ক্যাফে কলামে সঙ্কর্ষণ

মূর্খমন্ত্রণা
প্রত্যেক দুর্গাপূজায় কলকাতাব্যাপী মার্ক্সীয় সাহিত্য বিক্রয়কেন্দ্র দেখা যায় এবং তা সাম্প্রতিক নয়, বহুকাল যাবতই যেতো। বর্তমান রাজ্য সরকার তো বটেই, উক্তের মূল পৃষ্ঠপোষক প্রাক্তন শাসকদলও প্রাথমিকভাবে এর মাধ্যমেই বার্তা প্রচার ক’রেছে এবং জনসমর্থিত হ’য়েছে।
কথিত যে এককালে বহু সম্ভ্রান্ত বাঙালি গৃহস্থ নিতান্ত অনিচ্ছাসত্ত্বেও তৎকালীন শাসকদলের ভয়ে ‘গণশক্তি’ রাখতে বাধ্য হ’তেন এবং এই পথে তথাকথিত সাম্যবাদ উপরোক্তের প্রায় কয়েকটি প্রজন্মকে বলপূর্বক স্বপক্ষে আকর্ষণে সক্ষম হয়। সাম্যবাদী পরিবার কিছু ছিলোই।
যদিও ‘জাগো বাংলার’ এসব কিছু নেই। তাদের বই কেউ কেনে যেমন না, উপরন্তু বিক্রেতারও তেমন ইচ্ছা দেখা যায়না। কোনো শিক্ষিত পরিবার বাড়িতে এই দৈনিকটি রাখেনা। দলীয় নেতৃত্বের পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ সম্পর্কে কট্টর সদস্যও কোনোরূপ উৎসাহ দেখায় না।
কিন্তু শাসক এখানেই পরাজিত যে সম্পূর্ণ দলটিতে শেষ কথা জনৈকা ভদ্রমহিলা, রাজনীতিবিদ হিসাবে যাঁর চিন্তার পরিধি বাঙালি বিগত ৪টি দশক দেখে আসছে এবং সেখানে নূতনত্বের কোনো সন্ধানই নেই। বিপরীতে একা মার্ক্সই নন, স্থান, কাল, পাত্র নির্বিশেষে একাধিক।
বিদেশের এঙ্গেলস্, লেনিন, স্ট্যালিন, মাও, গ্রামশি, রীড, চে হ’য়ে দেশীয় মুজঃফর আহমেদ সাহেব, শ্রী চিন্মোহন সেহানবীশ, শ্রী সরোজ মুখোপাধ্যায়, শ্রী জ্যোতি বসু, শ্রী রাহুল সাংকৃত্যায়ন, শ্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য প্রত্যেক দর্শন সুচিন্তিত ও স্বতন্ত্র। সকলের লক্ষ্য এক শ্রেণীহীন সমাজ।
সমস্যা হ’লো যে এহেন অভীষ্টের পরিকল্পনা ক’রতে ঠিক যতোখানি চর্চার প্রয়োজন, ততোখানি শ্রম ও সময় ব্যয় ক’রতে অধিকাংশই অক্ষম এবং বলপ্রয়োগে মীমাংসার অসভ্য পর্যায় থেকে এদের আদৌ কোনো উন্নতি হয়নি। প্রাক্তন শাসকদলও তেমন ঘরে ‘গণশক্তি’ পাঠাতো না।
অতঃপর কী বই বিক্রী হ’চ্ছে এবং কেন তা ক্ষতিকর, সে সম্পর্কে ন্যূনতম অবগতি ব্যতীত আইনসম্মত স্বৈরাচারী পদক্ষেপ, তা’ও রাষ্ট্রীয় ও সাধারণ দুর্বৃত্ত একত্রে ব্যবহার ক’রে, এহেন অসভ্যতায় একমাত্র তারাই পারদর্শী, যারা “হাত ভর্তি টাকা ও পেট ভর্তি অশিক্ষা” রক্তে বহন করে।
মার্ক্সীয় বিক্রয়কেন্দ্রগুলির মাধ্যমে জাতির একাংশ কিন্তু প্রথম পরিচিত হ’য়েছিলো আন্তর্জাতিক সাহিত্যের সঙ্গে। বেশ কিছু অভিজ্ঞ মানুষের সঙ্গে আলোচনাও সম্ভব হয়। কিন্তু স্বার্থপর নূতন প্রজন্মের মননে রেখাপাত ক’রতে অধিকাংশ লেখকের অক্ষমতায় তারুণ্যের সমর্থন শূন্য।
“বইটাকে ধরো, ও’টা হাতিয়ার। “-এর মতো ধ্বনি তোলা দল যখন যাদবপুরে ২.৫লক্ষ টাকার ব্যবসা হ’তে গর্বিত বোধ করে, সেই অসহায়তায় করুণার উদ্রেক হয়। এক স্বৈরাচারী সরকার, চূড়ান্ত অশিক্ষিত মুখ্যমন্ত্রী, মৌলিক অধিকারে মুহুর্মুহু হস্তক্ষেপ, অথচ ন্যূনতম প্রতিবাদ নেই…
প্রতিবাদের ব্যর্থতায় প্রতিবাদীর আদৌ ত্রুটি থাকেনা, কিন্তু ভবিতব্যের নিশ্চিন্ততায় নিশ্চেষ্ট আত্মসমর্পণ অত্যন্ত ভয়ানক। তাতে ‘বাংলা জেগে না উঠলেও’, ‘গণদেবতার শক্তি’ ক্রমাগত ক্ষয় হয়।
ধন্যবাদ।