অনন্য সৃষ্টি সাহিত্য পরিবার
পাক্ষিক গল্প প্রতিযোগিতা পর্ব – ১০
বিষয় : ভৌতিক/ রহস্য
তারিখ : 04/09/2020
টাটকা ভূতের প্রতিশোধ
তখনো সিলিং ফ্যানে ঝুলে ছিলো বছর দুয়েকের বিবাহিতা প্রমীলার বডি । বীভৎস ভাবে বেরিয়ে ছিলো দুটি চোখ এবং বড় জিভ । টপটপ করে কান এবং মুখ দিয়ে রক্ত বেরোচ্ছে তখনও । ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যে পুলিশ এসে যাবতীয় নিয়মাদি সম্পন্ন করে বডি নিয়ে চলে গেলো । .মহিলার স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়িকে গ্রেফতার করা হয় ..প্রাথমিক ধারণা, পণের টাকা না পাওয়ায় তারাই শ্বাস রোধ করে খুন করে ঝুলিয়ে দিয়েছে .. অবশ্য এক নেতার মধ্যস্থতায় এবং মূলত প্রমাণের অভাবে তিনজনই জামিন পান । দুটি ঘরের একটাতে বাবা মা থাকতেন , আরেকটাতে তারা । যাইহোক ঘুম আর কিছুতেই আসছে না । রাত তখন দুটো হবে , চোখদুটো সবে বুজে এসেছিলো মহিলার স্বামী দীনেশবাবুর , হঠাৎ একটা শব্দে ঘুম ভেঙে গেলো , বেড সুইচ অন করতে উদ্যত হতেই কোনো কিছুতে খোঁচা খান তিনি । এবার পাশে রাখা মোবাইলের টর্চ জ্বালতেই আঁতকে ওঠেন ..তখনো তার স্ত্রী ঝুলছে , এবং একই রকমভাবে জিভ , চোখ বেরিয়ে আছে , কী ভয়ংকর সে দৃশ্য ।
চিৎকার করতে গিয়ে গলার স্বর অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে , কিছুতেই আর আওয়াজ বেরোচ্ছে না । কোনোরকমে পাশ ফিরে লাইট অন করেন , কিন্তু কিছুই আর দেখতে পান না । ধড়ে প্রাণ ফিরে পান তিনি । নিজেকে সান্ত্বনা দেন চোখের ভুল বলে । লাইট অফ করে পুনরায় শুয়ে পড়েন , কিন্তু ঘুম আর আসে না । বাম হাতটা মাথার উপর থেকে নামিয়ে পাশে রেখেই একটা ঠান্ডা অনুভূতির আতঙ্ক থেকে তৎক্ষণাৎ হাতটি তুলে নেন ..মোবাইলের আলো জ্বালতেই ভয়ে লাফিয়ে পড়েন খাট থেকে … একটা হাত পাঁচেকের মতো লম্বা পিচ কালো সাপ । অতি দ্রুত সিটকিনি খুলে বাইরে আসেন তিনি ।
পাশের ঘরের থেকে বাবা মাকে ডেকে তোলেন । কিন্তু ঘরে গিয়ে আর কিছুই দেখতে পেলেন না ।তিনজনই একটা অপরাধজনিত আতঙ্কে ভুগতে থাকেন । মায়ের পরামর্শে তারা এক ঘরে থাকতে সম্মত হন । কিন্তু আতঙ্ক পিছু ছাড়ে না ।
বাথরুম থেকে জল পড়ার শব্দ কানে আসে তাদের । কিন্তু আপাতত বাড়ির তিনজনই তো ভিতরে । তাহলে কল কে খুললো ! ! তারা ভিতর থেকে আওয়াজ তোলে .. বাথরুমে কে ? ? আশ্চর্যজনকভাবে কলটি নিমেষেই বন্ধ হয়ে যায় । ওরা পুনরায় জিজ্ঞাস করে ..কে ? উত্তর না পেয়ে তিনজনই সাহস করে বাইরে বেরিয়ে বাথরুমের দিকে এগোতে থাকে , আচমকা লোড শেডিং হয়ে যায় । ঘনান্ধকারের মধ্যে বাথরুম থেকে একটা বেশ বড় মাপের কালো রঙের বিড়াল বেরিয়ে রাস্তার দিকে ছুটে যায় । ওদের মনে কু গায় , দৌড়ে ঘরে গিয়ে হাক দেয় । প্রবল আতঙ্ক নিয়ে এবার চেষ্টা করে ঘুমানোর । বিপদ তখন শিহরে । ঘরের ভিতরে অদ্ভূত সব আওয়াজ হতে থাকে । ঘন অন্ধকারের মধ্যে বিদ্যুতের আলোর মতো থেকে থেকে ঝলসে উঠছে বহু কঙ্কাল সর্বস্ব দেহ । চিৎকার করে ওঠে তারা … শোনা যায় গোঙানি .. এখন চিৎকার করে কী হবে ..তিনজন মিলে আমাকে যখন নৃশংসভাবে বালিশ চাপা দিয়ে মেরে ফেলে ঝুলিয়ে দিয়ে ছিলি , তখন খেয়াল ছিলো না ..? পণের টাকা দিতে পারিনি বলে আমার জীবনটাকে কেড়ে নিলি ..নেতাদের দয়ায় ছাড়া পেলেও আমি তোদের কাউকে ছাড়বো না .. এগিয়ে আসে নখরযুক্ত লম্বা লম্বা হাত । ওরা ভয়ে শুকিয়ে কাঠ হয়ে যায় । বাইরে বেরোনোর জন্য দ্রুত হাক খুলতে যায় , কিন্তু ঠান্ডা পরশে হাড় হিম হয়ে যায় তাদের ..হাকের স্থানে দেখা যায় ,সেই ভয়ঙ্কর কুচকুচে কালো সাপটি । পরেরদিন ঘরের মেঝে থেকে তিনটে লাশ উদ্ধার করা হয় ।