সাপ্তাহিক ধারাবাহিক কথা সাগরে প্রদীপ গুপ্ত

বাউল রাজা

দ্বিতীয় খন্ড ( সপ্তম পর্ব )

দিনের আলোর মধ্যে কোনো মিথ্যার জারিজুরি নেই, অন্ধকারের বুকে সত্যর। আর আলো আঁধারিয়ার চৌখুপিতেই যত রাজ্যের সত্য-মিথ্যার বসবাস। যত কল্পনা, যত ধারণা, যত কুহক সবই এই আলোর ঘোমটায় ঢাকা পড়ে থাকা আঁধারের অথবা আঁধারের অবগুন্ঠনে উঁকি মারা আলোর রহস্যময়তায়।
নববধূর নয়নঠারের মতোই সে রহস্য অলঙ্ঘনীয়। ওষ্ঠের থরথরানির মতোই আকর্ষণীয় সে রহস্য।
এখন যে রাস্তাটা দিয়ে আমরা হাঁটছি, সে রাস্তার আকাশটা ঢেকে আছে শুধু বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালার শাখায়। কোনো কোনো গাছ নিষ্পত্র, কোনোটা আবার পাতায় পাতায় ঝাপসা হয়ে আছে। কৃষ্ণভামা বুঝি এই একবছর ধরে আজকের রাতটার জন্যই অপেক্ষায় ছিলো। গতবারের কৃষ্ণভামার সাথে এবারের বাউলনির বেশ কিছুটা পার্থক্য দেখছি। এবারে ও যেন একটু বেশী প্রগলভ, একটু বেশী উচ্ছ্বলিত, যেন একটু বেশী বাঁধনহারা।
–” ঠাকুর –”
–” উঁ –”
— ” আমাকে তুমি বুল বাবচো না তো? ”
–” মানে? ”
–” না, মানে আর কি? তুমি হয়তো আমাকে –”
এখন চাঁদ ঠিক মাথার ওপর। গাছপালার ডালপালার জানালা দিয়ে চাঁদটা বুঝি প্রাণপণ চেষ্টা করে চলেছে তার বক্ষ নিঃসৃত দুধগোলা আলো দিয়ে পৃথিবীকে স্নান করাতে, সে আশাকে নিষ্ঠুরভাবে আটকে দিচ্ছে ডাল-পাতাগুলো। ফের সেই আলোকে ফেরত পাঠিয়ে দিচ্ছে অন্য কোথাও। আর পৃথিবীকে মুড়ে দিচ্ছে এক অপার রহস্যময়তায়।
–” না, আমি যে তোমাকে আমার নাগর বলনু, এতে তুমি হয়তো –”
বাউলনির মুখে কি এক লহমার জন্য একটা কপট হাসি দেখলাম! নাকি সত্যি একটা দুশ্চিন্তার কালো ছায়া, বুঝতে পারছি না। এর জন্য এই আলো আঁধারিই দায়ী।
–” নাগর মানে কী গো বাউলদিদি? ”
একটা চাপা হাসির রোল উঠলো যেন। মনে হলো এই হাসির সাথে বয়ে যাওয়া নদীর একটা আশ্চর্যরকমের মিল আছে। ছোটো ছোটো নুড়িতে ধাক্কা খেয়ে জলের বুকে যে শব্দের রোল ওঠে, এ হাসি অনেকটাই যেন সেরকমের।
— ” নাগর মানে জানো না বুজি? তুমি এক্কেবারেই চেলেমানুষ গো পদীপদাদা। ”
আবার সেই চাপা হাসির দমক। এবার বুঝি আমারও কিছু বলা দরকার।
–” আচ্ছা বাউলদিদি, তুমি তো এতোকিছু জানো, বলো দেখি –”
কিছু একটা বলতে যাবো, বাউলনি ওর হাতের তালু দিয়ে আমার মুখ চেপে ধরলো।
–” ছি ছি, তোমার কতো জ্ঞানগম্যি, সে আমি বিলক্কণ জানি গো ঠাকুর। আমি যে একজন অশিক্কিত গেঁয়ো মেইয়েমানুষ। এবাবে বলাটা আমার উচিত অয় নি কো। কিচু মনে কোরো না ঠাকুর, আমারে ক্কমা –”
