কর্ণফুলির গল্প বলায় রবীন জাকারিয়া (শেষ পর্ব)

ন্যাম্পোত ত্যাল নাই-গল্প

(রংপুরের আঞ্চলিক ভাষায় লেখা)

দুয়ারোত জোরে জোরে আওয়াজ শুনিয়া ওকেয়া ধরপর করি উঠি বসিল৷ জারের রাইতেও ওকেয়া ঘামবার লাগিল৷ দুয়ারোত ন্যাদাই দিতোছে আর চিল্লি চিল্লি গাইলাইতোছে ওইয়ার সোয়ামি৷ কইতোছে ওই হারামজাদী৷ শশুরের বেটি৷ মাগীর বেটি তুই কি মরণের নিন্দ পারতোছিস৷
ওকেয়া ধরপর করি উঠিয়্যা ন্যাম্পোটা জ্বলাইল৷ আইজক্যা ক্যানবা ন্যাম্পোটা ক্যামন ভুকুত ভুকুত করতোছে৷ এলায় বুঝি নিভি যায় নাকি! ওকেয়া ডর ডর ভাব নিয়্যা দুইয়্যারটা খুলি দ্যায়৷ ঘরোত ঢুকিয়ায় মফিজ চিল্লি চিল্লি গাইলা গাইলি শুরু করি দেইল৷ ওকেয়া কোন কতা না কয়া পাক ঘরোত থাকি ভাত আইনব্যার গেইল৷ ওয় জানে এলা কতা কইলে মাইরব্যার পারে৷
মফিজ চুয়ার পাড় থাকি হাত মুখ ধুয়্যা আসিল৷ চোকির এক কোনাত ওকেয়া সানকি, খোরা, মগ দিয়্যা কইল আইসো ভাত খায়্যা ন্যাও৷ মফিজ ভাত খাইতে খাইতেও চিল্লাইতোছে৷ থামতোছে না৷ ওকেয়া শাড়ির আঁচলটা দিয়্যা মুখ ঢাকি হাসতোছে৷ এই চিল্লাচিল্লির মানে ওয় বুঝপ্যার পায়৷ কারণ ওয় একজন মাইয়্যা মানুষ৷
ভাত খাওয়া শ্যাষ হইলে ওকেয়া থালি-খোরা চোকি থাকি সারে ফ্যালে৷ বিছন্যাটা ঠিক করে৷ ন্যাম্পোটা গচার উপর থুয়্যা দ্যায়৷ ন্যাম্পোটা এলাও ভুকুত ভুকুত কোরতোছে৷
মফিজ চোকির উপর আগ হয়্যা এলাও বসি আছে৷ ওকেয়া মুখোত একনা হাসি নিয়্যা চিৎ হয়্যা শুয়্যা পড়ে৷ তারপর সোয়ামির দিকে চায়্যা ফিশফিশ করি কয়্যা উঠিল ‘তোমরা কী করমেন করো, ন্যাম্পোত ত্যাল নাই৷’

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।