সাপ্তাহিক ধারাবাহিক কথা সাগরে প্রদীপ গুপ্ত (পর্ব – ৩৫)

সুন্দরী মাকড়সা

শব্দটা শুনেই ঋষি বিছানা থেকে চটজলদি নেমেই দৌড়ে সিঁড়ির দিকে গিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নামতে শুরু করলো। কিন্তু নীচে কাউকেই দেখতে পেলো না। নীচের দুটো ঘরই ভেতর থেকে বন্ধ। আর বাইরে যাওয়ার দরজাটা হাঁ করে খোলা। হঠাৎই স্নেহার ডাক শুনতে পেলো ঋষি। স্নেহা ওকে ফিরে আসার জন্য ডাকছে।
— কি হলো? কাউকে দেখতে পেলে?
— নাহ্, আমার থেকেও ভালো দৌড়বীর।
— হুঁ, পি টি উষা।
— মানে? পি টি উষা তো মহিলা।
— হ্যাঁ তো। সে আর নতুন কথা কি?
— তাহলে তোমার কথা অনুযায়ী ইনিও একজন মহিলা?
— আমার কথা অনুযায়ী কেন হতে যাবেন? একজন মহিলাকে তো মহিলাই বলে। না কি?
— ধুস তোমার এই হেয়ালিমার্কা কথা আমার মগজে ঢোকে না।
— যাকগে, নীচের ঘর দুটোতে কাউকে দেখতে পেলে?
— নীচের ঘরে? নীচের ঘরে কাউকে দেখতে পাবো কীকরে? দুটো ঘরের দরজাই যে ভেতর থেকে বন্ধ!
— হুঁম।
স্নেহা চোখ বন্ধ করে কিছু একটা নিয়ে ভাবতে শুরু করলো। ডান হাতের মধ্যমা আর বুড়ো আঙুল দিয়ে কপালটাতে একবার দুদিক থেকে ভ্রুমধ্যস্থানে, ফের সেখান থেকে দুদিকের কানের দিকে সজোরে দাবাতে লাগলো। ঋষি চায়ের কাপটা রেখে স্নেহার দিকে এগিয়ে এসে ওর মাথার চুলগুলোতে মেসেজ করার মতো করে চুলের গোড়াগুলোকে হাল্কাভাবে টানতে শুরু করতেই স্নেহা ওর হাতদুটো সরিয়ে দিয়ে ঋষির দিকে তাকালো —
— এসব ছেড়ে শিগগির বাথরুমে ঢুকে স্নানটা সেরে নাও দেখি জলদি। তুমি এলেই আমি ঢুকবো। দেরী কোরো না ঋষি — যাও প্লিজ।
ঋষি আলমারি থেকে একটা পাজামা বের করে বাথরুমের দিকে গেলো।
স্নেহা ধীরেধীরে জানালার কাছে গিয়ে দাঁড়ালো। গতকাল থেকে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোকে মনেমনে পূনঃনির্মাণ করছে স্নেহা। বাইরে রাস্তায় ইতিমধ্যেই দিন শুরু হয়েছে। রাস্তায় লোকজন, রিক্সা, সাইকেলের ব্যস্ত যাতায়াত। মাঝেমাঝে দুএকটা বাইক বা স্কুটার ছুটে যাচ্ছে। মোটামুটি স্বাভাবিক নিস্তরঙ্গ জীবন যাপনের ছবি। হঠাৎ করেই স্নেহার চোখদুটো একজন মানুষের দিকে আঠার মতো আটকে গেলো।
একজন শার্টপ্যান্ট পড়া ভালো চেহারার একজন মানুষ, এই সকাল থেকেই চোখে সানগ্লাস, একটা গামছাকে মাথায় পাগড়ীর মতো বেঁধে, মুখে মাস্ক পড়ে একদৃষ্টিতে ওদের বাড়ির জানালার দিকে তাকিয়ে আছে।

ক্রমশ

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।