–” এ আবার কীরকম কথা বাউলদিদি! আমি যা জানি সে তো বইয়ের জ্ঞান, আর তুমি যা জানো, সে যে জীবন থেকে ছেঁচে তোলা মুক্তোর মতো খাঁটি। আমি অতদূর থেকে কীজন্য ছুটে আসি, তুমি কি বুঝতে পারো না? তোমার কাছে, কানাইদার কাছে, গুরুপদবাবার কাছে, এখানকার সমস্ত মানুষ, নদী, গাছপালা, আকাশ, পাখি সবার থেকেই যে আমি প্রকৃত জীবনের পাঠ নিই গো। ”
— কি সুন্দর কইরে কতা বলো গো তুমি পদীপদাদা, মনে অয় তোমার কতার মদ্দে আমি পজাপতির ডানায় বেসে আসা সুর শুনতে পাই।”
এ কথার উত্তর দেওয়ার কোনো মানে হয় না। এখানটায় গাছপালার আবডালটা কম। আকাশের তারাগুলো যেন অনেকটা নীচে নেমে এসেছে। সেই কখন বাউলনি তার হাতের তালু আমার ঠোঁটের ওপর থেকে সরিয়ে নিয়েছে, এতোক্ষণে সে তালুর গন্ধ আমার ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য হলো। সেই ছিঁড়ে ফেলা কাঁচা আমের বোঁটায় লেগে থাকা কষের মতো একটা বুনো অথচ মিষ্টি গন্ধ।
—” নাগর মানে পেমিক গো। যে পেমিকের সাতে শুদুই মনের কতা বলা, শরীলের সাতে লয়। এটা ভাবের পিরিতি গো, কতো নারী যে কিষ্ণকে মনের আসনে বইসে তার সাতে পিরিতে মজে, তার কোনো গোনাগুনতি নেই গো। পিরিতে যার কাচে মন মজে, সেই অলোগে পিরিতের নাগর। “
কথা কটা বলেই কৃষ্ণভামা ওর দুবাহু আমার কাঁধের ওপর রাখলো।
–” তুমি যে আমার মন চুরি করে নেচো গো ঠাকুর, আমার পিরিতির কানাই, আমার দুচোকের তারায় বাস করা কেষ্টঠাকুর গো।”
এখানে আলোছায়ার সেরকম কোনো অবগুণ্ঠন নেই , বাউলনির দু’চোখের মধ্যে আমি এ কি দেখছি? মানুষের মধ্যে এরকম ভাবের প্রকাশ আমি কোনোদিনও দেখিনি তো বটেই, আর কোনোদিনও দেখবো কিনা সেও জানা নেই। সেদিন আমি এক ঝলকে মনশ্চক্ষে বাউলনির বস্ত্রহীন শরীরকে নিমেষে পদ্মফুলে মিলিয়ে যেতে দেখেছিলাম, আজ এখন এই শুক্লা অষ্টমীর চাঁদের আলোয় ওর দু’চোখে যেন চূড়ো করা চুলে শিখিপাখায় নীলাম্বর বংশীবাদক কৃষ্ণকে দেখতে পাচ্ছি। শুধু মুখের আদলটা যেন আমার মতো। অবিকল আমারই মতো। কয়েক লহমা। কৃষ্ণভামার শরীরটা যেন একটা লতানে গাছের মতো মাটিতে লুটিয়ে পড়লো। আমি হতবাক হয়ে তাকিয়ে রইলাম সে পুষ্পভারমথিত শরীরলতার দিকে।
এ কি হলো হঠাৎ ! হাতদুটো সামনের মাটিতে ভর দেওয়া, আঁচল মাটিতে লুটোচ্ছে, মুখটা মাটির দিকে রেখে বসে আছে বাউলনি। আদৌ বসে আছে কি? যেভাবে আছে, তাকে বুঝি বসে থাকা বলে না। হলো কি কৃষ্ণভামার? এ অভিজ্ঞতা আমার কোনও দিনও হয় নি। শুনেছি মানুষের ব্লাক আউট হয়, তাহলে কি বাউলনির সেটাই হলো? উঁহু, তাহলে তো এভাবে হাতের ওপর ভর করে —! মৃগীও নয়। তাহলে কী?
