সাপ্তাহিক ধারাবাহিক উপন্যাসে সোনালি (পর্ব – ১১০)

রেকারিং ডেসিমাল

ডাক্তারদের খুব সমস্যা।
সাধারণ মানুষ মানে অ-ডাক্তার মানুষরা কাছের মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়লে কত আশায় বুক বেঁধে চিকিৎসার জন্য নানাভাবে চেষ্টা করেন।
ডাক্তার চেষ্টা করে। আর সবার চাইতে আগে জানতে পারে বিপদ কতটা, বিপদ আদৌ কাটিয়ে ওঠা যাবে কিনা।
সে জানে কখন সব রাস্তা শেষ। আর ফিরিবার পথ নাই।
কিন্তু জানে বলেই, তার কান্নার জায়গা ও নেই। তাকে সব কষ্ট গিলে নির্বিকার মুখে চলতে হয়।
রোজ মধ্য রাতে ব্যথার ওষুধ দিই আমার পেশেন্টকে।
খাওয়ার ওষুধের ডোজ বাড়াই। তাতেও কাজ হয়না। ইঞ্জেকশন দিই।
সারাদিন খুব ভালো থাকেন রোগিণী। কি আনন্দ করে প্রয়াগ, এলাহাবাদ, নানান মন্দির, সাঁচি স্তূপ, চুণার কেল্লা, রামনগর রাজবাড়ি সব দেখা হয়।
আইস্ক্রিম, লস্যি, ফলের রস, এটা ওটা খেয়ে ঘুরে আনন্দ করে ঘরে ফিরে আসা হয়।
রাতে ফের কষ্ট।
ক্রমশ ব্যথার তীব্রতা বেড়েই চলেছে।
সামনেই দুর্গা পুজো আসছে।
নানান মন্দিরে পুজো দিতে দিতে ভাবি, সবাইকে নিয়ে ভালোয় ভালোয় ফিরতে পারি যেন।
পুজোর আনন্দ মাটি না হয়।

Spread the love

You may also like...

error: Content is protected !!