গল্পেরা জোনাকি তে রীতা চক্রবর্তী (পর্ব – ৩৪)

নীল সবুজের লুকোচুরি
প্রবেশপথের পাশেই খবরের কাগজের উপর রং দিয়ে লেখা রয়েছে ” স্বনামধন্য ডাক্তার আনসারির একান্ত ব্যক্তিগত উদ্যোগে শীঘ্রই খোলা হচ্ছে “আনন্দময়ী প্রসূতি সদন”। আশ্রমে আগত সকলের পক্ষ থেকে ডঃআনসারিকে আন্তরিক অভিবাদন জানানো হচ্ছে। আগামীকাল এই ক্যাম্পের শেষদিন । কাল সব কটা ওপিডি তেই ডাক্তার থাকবেন। জেনারেল ফিজিসিয়ান হিসেবে ডাক্তার দেশিকান সবার আপনজন হয়ে উঠেছেন এই কটা দিনের মধ্যে। আশাকরা যায় কাল ডাক্তার আনসারি নিজের কথা রাখতে আশ্রমে উপস্থিত থাকবেন।
–
আরিয়ান অনেকক্ষণ কথা বলে চলেছে। কিন্তু মিঠি কোনো উত্তর দিচ্ছে না দেখে আরিয়ান একটু জোরে বলে ওঠে “হ্যালো সিস, আর ইউ দেয়ার? ইজ এভরিথিং অলরাইট?” কথাটা শুনে মিঠি হেসে ফেলে। বলে, “আমি তো এই এখানেই আছি আর ঠিকঠাকই আছি। তুমি কিছু বলছিলে, তাই তো! হ্যাঁ, বল, আমি শুনছি। আর একটা কথা বলি, মন দিয়ে শোনো! ডাক্তার বাবুদের অত জোরে কথা বলতে নেই। তুমি না হৃদয়ের ডাক্তার। জানোই তো অনেক সময় জোরে কথা বললে নিজের হার্টেও চাপ হয়ে যায় বা যাকে বলছ তারও সমস্যা হতে পারে। হৃদয় দিয়ে বুঝতে হবে তো নাকি! বেসিকটা ভুলে গেলে চলবে কি করে!”
তারপর মৃদু স্বরে বলে,” আসলে “সাহানা” নামটা আমি এর আগে কোথায় শুনেছি সেটা মনে করার চেষ্টা করছিলাম।
এতক্ষণে আমার মনে পরেছে। ডাক্তার আনসারি যখন আমার মা’র সাথে কথা বলছিলেন তখন শুনেছি। আসলে মাথায় কিছু একটা চলতে থাকলে অন্য দিকে তো আর মন থাকে না, তাই। নাউ ইউ মে ক্যারি অন” বলে অত্যন্ত আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে থাকে আরিয়ানের দিকে। ও কি বলতে চায় সেটা শোনার জন্য মনে মনে মিঠিও যেন উদগ্রীব হয়ে আছে।
“ইট’স আ কমন নেম ইউ নো! ইউ মে বি ট্রিট মেনি অব ইয়োর পেশেন্টস হুজ নেম আর দ্যা সেম! হোয়াট’স নিউ? ” – আরিয়ান বলে। মিঠি আরিয়ানের কথার কোনও উত্তর না দিয়ে হাসি মুখে তাকিয়ে থাকে। মিঠির সাথে এইভাবে নানান রকম এলোমেলো কথা বলতে আরিয়ানেরো খুব ভালো লাগছিলো। ঠিক যেন কোনো পরম আপনজন, যে ওর এইসব এলোমেলো প্রলাপ হয়তোবা ইচ্ছে করেই করা কোনো দুষ্টুমিকে প্রশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে পরম মমতায়। ছোটবেলা থেকে ও এরকমই কাউকে পাশে চেয়েছিল। কিন্তু বাবা মা ‘র আলাদা থাকা, ওর বোর্ডিং লাইফ, একঘেয়ে ঘটনার বোরিং সময় সব কিছুই ছিল ওর ছোট ছোট চাওয়ার বিপরীতে। স্নেহ ভালোবাসা ছিল কি না জানা নেই তবে একটা যান্ত্রিক পরিস্থিতিতে ছোটবেলাটা কেটে গেছে।
আসছি পরের পর্বে