ধীরে ধীরে আকাশের দিকে মুখ তুললো বাউলনি। স্থির শূন্য দৃষ্টিতে অবিরল ধারায় জল বয়ে চলেছে। মুখে কোনো কষ্ট বা বিরক্তির চিহ্নমাত্র নেই, আবার হাসির রেখাও নেই। শুধুই এক আবিল দৃষ্টি। জলপ্রপাত আছে, কিন্তু নিঃশব্দ। কোনোরকম শব্দের রোল নেই। এ অবস্থাকেই কি সমাধিস্থ হওয়া বলে? দু’চোখের ওই ধারা কি প্রেমাশ্রু? কিন্তু এখন আমার কর্তব্য কী? ওকে ধরে তোলা? তাহলে যদি ওর এ অবস্থার অন্যায় অযাচিত পরিসমাপ্তি ঘটে?
খুব হালকা উত্তুরে হাওয়ায় গাছের পাতারা তাদের অস্তিত্বকে জানান দিচ্ছে। দূর থেকে ডুগি আর একতারার সাথে অতি ক্ষীণ একটা বাউলিয়া সুর ভেসে আসছে। এর ভেতরেই একটা আওয়াজ ভেসে এলো –” ঠাকুর –“। অতি গভীর পাতকুয়োয় একখন্ড পাথর ফেললে ঠিক যেভাবে পাথরের জলে পড়ার শব্দটা পাক খেতে খেতে কানে এসে পৌঁছোয়, বাউলনির গলার স্বরটাও ঠিক যেন সেভাবেই এসে পৌঁছুলো। আমি ওর দু’হাত ধরে আলগোছে ওকে তুলে দাঁড় করালাম।
–” তুমি কি আমার চোকে কিচু দেকলে গো ঠাকুর ! ”
এ কথার কি উত্তর দেবো, ঠিক বুঝে উঠতে পারলাম না। বাউলনি অধোবদন হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ওর মুখ জুড়ে চাঁদের ষোলকলা খেলা করছে। কখনও অন্ধকার তো পরমুহূর্তেই আলো ঝলমলে।
–” এবাবে যে দরা পইড়ে যাবো, কে জানতো বলো দিনি? ”
–” কী ধরা পড়লে গো বাউলদিদি? কবে কী লুকোনো ছিলো, যে আজ ধরা পড়ে গেলে বলে ভাবছো? ”
–” ঠাকুর, গোপাল ননী চুরি করে এ কতা মা যশোদার জানা আর চুরি কত্তে গে আতেনাতে দরা পড়ে নজ্জায় মুক পোড়ানো কি এক ওলো বলো দেকি? ”
–” বাউলদিদি, চকোর যে জোৎস্না পান করে, সেটা কি আর চাঁদের অজানা থাকে? নাকি জোৎস্না পান করতে গিয়ে চকোর চাঁদের কাছে মুখ লুকোয়? তুমিই না বলেছিলে, যে প্রেমে শারীরিক মিলনের আকুতি নেই সে প্রেমে শরমের কোনো আড়ালের দরকার পড়ে না? ”
–” ঠাকুর –”
–” উঁ –”
–” এ কোন্ বাঙনের সব্বোনাশা কেলায় মেতেচি আমরা? ”
–” কোনও ভাঙন নয় গো বাউলদিদি, এ এক অদ্ভুত সুন্দর গড়ার খেলা। মেঘ যখন বৃষ্টি হয়ে মাটিতে নেমে আসে, তখন মাটিও পরাণভরে সে সুধা পান করে উর্বরা হয়। সে প্রেমে অন্যায় নেই, সে প্রেম ভাঙনের নয় গো, সে প্রেম সৃষ্টির। অনেক হয়েছে, এবারে চলো দেখি, ওদিকে কানাইদা খিচুড়ি খাবে বলে বসে রয়েছে।
–” শোলা ডুবে পাথর ভাসে
হরি নামের নিশানা
একটা নাগের সাথে নেউলের পীরিত
সুহৃদ হলে যায় জানা।
অষ্টমীতে একাদশী বিধবা রইলো বসি
পূর্ণশশী উদয় আসি
