গল্পবাজে প্রসূণ সরকার

দায়িত্ববোধ
“যতই হোক, ওরা জাতে ড্রাইভার, দায়িত্ববোধ যে থাকবে না, এটাই স্বাভাবিক।” প্রচন্ড রাগ আর দুশ্চিন্তায় হাতের ব্যাংকের কাগজটা খাটের উপর ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে বললেন স্বাগতার দাদু। এবার ক্লাস টু-য়ে উঠেছে স্বাগতা, ওর মা আর বাবা দুজনেই কর্মরত, ফলে নাতনিকে স্কুল থেকে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে আসার দায়িত্ব ওর দাদুর উপরেই। লাল্টুর অটো নিয়ে ওদের বাড়িতে আসার সময় দুপুর বারোটা, আর এখন ঘড়িতে বারোটা কুড়ি। তাড়াহুড়ো করে স্ট্যান্ড থেকে একটা অটো ধরে ছুটতে হলো স্কুলের দিকে।
স্কুলের গেট দিয়ে ঢুকতেই দেখলেন নাতনিকে নিয়ে যেন তাঁরই অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছেন স্কুলের হেড-ম্যাডাম। কাছে আসতেই ম্যাডাম সুজনবাবুকে জানালেন নাতনির ড্রাইভার, মানে লাল্টু, একটু আগে এসে জানিয়ে গেছেন বাচ্চাটিকে নিতে ওর দাদু আসবেন, তবে একটু দেরী হতে পারে, উনি যেন আর অন্যকারোও হাতে বাচ্চাকে না দেন। কারণ জিজ্ঞেস করার সময় পাননি হেড-ম্যাডাম, খুব তাড়াহুড়োয় ছিল লাল্টু।
কিছুই বুঝতে না পেরে নাতনিকে নিয়ে সুজনবাবু যখন বাড়ির দিকে ফিরছেন, রাস্তাতেই এই অটোর ড্রাইভারের এক স্ট্যান্ডতুতো বন্ধুর থেকে খবর পেলেন, ঠিক পৌনেবারোটা নাগাদ একটি মাটির লরির সাথে মুখোমুখি এক্সিডেন্টে রাস্তাতেই প্রাণ হারিয়েছে লাল্টু। একটু তাড়াহুড়োয় ছিল, হয়ত সুজনবাবুকেই স্কুলে নিয়েযেতে আসছিল সে। হাসপাতালে নিয়ে যাবার সময় পাওয়া যায়নি।
Attachments area