সাপ্তাহিক ধারাবাহিক উপন্যাসে সোনালি (পর্ব – ১০৭)

রেকারিং ডেসিমাল
ফিরে এলাম গঙ্গাপূজা আরতি দেখে, জলে প্রদীপ ভাসিয়ে।
হলিডে হোম তো মন্দির কমপ্লেক্সের ভেতরে। সেখানে গাড়ি নিয়ে যাওয়া যায় না।
লম্বা গলির মুখে গাড়িটা ছেড়ে দিয়ে এগোতে হবে।
সারা দিনের ক্লান্তিতে সবাই তখন ভাবছি গিয়েই চান আর তারপর ধপাস করে বিছানায় শোয়া।
বিকেলে কচুরি জিলেপি রাবড়ি যা খাওয়া দাওয়া হয়েছে, তারপর কারও আর খিদে নেই।
গলিটা বেঁকে বেঁকে চলেছে।
একটু হাঁটার পরেই শ্বাশুড়ি মা পাশের একটা রোয়াকে বসে পড়লেন।
বেচারা নাজেহাল।
আর হাঁটতে পারছেন না।
বেশ খানিক না হাঁটলেই নয়। মুশকিলে পড়ে গেলাম সবাই।
বাচ্চারা চটপট সিঁড়ি দিয়ে উঠে ঠাম্মার পাশে পা ঝুলিয়ে বসে পড়ল।
আমি বোতল বের করে জল খাইয়ে বললাম, একটু চোখে মুখে জল দাও, ভালো লাগবে হয়ত।
একটু জল খেয়েই বমি হয়ে গেলো।
আমি চমকে দেখলাম, সকালে খাওয়া রুপোলি তবক দেয়া পান অবধি যেমনকে তেমন বেরিয়ে এসেছে।
এরপর একটু আরাম হতে আস্তে আস্তে সবাই মিলে এসে পৌঁছালাম হলিডে হোমের সামনে। ঢুকতে গিয়ে থমকে গেলাম। সিঁড়ির তলার সেই বিশাল প্রাণীটি নিথর। তার শ্বাসপ্রশ্বাসের আওয়াজ নেই ত। শুধু এক চাঙড় অন্ধকার যেন স্তূপ হয়ে পড়ে রয়েছে।
কেমন হয়ে গেল ভেতরটা।
খুব কষ্ট করে ওপরে উঠে এলাম সবাই।
ক্লান্ত হয়ে শুয়েও পড়েছিলাম।
রাত একটা নাগাদ পাশের ঘর থেকে ডাক।
শিগগির দেখো, মায়ের অসহ্য পেটে ব্যথা।
সঙ্গে ফার্স্ট এইড নিয়েই এসেছি বেড়াতে।
তাড়াতাড়ি ব্যথার ওষুধ আর অ্যান্টাসিড নিয়ে খাইয়ে দিলাম। একটাতে হল না। ঘন্টা খানেক বাদে, আরও একটা।
এরপর সবাই ঘুম।
সকালে দেখি চকচকে চোখে আমার পেশেন্ট বলছেন, বাবু গাড়িকে ডাক, বেরোবো ত।
আমি বলি, আরে কাল এত কাণ্ড হল, আজ রেস্ট নাও।
তিনি বললেন, না না কত দিনের ইচ্ছেয় বেনারস আসা, সঅব দেখে নেব। চল, চল।
চলেছিল বেড়ানো।
খালি রোজ রাতেই এক বার করে ব্যথা আর অম্বলের ওষুধ দিতে হত। আর সকালে রোগিণী সব অসুস্থতা ঝেড়ে ফেলে বেরিয়ে পড়তেন মহা আনন্দে।
আমার চিকিৎসক মস্তিষ্ক খালি টিকটিক আওয়াজ করত টাইমবোমার মত।
ভালো লাগছে না।
নাহ।
ভালোয় ভালোয় এদের নিয়ে কলকাতা ফিরতে পারলে সংকট মোচনকে পুজো দেবো। দুর্গা পুজো সামনেই।