গুচ্ছকবিতায় রতন বসাক

গ্রামের জীবন
আমার দেশের শীতল বায়ু লাগে ভীষণ ভালো
খোলামেলা সবুজ ঘেরায় চারিদিকে আলো ।
আম জাম কাঁঠাল ফলের মজা খেয়ে মনটা ভরে
নদীর জলে জালটা দিয়ে ইলিশ মাছটা ধরে ।
পুকুর ভরা নানান মাছের স্বাদটা নিতে পারি
সত্যি বলছি শান্তি পাই যে থেকে মাটির বাড়ি ।
চলার পথে বিশ্রাম নিতে গাছের ছায়ায় বসে
ভালো লাগে ঠান্ডা তাজা গিলে খেজুর রসে ।
কত রকম শাকের মেলা জমি ভ’রে আছে
গ্রামের সবাই ভালো মানুষ কেউ বলে না পাছে ।
ছাগল মুরগী পালন করে গাঁয়ের অনেক ঘরে
প্রয়োজনে ডাকলে পরে দৌড়ে এসে ধরে ।
সকালবেলা ঘুমটা ভাঙে শুনে পাখির গানে
দেখতে পাবে চাষীর খুশি গোলা ভরা ধানে ।
গাঁয়ের বঁধূ কলসি কাঁখে ঘোমটা দিয়ে হাঁটে
নারী পুরুষ সবাই মিলে ঘরের জন্য খাটে ।
ছেলে মেয়ে মিলেমিশে বিদ্যালয়ে যাবে
টিফিন হলে সবাই মিলে বাইরে বসে খাবে ।
সন্ধ্যাবেলায় গাঁয়ের মানুষ বসে মাঠে গিয়ে
আলোচনা করবে সবাই ভালো মন্দ নিয়ে ।
দিশেহারা
চোখের কোণে জলের রাশি
মুখে মিছে’ই হাসি,
সেই হাসিতে ফেঁসে গিয়েই
প্রেম সাগরে ভাসি ।
বুঝতে আমি ভুল করেছি
তার কারণে মরি,
পাই না ভেবে একটু আশা
কি যে এখন করি !
আপন ভেবে সামনে গেলে
চায় না ভালো যারা,
বলতে গেলে আসল কথা
ভুলটা বোঝে তাঁরা ।
কেমন করে বোঝাই সবে
কি যে হচ্ছে মনে,
পথ হারিয়ে এখন আমি
ঘুরছি কোনো বনে ।
নিজের মনে বন্ধ রেখে
হাসি মুখেই চলি,
ভাবতে থাকি মনের কথা
কারে ডেকেই বলি ?
চেষ্টা করতে হবে
আঁধার যতো হোক না গভীর
আসবে তবু ভোর ।
জীবন পথে সার্থক হোতে
লাগে মনের জোর ।
চলতে চলতে পথের মাঝে
থাকে অনেক ভয়,
সবগুলোকে সাহস ক’রে
করতে হবে জয় ।
হতাশ হয়ে রইলে ব’সে
সবই লাগবে দূর,
পাবার ইচ্ছে মনে নিয়ে
গাইবে নতুন সুর ।
চেষ্টা করলে পাওয়া যাবে
বেশি নয়তো কম,
মনের ভিতর সব সময়ে
রাখতে হবে দম ।
খেলার আগে হেরে যাওয়া
সেটা সঠিক নয়,
যুদ্ধ ক’রে দেখোই একবার
আসতে পারে জয় ।