সম্পাদিকা উবাচ

সত্য আর মিথ্যের ফাঁকটাতে চলে ভাঙা গড়ার খেলা
সত্যের চেহারাটা একেবারে সূর্যের মত৷ তেজি, উজ্জ্বল, চারিদিক আলোয় ভাসিয়ে নিয়ে যায়৷ বড্ড স্পষ্ট সবকিছু৷ বড্ড স্বচ্ছ৷ কখনও কখনও অযাচিত মেঘ সেই আলো ঢেকে ফেলে ঠিকই, কিন্তু তার স্থায়িত্ব বড় স্বল্প সময়ের জন্য৷ তারপরই আবার সে আড়াল ভেঙ্গে গুড়িয়ে আপন উজ্জ্বলতা নিয়ে স্বমহিমায় প্রকাশিত হয় সত্য৷
মিথ্যেরা যেন মেঘের মত৷ যেন সবটাই নকল৷ যেন যা নয় তাই সাজা৷ যেন প্রতি মুহূর্তের প্রতীক্ষা এই বুঝি ভেতরের সমস্ত লুকানো সজ্জা খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসবে৷ ঝরে পড়বে অঝোর ধারায়৷ যেন মিথ্যের দায়ে স্ফীত হতে হতে সে ভার আর বহন করতে পারে না৷ আর ভেসে থাকতে পারে না মেঘ হয়ে৷ সমস্ত ওজোর আপত্তি গোপনীয়তা ভেঙ্গে বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়ে৷ তখন জলের মত অমলিন, স্বচ্ছ, একেবারে ঝকঝকে৷ এতটুকুও আবর্জনা নেই৷ ঠিক যেমনটা হওয়ার কথা ছিল তেমনটা৷
অথচ পৃথিবীর কোনো প্রান্তে যা অসত্য, নিন্দনীয়, অন্য প্রান্তে আবার সত্য, প্রশংশনীয়৷ কালান্তরে দেশান্তরে, প্রসঙ্গান্তরে বা ব্যক্তি সাপেক্ষে পাল্টায়, পাল্টেছে সত্যতার কাঠামো, নির্যাস অনবরত পাল্টে যাবে৷ বিজ্ঞাপনের সত্যরা? কত বেগবতী কল্লোলিনী ! কিন্তু কতটা যে সত্যি, তা আমি আমরা তুমি তোমরা সবাই জানে৷ তবু মিথ্যেবাদীতার দায় কোতোয়ালে নালিশ হয় না!
তবে এটুকু অকাট্য সত্য, মিথ্যাচারীতার দায়ে, ধ্বংস আগুনের মত ছড়িয়ে পড়ে। ঘর ভাঙ্গে, সম্পর্ক পোড়ে, ছাই শুধু ছাই আর ছাই পড়ে থাকে অবশিষ্ট৷ সেই মিথ্যেরা বরাবর সর্বকালের গর্ভে মিথ্যে হয়েই বেঁচে থাকবে৷ কোনদিনও রামধনু রঙ দেখবে না, পাহাড়ী ঝরনা দেখবে না৷ সত্যের তেজ বড্ড বেশি৷ সমস্ত মলিনতাকে উজ্জ্বল করে৷ যেন কস্তূরীর ঘ্রাণ, মখমলে রাস্তা, মুক্ত ঝরনা৷ প্রশ্নটা এখানেই আমার নিজের কাছেও৷ তবে কেন এমন মিথ্যের ঠুনকো ঝনঝন, এত আমাদের কব্জা করে ফেলে?
মিথ্যে, মুখোশ, আগুন, ধ্বংস, অপরাধ পৃথিবীর সাথে ছায়ার মত লেগে থাকবে৷ তবে সত্যেরা বড় সুন্দর, উজ্জ্বল৷ তার আলোই সামনের প্রশস্ত পথে শত শত হিরে মানিকের মত ছিটিয়ে আছে৷ হেসে ওঠা তখন আরশি নগরে ঘর বাঁধে৷
( আজ ” ফিনিক্স জন্ম নেবে” থেকে রইল সম্পাদকীয় )
সুস্থ থাকুন ভালো থাকুন লিখতে থাকুন পড়তে থাকুন ৷
রাজশ্রী বন্দ্যোপাধ্যায়