নিত্য করে ছলনা।
খাইলে পাতকী হয়,
না খাইলে পাপের উদয়
বলো বলো ও মহাজন আমারে তাই বলো না।
পতি তার থাকে বিদেশে
নিত্য রমণ করে বসে
সেই নারী নিত্য প্রসবে
সতীর হলো ঘোষণা। “
এ কি রূপ কানাইদার! পুরোদস্তুর বাউলের সাজে সেজেছেন। বহুবর্ণ আলখাল্লা, দু’ফেরতা করে গেরুয়া রঙের ধুতি, মাথার পাগড়িটাও এতো সুন্দর করে বেঁধেছেন! ডানদিকের কানের ওপরে ফুলের মতো করে গিঁট দিয়ে একটা প্রান্তকে ঝুলিয়ে দিয়েছেন প্রায় কোমর পর্যন্ত। বাঁয়ের কাঁখে ডুগি বেঁধেছেন, পায়ে ঘুঙুর, নেচে নেচে দুলে দুলে কি আনন্দেই না গাইছেন গানটা! আমরা উঠোনে পা রাখতেই জোর গলায় ছুটকিকে বলে উঠলেন — ” হ্যাঁরে ছুটকি — উনুনে আঁচ দইরে দে রে। আজকের ইসপেশাল কিচুড়ি একদম জইমে যাবে রে। লতুন আলোচাল আর সোনামুগির ডালের সাতে পীরিতি মেশানো ঘি দে — আহা — তর সইচে না রে -“
নতুন আতপের গন্ধে ভুরভুর করছে বাতাস। গন্ধের চোটেই ক্ষিদেটা যেন আরও পেয়ে বসেছে। সোনামুগ আর নতুন গোবিন্দভোগের মিশেলে রসনা তৃপ্তির যে ব্যবস্থা আজ বাউলনি করেছে, সে অমৃত যে আজ কতক্ষণে পাতে পড়বে সে কথা ভেবে কানাইদা অস্থির হয়ে উঠেছে।
— ” বুজলে গো পদীপদা, এর ওপর যদি এট্টু ঘিয়ের স্নেহ মাকানো চোঁওয়া পড়ে, তালে আর দেকতে অপে না। বলি ও কিষ্ণা, তোর আঁচলের খুঁটে কি এট্টুখানিও ঘি বাঁদা নেই রে? ”
কৃষ্ণভামা রান্নাঘরের পাতা উনুনে ডালপালার জ্বালে রান্না করতে ব্যস্ত। পায়ের কাছে রাখা একটা বাঁশের পাইপ দিয়ে মাঝেমধ্যে নিভে আসা আগুনের ভেতর ফুঁ দিয়ে আগুন কে উস্কে দিচ্ছে।
-” এই যে ধরো না কেন, এই যে সুবাস তোমার নাকের বেতর দে অন্তরে পবেশ করচে, অতবা যদি অন্যরকম বাবেও বলা যায়, যে তুমি এই সুন্দর গন্দকে নিজের হিদয়ে জায়গা করে দিচ্চো, এটাও কি পেম লয় গো? যদি তাই হয়, তালে পরে এ পেমের জাত কী ? স্বকীয়া না পরকীয়া? ”
হঠাৎ করে আমার যে কী হলো, আমি বলে উঠলাম — ” এ যদি প্রেম হয়, যদিই বা কেন, এ তো অবশ্যই প্রেম। তবে আমার কী মনে হয় জানো? এ প্রেমের জাত হয় না। এ প্রেম একদম খাঁটি বাউলিয়াদের প্রেমের মতোই। “
— ” তারে ধরি ধরি মনে করি – ধরতে গেলে আর মেলে না — দেখেছি রূপসাগরে, মনেরমানুষ কাঁচা সোনা — পদীপদাদা যা কিচু মনের চাহিদা মেটায় গো, সেটাই পেম। দেকো একেনে যদি এ চাল এ ডাল না অয়ে মোটা চাল পোকায় কাটা ডালও ওতো, তালেও তুমি কেতে, উদর পুন্ন করতে। করতে কিনা বলো? কিন্তু মনের উদর খালিই পড়ে থাকতো। এই যে ফাঁক, একেনেই পেমের বাস। “
