তোজো র বাবা বলতে লাগলেন,
– আপনারা চলে আসার পর ও পাগলের মত করতে লাগলো। অনেক চেষ্টা করেও আর পারলাম না ওকে আটকে রাখতে। বেরিয়ে চলে এলো। সব শেষ।
এই কথা শুনে অসীম বাবু আবার বলে উঠলেন
– যা হয় ভালোর জন্যই হয়। এমনিতেও আপনার স্ত্রী খুবই মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছিলেন। তোজো যদি তার মা কে না পেত সে অন্য কাউকে তার সাথে নিয়ে যেত। হয় তো আরেক টা মা এর কোল খালি হতো। নিজেকে সামলান। যা হওয়ার তাকে কি আর আটকানো যায় এভাবে?
******
ধীরে ধীরে রিক সুস্থ হয়ে ওঠে। পিয়ালী রা ওই ফ্ল্যাট ছেড়ে অন্যত্র চলে যায়, যদিও ফ্ল্যাট টি তে আর কোনো বিপদ ছিলোনা তাও তারা সব ভুলে যেতে চায় বলেই হয় তো চলে গেলো। আর ওই ফ্রিজ টি আপাতত রইলো অসীম বাবুর কাছে… তার সাধনায় বোধ হয় কোনো কাজে লাগবে ওটি।।

সমাপ্ত

Spread the love

You may also like...

error: Content is protected !!