“আজ আমাদের ন্যাড়াপোড়া
কাল আমাদের দোল
পূর্ণিমাতে চাঁদ উঠেছে
বলো হরিবোল!”
অসম স্কেলে একটানা গানটা গাইতে গাইতে ওরা আটজন এসে দাঁড়ালো মাঠের এককোণে; স্তূপাকার আবর্জনা আর ঝোপ আগাছার বিস্তীর্ণ রাজত্বে। আটজনের মধ্যে গদাই’ই একটু বেশী তৎপরতা দেখাচ্ছে, একটু বেশীই স্ফূর্তি যেন ওর মধ্যে কাজ করছে। দলের বাদবাকি ছেলেদের চোখে মুখেও উৎসবের উছ্বাসটা আছে। পূর্ণিমার স্নেহে সেই খুশিটা পড়ে নিতে অসুবিধা হচ্ছে না।
কিন্তু গদাইকে যেন আজকে একটু বেশীই সপ্রতিভ দেখাচ্ছে।গাছের ডালপালাগুলো জোগাড় করা থেকে সেগুলোকে পাকা রাস্তার উপর দিয়ে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে আসা–সবকিছুর মধ্যে যেন একটা অসীম উৎসাহের প্লাবন টের পাওয়া গেল।
একনাগাড়ে পুড়ছে ডালপালাগুলো। পটপট করে আওয়াজ হচ্ছে। দলের কয়েকজন কয়েকটা আলু আগুনের দিকে ছুঁড়ে দিল। আর সমস্বরে গানটা গেয়ে ফের একবার উৎসবের আমেজটাকে আশেপাশের লোকালয় অব্দি ছড়িয়ে দিল।
কিন্তু গদাই কোথায়? সুরে সুর মেলানোর বদলে ও সবার থেকে আলাদা হয়ে কেন? আর চোখের দৃষ্টিটাও হঠাৎ ওরকম বদলে গেল যে! একেবারে লোলুপ! স্তিমিত হয়ে আসা আগুনের শিখার দিকে গদাইয়ের নজর। দেখলে কেউ বুঝে উঠতে পারবে না যে এ বারো বছরের ছেলে!
ছাইভস্ম হাতড়ে যেই পোড়া আলুগুলোর দেখা মিললো, গদাই সঙ্গে সঙ্গে একলাফে পড়লো সেখানে। বেজায় ক্ষুধার্ত দেখাচ্ছে ওকে। সব কটা আলু ও একাই উদরস্থ করতে চায়-ভাবটা অনেকটা এইরকম। ধস্তাধস্তি করে শেষমেশ হল’ও তাই।
কেননা, দুদিন ধরে গদাই কিছু খায়নি; কিচ্ছু না। বাড়িতে ওর বরাদ্দ বলতে ছিল শুধু জল আর তেলচিটে তাকের উপর রাখা দুটো কাঁচা পেয়ারা।