সত্যিই তো, আমি তো এভাবে কোনওদিন ভেবে দেখিনি। আর দেখবোই বা কীভাবে, শিশুকাল থেকেই যে দুধে-ভাতে মানুষ হয়েছি। কোনওদিনও কোনো চাহিদা তৈরি হওয়ার মতো বাবা মা কোনো ফাঁক রাখেন নি। কিন্তু ইনি যেটা বললেন, সেটা যে কি মারাত্মক শক্তিশালী দর্শন —! আচ্ছা, এটা কি মার্ক্সীয় দর্শনের অনুসারী? হয়তো তিনি কথাগুলোকে ঠিক এভাবে বলে যাননি, কিন্তু কথাগুলো তো একেবারেই ভাববাদী বলে মনে হচ্ছে না। বরং চরম বস্তুবাদী কথা।
এসব ভাবনার মাঝেই দুটো কলাইকরা থালায় ধোঁয়ার ডানা মেলে তিনি এলেন। সাথে ডিমভাজা আর কাঁচা লংকা। শাড়ির আঁচলের খুঁটে হাত মুছতে মুছতে কৃষ্ণভামা হাতে একটা ছোট গব্যঘৃতের শিশি নিয়ে এসে দাঁড়ালো।
কানাইদা শুরু না করলে আমি শুরু করতে পারি না। কানাইদা গরম খিচুড়ির বুকে ডান হাতের তালু ছুঁইয়ে বসে আছেন। ধীরে ধীরে অন্ধ বাউলের মুখমণ্ডলে একটা অন্যধরনের আভা দেখা দিলো। আমি কানাইদার সাথে এই প্রথমবারের মতো খেতে বসিনি। কোনোদিনই ওকে এভাবে বসে থাকতে দেখিনি। কৃষ্ণভামার দিকে চাইলাম। সে ঘাড় নেড়ে আমাকে খাওয়া শুরু করতে বললো। কিন্তু —
খাওয়া শেষ করে, হাতমুখ ধুয়ে মুখে বাউলদিদির এগিয়ে দেওয়া পান চিবোতে চিবোতে মুখ খুললেন কানাই বাউল।
–” তোমার সবচে’ বড়ো আপন কে বলতি পারো? ”
–” সম্ভবত আমি নিজেই। ”
–” একদম টিক কতা বইলেচো। সেই যে তোমার আপন পরমাত্মীয়, তেনাকে আমরা জানি পরমাত্মা বইলে। টিক কিনা? ”
–” হুমম, –”
–” সেই যে গানটা আচে না, — তুমিই হে পিতা, মাতা তুমি ওগো, তুমিই হে বন্দু সকা তুমি? আসলে এই সবকিচুর আদার হলো গে’ সেই পরমাত্মা। তাঁর বাস ককনো হিদয়ে ককনো মাতায়, ককনো মুকে, নাকে, কানে আবার ককনো উদরে। ভালো কতা শুনলি তুমি সে কতাকে যেমুন মনের তেকে গহণ করো, সুন্দর কিচু দেকলে যেমুন মন আনন্দে মেইতে ওটে, আসলে সেসব কিচু তুমি সেই পরমাত্মীয়কে তার কুশীর জন্য নিবেদন করো। তেমনি বালো কিচু স্বাদ নিতি গেলেও তেনাকে নিবেদন করতি অয় গো পদীপদা। সেটা করলি তবেই তিনি সবটা বালো গহণ কইরে তিপ্ত হন।
আজ যেমুন কিষ্ণভামা তার মনের যা কিচু ভালো সে সবকিচু তোমায় নিবেদন করলো বলেই না তুমি ওর চোকের তারায় –”
সব্বোনাশ, কী বলছেন কি কানাই বাউল! ওর কি কোনোকিছু অগোচরে থাকে না?
–” তোমার মনে বাউলদের কণ্টিবদল নে পশ্ন আচে, তাই না?
( চলবে )
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।