ক্যাফে কলামে সঙ্কর্ষণ

২০১৮ সালের এক অলস দুপুরে জনৈক স্বল্পপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে আলাপচারিতার সূত্রে তাঁকে ৪টি বাক্য ছন্দে লিখে দিয়েছিলাম। এরপর ফোন ক’রে বাংলা সাহিত্যকে কিছু দিয়ে যেতে ব’লেছিলেন তিনি আমায়।
অত্যুচ্ছ্বাসের চক্রে এমন এক মানুষের সঙ্গে আমার যোগাযোগ হ’য়েছিলো, যাঁর প্রায় প্রতিটি বক্তব্যকে অধম রীতিমতো বেদবাক্যের মর্যাদা দিতো। এমনও হ’য়েছে যে শ্রদ্ধামিশ্রিত ভয়ে তাঁকে ফোন ক’রতে ইতস্ততঃ ক’রেছি।
তাঁরই সূত্রে ২০১৯এর জন্মদিনে একটি ওয়েবজিনে মাসিক সংখ্যার কবি হ’য়েছিলাম আমি। সম্পাদক বড় স্নেহ ক’রতেন আমায়। সম্ভবতঃ প্রচুর আশাবাদী ছিলেন তিনি আমার সম্পর্কে। আমিও ছিলাম কিঞ্চিদধিক।
২০২০র মাঝামাঝি জনৈক সম্পাদকের সঙ্গে অধমের যোগাযোগ এমনই পর্যায়ে পৌঁছেছিলো যে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের আলোচনায় অতিবাহিত ক’রেছি অজস্র সময়। প্রাবন্ধিক হিসাবে আমার দক্ষতা তাঁরই আবিষ্কার।
উপরোক্ত একজনের সঙ্গেও আমার এই মুহূর্তে কিছুমাত্র যোগাযোগ নেই। বরঞ্চ বার্তালাপ ক’রতে চাইলেও তাঁরা সজ্ঞানে অধিকাংশ সময় এড়িয়েই যান। সত্য বোধগম্য হওয়ায় আমিও তাঁদের বিরক্ত ক’রতে নিতান্ত অনিচ্ছুক।
সত্যি ব’লতে এঁদের ওপর আমি নির্ভরশীল ছিলাম বহুল পরিমাণে। কিন্তু আমার মঙ্গলকামনায় যে পথ তাঁদের চিন্তায় ছিলো, সেপথে আমি চ’লিনি। কতিপয় সম্ভবতঃ ব্যবহার ক’রতেও চেয়েছিলেন, কিন্তু সেকথা উহ্য থাক।
পরিচিত বহু পত্রিকায় আমার লেখা নেওয়া হয়না ইদানিং, সেই সূত্রে সাক্ষাতে এঁদের প্রশ্ন করার সুযোগটুকুও থাকেনা। কিন্তু কখনও প্রকাশ করার প্রাণপণ ইচ্ছে হয় যে তাঁদের আপন থেকে পর হওয়া সমস্তই আমায় কিছু শিখিয়েছে।
আজ যখন মানুষের জন্য লিখতে ইচ্ছা হয়, অজ্ঞানতা কতোখানি তা বুঝতে পারি। অভিমান হয় যে এঁদের জন্য রাখা সময়টুকু সেখানেও তো দিতে পারতাম। কিন্তু সেই পাঠের অযোগ্য লেখাগুলির তাঁরাই ছিলেন প্রশংসক।
আপোষ ক’রলে উন্নতির যথেষ্টই সম্ভাবনা ছিলো। সমস্ত আপোষই যে অন্যায়ের জন্য তা’ও নয়। কিন্তু অতীতের এই নিকটজনেদের সঙ্গে বিচ্ছেদই আমাকে স্বক্ষেত্রে কঠিনতর হ’তে শিখিয়েছে। পৃথিবী কতো একা ক’রবে?
বিষময় জীবনের সমুদ্রে যাঁরা এক নীলকন্ঠ তৈরী ক’রতে মূল্যবান সময় বিনিয়োগ ক’রেছিলেন, তাঁদের প্রত্যেকের উদ্দেশ্যে অকুন্ঠ শ্রদ্ধা ও প্রণাম রাখলাম। নির্লিপ্ততা যদি কখনও অধমের শুভাকাঙ্ক্ষীদের কিছু ফিরিয়ে দেয়…
সম্পূর্ণ সত্য যে গুরু হিসাবে সে দায়ের অধিকাংশই তাঁদের।
ধন্যবাদ