কবিতায় পদ্মা-যমুনা তে রাজু রোজারিও

ভালোবাসার গল্প
সকালটা অন্যরকম ছিল
সোনা ঝরা রোদে ঝলমলে চারিদিক,
উচ্চে সাদা মেঘ, ভেসে যায় নীরবে মিলেমিশে
পাখিও সব বাঁধনহারা, উড়ছে দলবেঁধে।
ওরা হাঁটছে দু’জনে,
শিশির ঘাসে পা ভিজিয়ে নগ্নপদে।
শূন্যবুকে কষ্ট ছিলো, প্রচন্ড এক পাথর ছিলো,
আবেগসব লুকিয়ে ছিলো, হারিয়ে ছিলো!
জমানো কতশত কথা, সবই ছিলো না বলা,
আজ মন হালকা হলো! কিছুই জানে না-
কেন ভাল লাগছে, কোন আবেগে ভাসছে!
উপরে বিস্তৃত আকাশ, হৃদয়ের কষ্টসব মিশে যায়
মিশে যায় বাতাসে, হারিয়ে যায় দূর আকাশে।
উর্ধ্বপানে বিশাল আকাশ, তবুও এ মন বলে
এ আকাশ খুউব বড় নয়, ইচ্ছে হলেই ধরা যায়
নিমিষেই তা চেপে ধরে ছোট্ট করে, বুকের মাঝে
খুব যতনে রাখাও যায়, আজ ওরা সবই পারে।।
ওরা হাঁটছে।
গায়ের মৃদু ধাক্কায় মনে জাগে শিহরন,
অজান্তেই হাতে হাত, চঞ্চল হয় ওরা স্পর্শে
প্রচন্ড ভালোলাগা-ভারমুক্ত শুভ্রতা জাগে মনে।
আজি এ প্রভাতে এ কোন রবির হাসি,
ডুবে যায় গুরুদেবে, বললো হেসে,
‘কেমনে এ আনন্দ প্রাণে এতদিন পরে,
জীবন আজ উঠিলো নেচে রবিঠাকুরের গানে।
কবিগুরু যদি হয় ছেলেবেলার পহেলা প্রেম,
বড়বেলায় তুমি হলে দ্বিতীয়, এ প্রকাশ নিঃসঙ্কোচে’
কাঁধেতে মাথা রেখে, হাত একটুকুন চেপে রেখে।
দুঃখসকল আজ শিশির হলো রবিরই কিরণে,
প্রাণদ্বয় মিশেছে আজ স্মিতে পরমানন্দে
আকর্ণ হাসি দ্যুতি ছড়ালো মসৃনও অধরে!
কি সুন্দর যে লাগলো তাহারে, বলি কেমনে!
বিস্তৃত সবুজ পরে, সামনেই নদী যায় বয়ে
কচুরিপানাও ভেসে যায়, এগিয়ে যায় মৃদু স্রোতে
হৃদয়দ্বয়ের মুগ্ধ অনিমেষ বিস্তৃত ঐ দূরে
মনের অজান্তে হাতটি আরো চেপে, ঐ দূরদৃষ্টিতে।
এ দোলাতে দেহ শিহরিত, এ কোন আবেগে
তার-ই স্পর্শে সাড়া পরে দেহে, ভালোবাসাতে।
আবারো সেই শব্দহীন আবেদন,
‘ভালোবাসি’
শুধুই দু’ঠোঁট নড়ে,
বুঝতে পেরে সে-ও বলে-
‘জানি তো। আমিও’।