কবিতা সিরিজে রতন বসাক

১| মনে পড়ে
ছেলেবেলা মনে পড়ে
যখন বসে থাকি ঘরে
ছিল কত ভালো,
মাঠে গিয়ে খেলা করে
দুঃখ ভুলে মনটা ভরে
জ্বলে যেত আলো।
মায়ের তৈরি নানান পিঠা
সত্যি বলছি ভীষণ মিঠা
মজা হতো খেয়ে,
বাবার সাথে মেলা দেখা
পুকুর জলে সাঁতার শেখা
মামা বাড়ি যেয়ে।
বলটা নিয়ে খেলা শেষে
স্নানটা করা জলে ভেসে
বন্ধুরা সব মিলে,
ছুটির দিনে ছিপটা নিয়ে
ক’জন মিলে হেঁটে গিয়ে
মাছ ধরেছি বিলে।
এখন শুধুই ভেবে চলি
নিজের সাথে কথা বলি
মনে পড়লে হাসি,
বয়স কত গেছে বেড়ে
বলে নাতো কেহ নেড়ে
চল না ঘুরে আসি।
২| ঢাকীর জীবন
ঢাক বাজিয়ে স্বাগত করে
নতুন দিনের আলো,
কামনা ওই করছে সবার
দিনটা কাটুক ভালো।
কেউবা এসে টাকা দিয়ে
সাহায্যটা করে,
সেই টাকাতে সব্জি কিনে
নিয়ে যাবে ঘরে।
সূর্য ওঠে নিজের মতোন
পূর্ব দিকের থেকে,
পশ্চিম দিকে অস্ত গেলে
ছায়ায় দেবে ঢেকে।
এমন করেই দিনের শুরু
প্রত্যেক দিনই চলে,
দারুণ সুন্দর সূর্যের ছবি
দেখা যাচ্ছে জলে।
স্বপ্ন দেখে পূজোর সময়
বায়না পেয়ে যাবে,
এমন চিন্তা ঢাকীর মনে
পেটটি ভরে খাবে
৩| মেরো না
অধিক শীত পড়ার ফলে
বরফে যায় ঢেকে,
সেই কারণে আসছে উড়ে
সাইবেরিয়া থেকে।
আমার দেশে শীতের ক্ষণে
ঠান্ডা বেশি নয়,
পাখিরা সব পালিয়ে এসে
এখানে জমা হয়।
পুকুর ঝিল বিলের পাড়ে
দেখতে পাবে পাখি,
নানা রঙের ওদের দেখে
জুড়িয়ে যাবে আঁখি।
শীত কমলে আবার পাখি
ফেরে নিজের দেশে,
আমার দেশে সুন্দরতা
বাড়ায় ওরা এসে।
অতিথি পাখি বলে ওদের
কেউ মেরো না ভাই,
কারোর কোনো রকম কিছু
ক্ষতি করে না তাই।
৪| স্বাধীনতা আনতে
অনেক অত্যাচার সবাই সহন করার পরে
পাক সেনাদেরকে মারতে মানুষ করলো পণ।
চলো এবার করি লড়াই শক্ত করে সব মন
দেশকে মুক্ত করতে যুদ্ধে নামি সব অস্ত্র ধরে।
ধর্ষণ লুন্ঠন আরো কত অন্যায় করতো দেশে
তার কারণে অনেক কষ্টে কাটতো সবার দিন।
সবাই হাতে হাত মিলালে আমরা হবো না হীন
মনের জোরে যুদ্ধ করলে জিততে পারবো শেষে।
জাতির পিতা মুজিব দিলো এমন ভাষণ মুখে
সবাই শুনে সাহস পেয়ে সামনে এগিয়ে আসে।
স্বাধীন দেশ পাবার জন্য মনে সুখ স্বপ্নে ভাসে
স্বাধীনতা পেয়ে নিজ দেশে থাকবে না আর দুখে।
নয়টা মাস লড়াই করে দিলো কতো রক্ত প্রাণ
ভারত দিয়েছিল যে সাথ স্বাধীন করতে দেশ।
তাই ভারতবর্ষের কথা মনেতে রাখবো বেশ
অবশেষে ডিসেম্বর ষোলো এলো স্বাধীনতা ঘ্রাণ।
এখন আমরা আছি দেশে নিজের মতোন করে
বাংলা ভাষায় কথা বলি আপন ইচ্ছায় কাজ।
দেশের মধ্যে চলছে পুরো বাঙালির সব রাজ
বীরশহীদের সবগুলো আত্মত্যাগ গাঁথা স্মরে।
৫| বাবা এমন হয়
ছেলে কিংবা মেয়ে হলে
যত্ন করতে যায় না সরে,
জন্ম থেকে ভালোবেসে
বাবা রাখে নিজের ঘরে।
সারাজীবন দিয়েই যাবে
নিজের জমা খালি করে,
ভাবে নাতো কোনো কিছু
ফেরত পাবে কিনা পরে।
ছাতার মতো রক্ষা করে
পাশে থাকবে সুখে দুখে,
কষ্ট হলেও কোনো সময়
বলে নাতো নিজের মুখে।
যখন যেমন প্রয়োজনেই
কিনবে গিয়ে সাধ্য মতো,
চেষ্টা করবে মেটাতে সব
বায়নাগুলো আছে যতো।