সাপ্তাহিক ধারাবাহিক উপন্যাসে প্রদীপ গুপ্ত (পর্ব – ৯)

স্ট্যাটাস হইতে সাবধান
নিজের স্বামীকে অন্যকোন মহিলাকে ফোন করছেন ভেবে ফুলটুসি বৌদি যতোটা উত্তেজিত হয়ে স্বামীর হাত থেকে ফোনটা কেড়ে নেওয়ার জন্য ছুটে এসেছিলেন, সেখানে ফোন ডিসপ্লেতে নিজের নাম দেখে ঠিক ততোটাই আহ্লাদিত হয়ে উঠলেন। আনন্দে কবিতা বেরিয়ে এলো ফুলটুসির মুখ থেকে —
আহা আমার গুলুটা
ঠিক যেন পাড়ার ভুলুটা
এটুকু বলেই স্বামীর মুখের দিকে তাকিয়ে নিজের ভুল বুঝতে পারলেন কবিত্রী ফুলটুসি তলাপাত্র। কিন্তু কবিতা যখন একবার এসেছে, মানে পেয়েছে, তখন তো আর সে কবিতাকে আটকে রাখা যাবেনা, ঝর্ণার মতো কবিতা এখন কলকল করে বয়ে যাবেই। কাজেই কবিত্রী ফুলটুসি স্বামীর থুতনিতে আঙুল ছুঁইয়ে বলে উঠলেন
— আহা, আমার ভোম্বলটা
গায়ে পেঁচিয়ে ভেড়ার কম্বলটা
দম্বল — দম্বল,
আরে ধুস দম্বলটা, কি যেন, ইয়ে আর কি মানেটা
বলতে বলতেই ছুট লাগালেন ফুলটুসি বৌদি।
— আমার দ্বারা এখন চা করা চলবে না, নিজেই একটু করে নাও ভোম্বলদা, বুঝেছো… আমার ইয়ে পেয়েছে। গলগল করে বেরোচ্ছে, অকাতরে বেরোচ্ছে বুঝলে…
বেচারা স্বামী কিছু বুঝে ওঠার আগেই ফুলটুসি বসার ঘর থেকে শোয়ার ঘরের দিকে দৌড় লাগালেন। পেয়েছে — গলগল করে বেরোচ্ছে, অকাতরে বেরোচ্ছে এসব শুনে মিষ্টার তলাপাত্রের মনে হলো বুঝি তার স্ত্রীর ইয়ে পেয়েছে। তিনি রান্নাঘর থেকে খুঁজেপেতে এক বান্ডিল টিস্যু পেপার নিয়ে — তুমি গিয়ে বোসো, আমি যাচ্ছি… বলে বাথরুমের দিকে পা বাড়ালেন।
ফুলটুসি তখন ফেসবুকের পাতায় ঘ্যাসঘ্যাস করে লিখে চলেছেন —
–” আরে আমার ইয়েটা
যাকে করেছি বিয়েটা
একের নম্বর ভোম্বল
চাপা দিয়ে গায়ে কম্বল
ছুট মেরেছে সে সেই চম্বল।
চেয়েছিলো এককাপ চা
আমি বললাম না,
চেপে একগাল হাসি
বললাম নারীরা নয়কো দাসী
দেয়নিকো নাকে খৎ
বুজেছো কি ব্যাটা বদ
খেতে হলে করো নিজে
দেখবে তোমার ইয়ে যাবে ভিজে।
এই পর্যন্ত লিখেই নিজের একটা সেলফি ছবি জুড়ে ঘপাৎ করে টাইমলাইনে পোষ্ট করে দিলেন। আর পোষ্ট করা মাত্র, আগুন দেখলে যেরকমভাবে পোকারা ঝাঁপিয়ে পড়ে, সেভাবে লাইক আর কমেন্টেরা এসে যেন ঝাঁপিয়ে পড়লো।
— ” ওহ বিউটিফুল লুক “, ” লুকিং সেক্সি ডিয়ার ফুলু “, ” কী দারুণ দেখাচ্ছে মাইরি “, ” জাস্ট ওয়ান্ট টু হ্যাভ আ ডে ডিয়ার ” ” বৌদি, যেমন সুন্দর ছবি, তেমনি সুন্দর লেখা ”
— কি হলো সোনা, তোমার নাকি ইয়ে পেয়েছে? আমি তো বাথরুমে, যাকগে যাক, এই নাও প্রয়োজনে এই টিস্যুগুলো ব্যবহার করো । চা টা তাহলে আমিই বানিয়ে নিচ্ছি, তুমি বরং রেস্ট নাও। আচ্ছা, এককাপ চা বানাতে কত কাপ জল দিতে হয়, আর দুধ কতো কাপ দেবো বলোনা গো।
ক্রমশ