গল্পেরা জোনাকি তে রীতা পাল (ছোট গল্প সিরিজ)

সই

হঠাৎই দুই বান্ধবীর দেখা হয়ে গেল গড়িয়া হাটের মোড়ে। প্রায় পনের বছর পর দেখা। পরী আর টিনা স্কুলের বন্ধু ছিল। দু’জনে সই পাতিয়ে ছিল। মাধ্যমিকের পর দু’জনে আলাদা হয়ে যায়। তারপর এতদিন পর দেখা। পরীই প্রথম টিনাকে দেখে। একটা দোকানে ফুলদানি দেখছিল। পুরনো বন্ধুকে দেখেই আনন্দে আত্মহারা হয়ে যায় টিনা। দু’জনেই একটা কাফেতে ঢোকে। প্রথমে টিনা শুরু করে – সে এখন ঘোর সংসারী। স্বামী বড় চাকুরে। এক ছেলে নিয়ে সুখের সংসার। ড্রইং রুমের জন্য একটা সুন্দর ফুলদানী কিনতে এসেছে।
পরী চুপ করে ওর সব কথা শুনছিল।
“ আমার কথা তো সব শুনলি,এবার তোর কথা বল।”
“ চাকরি করছি। ভালোই আছি। কোন ঝামেলা নেই। বেশ সুখে আছি। মন খারাপ হলে ঘুরতে চলে যাই কোন পাহাড় বা জঙ্গলে। বৃষ্টি নামলে পাখিদের ভেজা দেখি। আবার বৃষ্টি কমলে ডানায় রোদের ওম খোঁজা দেখি। বেশ কেটে যায়। তোর মত তো পিছুটান নেই। দু’বছর হলো মাও আমাকে ছেড়ে চিরশান্তির দেশে চলে গেছে। তবে আমার মিষ্টি বন্ধুটা ভালো আছে এটা শুনে আমার মন ভরে গেল।” টিনা প্রাণখোলা হাসি হাসলো।
সবাই আড়ে-আড়ে ওদের দিকে তাকাল।
টিনা কপালের চুলটা সরাতেই,পরীর চোখে পরলো একটা কাটা দাগ। টিনাকে জিজ্ঞাসা করল,“ কপালটা কাটলো কি করে?”
“ ফুলদানি – – – ও কিছু না। বাথরুমে পড়ে গেছিলাম।” কফিতে চুমুক দিতেই – – – গরম কুমকুমের মত তরলটা কপাল থেকে নামতে লাগলো। স্বামীর ফুলদানি ছুড়ে দেওয়ার চিহ্ন, বন্ধুকে কী বলা যায়? কপালের চুলগুলো দিয়ে ক্ষতটা ঢেকে দিল। দু’জনেরই মুঠোফোন মাঝে মাঝে বেজে উঠছে। টিনা জিজ্ঞাসা করল,
“ কি রে! স্বামী নেই,সংসার নেই কার ফোন আসছে এত? প্রেম করছিস? এত সুন্দরী তুই, একটা বর জোটাতে পারলি না?”
“ ওই যে কথায় আছে না,অতি সুন্দরী না পায় বর আর অতি ঘরণী না পায় ঘর। নে ফোন নাম্বারটা রাখ। একটু কাজ আছে,আজ উঠতে হবে।” ওয়েটারকে ডেকে পরী পেমেন্ট করতে যাবে এমন সময় টিনা বললো,“ সত্যিই রে, আমরা সবাই সময় এর পেছনে দৌড়াচ্ছি। তাই না?” থমকে গেল পরী।
“ আচ্ছা ধর,ইচ্ছেপূরণ দেবী এসে দু’জনকে বলল,যে কোন একটা ইচ্ছা আমাদের পূরণ করবে,তুই কি চাইবি?”
পরী চট করে ব্যাগ থেকে দু’টুকরো কাগজ বের করে বলল,“ এই নে,চট করে লিখে ফেল। আমরা দু’জনেই রাতে বাড়ি ফিরে দেখব।”
রাতে দু’জনে কাগজের টুকরো খুলে দেখে,তাতে লেখা – – – তোর মত সুখী হতে চাই।

Spread the love

You may also like...

error: Content is protected !!