গল্পেরা জোনাকি তে রীতা চক্রবর্তী (পর্ব – ১৪)

নর্মদার পথে পথে
আমরা যারা পশ্চিমবঙ্গের থাকি তারা জানি গঙ্গা ভারতের বিখ্যাত নদী এবং এর উৎপত্তি হয়েছে গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে। উৎপত্তিস্থল থেকে দেবপ্রয়াগ পর্যন্ত এই নদী হল ভাগীরথী। দেবপ্রয়াগে এসে
পঞ্চপ্রয়াগ সৃষ্টিকারী অলকানন্দা ও মন্দাকিনীর যৌথধারার সাথে মিলিত হয়েছে। সেই মিলিতধারা গঙ্গা নামে উত্তর ভারতের ওপর দিয়ে বয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে।
শাস্ত্রমতে শিবের জটা থেকে উৎপন্ন হয়েছে বলে গঙ্গারজল অত্যন্ত পবিত্র এবং দৈবগুণ সম্পন্ন বলে যেকোনো শুভ কাজে গঙ্গার জল ব্যবহার করা হয় অর্থাৎ গঙ্গা একটা নদী হলেও এর দৈবীসত্ত্বা ও শক্তি রয়েছে।
ঠিক তেমনি শিবের কন্ঠ থেকে উৎপন্ন
মধ্যভারতের নর্মদা নদীরও দৈবীশক্তি রয়েছে। নর্মদা হল সিদ্ধিদায়িনী ও
মোক্ষদায়িনী।
প্রাচীন ভারতের অঙ্গিরা, আঙ্গিরস, সাংখ্যদর্শন রচয়িতা মহামুনি কপিল, ঋষি মার্কন্ডেয়, মহাতেজা দুর্বাসা, দত্তাত্রেয়, মৎস্যেন্দ্রনাথ, গোরক্ষনাথ, পতঞ্জলি, সনক ইত্যাদি মুনিঋষিরা নর্মদার তটে এসেছেন। হিন্দুধর্ম পুনর্জাগরণের পথিকৃত মহাত্মা শঙ্করাচার্যও এখানে তপস্যা করেছেন। এমনকি আমাদের ঘরে ঘরে সর্বজন পূজিত বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারীও নর্মদা তটে এসে সাধনা করেছেন এবং এর দৈবীসত্ত্বা প্রতক্ষ্য করেছেন।
সময় আমরা কবীর চবুতরা দর্শন করেছি। এটা সন্ত কবীরের সাধনা ক্ষেত্র।
এখানে একটা নিমগাছ আছে যেটা একটা মরাগাছ ছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে সেই মরা গাছে সবুজ পাতা ফুটে ওঠে।
এখানে একটা কুন্ড আছে যেখানে সকালে নির্দিষ্ট সময়ে জলের তলদেশ থেকে দুধের মতো সাদা রঙের জল অথবা হয়তো দুধ বেরিয়ে আসে। এটা দুধকুন্ড নামে পরিচিত।
আর আছে নর্মদা মায়ের প্রিয় ফুল “গুলবকাওলি”র বাগান।এই ফুল দেখতে দোলনচাঁপার মতো সাদা আর সুগন্ধিযুক্ত। প্রায় একই রকম আকৃতি প্রকৃতির ফুলের নাম ভিন্ন স্থানে বিভিন্ন নাম। এ যেন যমজ বোন তাই আলাদা নাম। তবে একটা জিনিস হল গুলবকাওলির নির্যাস দিয়ে ওষুধ তৈরি হয়। স্থানীয় অধিবাসীরা এই নির্যাস চোখের সমস্যায় ব্যবহার করেন। চোখের জ্বালা কমাতে এই ওষুধ খুব কার্যকরী। আর আছে খুব বড় বড় পেয়াজ। ছোটখাটো লাউ-এর মতো চেহারা। এর রস থেকে তৈরি হয়েছে “মহাকাল তেল”। যে কোন চোটে এই তেল ব্যবহার করে স্থানীয় লোকেরা।